দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
দিনে-রাতে
দংশিছে হায়
চায়ের দোকানে সবে দাঁড়িয়েছেন সমরবাবু।
কয়েক মিনিটের মধ্যেই দু’হাত লালচে দাগে ভরে গেল। মাথার উপরেও ঘুরপাক খাচ্ছে মশার কুণ্ডলী। অজয়নগর, হাইল্যান্ড পার্ক, সার্ভে পার্ক, বাঘাযতীন স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিন হোক বা রাত বসতে, হাঁটতে, দাঁড়াতে মশার কামড় খেতে হয়। পুর-কর্তৃপক্ষকে বার বার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি।
স্থানীয় কমল কয়ালের কথায়: “এলাকায় নিয়মিত মশা মারার তেল ছড়ানো হয় না। জায়গায় জায়গায় জল জমে থাকে, তা সরানোর জন্য কোনও ব্যবস্থা করা হয় না। দিনের পর দিন মশার জ্বালা সহ্য করে বাস করি আমরা।”
টালিগঞ্জ-পঞ্চান্নগ্রাম খাল গিয়েছে এই এলাকার পাশ দিয়ে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই খালটি মশার আঁতুড়। খালপাড়ের বাসিন্দারা জানালেন, পরিস্থিতি এমন যে দিনেও ঘরের মধ্যে মশারি টাঙিয়ে রাখতে হয়। তাঁদের কথায়: বাজার থেকে কেনা মশা মারার কীটনাশক ব্যবহার করে কোনও লাভ হয় না। এলাকায় মশাবাহিত রোগের প্রকোপও বেশি।
এই এলাকার অধিকাংশ অঞ্চল কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। সিপিএম কাউন্সিলর রুমকি দাসের কথায়: ‘‘পুরো ওয়ার্ডেই নিয়ম করে মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য কীটনাশক ছড়ানো হয়। ব্লিচিং দেওয়া হয় ওয়ার্ডের প্রতিটি জায়গায়। তবে মশার সমস্যার সম্পূর্ণ সুরাহা করা খুব কঠিন কাজ।”
এলাকায় ঘুরে দেখা গেল, বহু জায়গায় এখনও খোলা নর্দমা রয়ে গিয়েছে। জায়গায় জায়গায় জমে রয়েছে জল। অনেক জায়গায় জল নিকাশির কোনও ব্যবস্থা নেই। সেই সব এলাকায় জমা জলে ভাসছে মশার লার্ভা। বাসিন্দারা জানান, এই এলাকায় এমনও অনেক জায়গা রয়েছে যেখানে বর্ষার জমা জল সরে না। বৃষ্টির পরে রোদ উঠলে শুকোয়।
হাইল্যান্ড পার্ক সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখানে প্রচুর জমি ছোট ছোট করে পাঁচিল দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। এই সব ঘেরা জায়গা থেকে জল বেরনোর কোনও পথ নেই। ফলে একটু বৃষ্টি হলেই জমিগুলিতে জল দাঁড়িয়ে যায়। সারা বছর এই ঘেরা জায়গাগুলো আগাছা-জঙ্গলে ভরে থাকে। সেগুলি পরিষ্কার করা হয় না বলে বাসিন্দারা জানান।
১১ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তৃণমূলের তারকেশ্বর চক্রবর্তী বলেন, “মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরো বরোতেই নিয়মিত আমাদের কর্মীরা কাজ করেন। তাঁরাই নিয়ম করে মশার লার্ভা মারার জন্য কীটনাশক ছড়ান। তবে খাল সংলগ্ন এলাকায় মশার একটু সমস্যা রয়েছে। সুরাহার জন্য আমরা চেষ্টা করছি।”

ছবি: সুব্রত রায়




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.