কোভারম্যান্স তো মনস্তত্ত্বটাই
বুঝছে না, জেতাবে কি
নেপালের বিরুদ্ধে ভারতীয় দলের এই অবস্থা দেখে অনেকে শিউরে উঠবেন নিশ্চয়ই। ভারতীয় ফুটবলের বর্তমান দশাটা হজম করতে কষ্টও হবে বইকী। কিন্তু সত্যি বলতে আমি এতটুকু অবাক হইনি। বরং যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে ভালই খেলেছে ভারত!
বাংলাদেশকে যে দল হারাতে পারে না, তারা নেপালের বিরুদ্ধে সবাইকে চমকে দেবে, এমন কোনও বদ্ধমূল ধারণা ছিল না আমার। এটা বলা যায় যে, ম্যাচটা দেখিয়ে গেল বিদেশি ছাড়া ভারতীয় ফুটবল এখন কতটা অসহায়।
মজিদ, এমেকা, চিবুজার, ডেভিড উইলিয়াম কিংবা চিমার মতো বড় বড় বিদেশি ভারতে খেলে গিয়েছে। কিন্তু কোনও দিন কৃশানু দে, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, বিকাশ পাঁজি কিংবা সুদীপ চট্টোপাধ্যায়দের ছাপিয়ে যেতে পারেনি। তবে সে সব কথা ভেবে তৃপ্তির ঢেঁকুর তোলার আর কোনও মানে হয় না। আমরা এখন এমন একটা টিম যারা দশ বারের মধ্যে ছ’বার বাংলাদেশ কিংবা নেপালের কাছেও হারব। কী করা যাবে, ওডাফা বা চিডির অর্ধেক প্রতিভার একটাও ফুটবলার নেই তো টিমে! আজ ম্যাচটা টিভিতে দেখতে দেখতে এতটা অসহ্য লাগছিল যে মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়ার কথাও ভাবছিলাম। ফেডারেশন কর্তারা ভেবে দেখবেন, যারা গাঁটের কড়ি খরচ করে মাঠে যাচ্ছে তাদের অবস্থাটা।
আর আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন, ঠিক কার জন্য এখন এই অবস্থা? একটাই নাম করব উইম কোভারম্যান্স।
বড় ফুটবলার হলেই যে বড় কোচও হবে, তার কোনও মানে নেই। মারাদোনা পারেননি। পেলেও পারেননি। কোভারম্যান্স ফুটবলারদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারছেন না। প্লেয়ারদের কাছে উনি কী চাইছেন, সেটাও ঠিকঠাক করে বোঝাতে পারছেন বলে মনে হয় না। বৃহস্পতিবার আরও একগাদা ভুল চোখে পড়ল। নবিকে উইংয়ে নামানোয় খেলার গতি কিছুটা বাড়ল বটে, কিন্তু বোঝাপড়া বলে কিছু ছিল না। স্কিলের ঝটকায় কেউ ম্যাচ ঘুরিয়ে দেবে, এমন ফুটবলারও ভারতীয় টিমে নেই। আগামী দিনেও এই সমস্যাগুলো ভোগাবে।

কোভারম্যান্সের হতাশা। ছবি: পিটিআই।
আসলে দল নির্বাচনেই তো অজস্র গলদ। কোন ফুটবলারের কতটা দক্ষতা, সেটা বোঝার জন্য বিভিন্ন স্টেডিয়ামে স্টেডিয়ামে ঘুরতে হয়। প্রচুর ম্যাচ দেখতে হয়। আমাদের সময় চার-পাঁচ জন নির্বাচক থাকত। হাবিবদা, বদ্রুদা, চুনীদা’র মতো লোকেরা ঘুরে ঘুরে ২৫-৩০ জন ফুটবলার বাছতেন। তার পরে ট্রায়ালে মিলোভান প্রথম দল ঠিক করতেন। আর এখন? নির্বাচকই নেই। লোক দেখানোর জন্য মাঝেসাঝে স্যুট-টাই ঝুলিয়ে কোনও কোনও স্টেডিয়ামে বাবু সেজে পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকতে দেখা যায় ভারতীয় দলের কোচকে! মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাঁর ‘জহুরি’র চোখ মোহনরাজের মতো ফুটবলারদের চিনে ফেলে। আর সৌমিক, হরমনজিৎ, লালকমলরা ফ্রেমেই আঁটে না। দু’এক দিনের ট্রায়ালে ফুটবলার চেনা যায় না, সেটা বুঝতে হবে কোভারম্যান্সকে।
তবু বলব কোভারম্যান্স যাই ভুল করুক না কেন, নেপাল ম্যাচটা কিন্তু ড্র করতে পারত ভারত। পারল না শুধু সুব্রত পালের অক্ষমতায়। আমার মতে একজন গোলকিপারের মধ্যে ‘আউটিং’ এবং ‘অনুমান ক্ষমতা’ থাকা খুব জরুরি। দেখে মনে হল, সুব্রত দু’টো বিভাগেই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। এ দিন ভারতের প্রথম গোলে সুব্রত একক ভাবে দোষী। ওকে গোটা ম্যাচেই প্রচণ্ড বেপরোয়া লাগছিল। কিন্তু বেপরোয়া হওয়ার সঙ্গে বুদ্ধিমানও হওয়া প্রয়োজন। যেমন সনৎ শেঠ-তরুণ বসুরা ছিল।
নেপালের কাছে হেরে ভারত কোনও রকমে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ঠিকই। কিন্তু এ ভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আরও খারাপ সময় অপেক্ষা করছে ভারতীয় ফুটবলে। এ ভাবেই চললে, ভারতীয় ফুটবলে ভাল বিদেশিও আর আসবে না। যাদের পাশে খেলায় লোকে তবু এখনও ভারতীয় ফুটবলারদের চিনছে। কিন্তু ওডাফার মতো প্লেয়ারদের আসা যদি একবার বন্ধ হয়, ভারতীয় ফুটবলের অবস্থাটা কী দাঁড়াবে কেউ ভেবে দেখেছে কি?

পুরনো খবর:





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.