মোহনবাগানরত্ন কেন বারবার মরণোত্তর হবে সেই বিতর্ক থামাতে দুই ঘরের ছেলেকে ২৯ জুলাই মঞ্চে তুলে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল বাগান।
এঁদের একজন সুব্রত ভট্টাচার্যযিনি টানা সতেরো বছর খেলেছেন মোহনবাগানে। কখনও সবুজ-মেরুন জার্সি ছেড়ে যাননি। কোচ এবং ফুটবলার হিসাবে শতবর্ষের ক্লাবকে দিয়েছেন ৬৮ ট্রফি।
অন্য জন প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ন’বছর মোহনবাগানে খেলেছেন। কখনও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলে নাম লেখাননি। অধিনায়কত্ব করেছেন। জিতেছেন বহু ট্রফি। খেলা ছাড়ার পরেও সবুজ-মেরুনে সঙ্গে জড়িয়ে থেকেছেন।
সুব্রতকে মোহনবাগান দিবসে সংবর্ধনা দেওয়া হবে তাঁর নামে ডাকটিকিট প্রকাশের জন্য। ডাক বিভাগ থেকে এই সম্মান গোষ্ঠ পাল পেয়েছিলেন তাঁর মৃত্যুর অনেক বছর পর। সুব্রতই একমাত্র ফুটবলার, জীবিত অবস্থায় যাঁর নামে ডাকটিকিট প্রকাশিত হয়েছে।
আর প্রসূনকে সম্মান জানানো হচ্ছে এ দেশের ফুটবল মহল থেকে প্রথম সাংসদ হওয়ার নজির গড়ার জন্য। মাসখানেক আগে হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জিতে সাংসদ হয়েছেন প্রসূন।
বুধবারই দু’জনের কাছে মোহনবাগান দিবসে পুরস্কার নেওয়ার জন্য মেল পাঠিয়ে দিয়েছেন ক্লাব সচিব অঞ্জন মিত্র। বললেন, “সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে স্পিকার হওয়ার পরেও আমরা সম্মান জানিয়েছিলাম। সুব্রত এবং প্রসূন দু’জনই আমাদের ঘরের ছেলে। একজন সাংসদ হয়েছে। ফুটবলার থেকে প্রথম সাংসদ। অন্য জনের নামে ডাকটিকিট বেরিয়েছে। যে স্বীকৃতি এ দেশের কোনও জীবিত ফুটবলারের ক্ষেত্রে জোটেনি। সে জন্যই সম্মান জানানো হবে।”
গোষ্ঠ পাল, উমাপতি কুমার, টি আও, ধীরেন দে, ১৯১১-র ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড জয়ী দলের সদস্যদের পর এ বার প্রয়াত বলাইদাস চট্টোপাধ্যায়কে মরণোত্তর মোহনবাগানরত্ন দেওয়া হচ্ছে মোহনবাগান দিবসে। প্রশ্ন উঠেছে, শুধুই যদি মৃত ফুটবলার, কোচ বা কর্তাকেই এই পুরস্কারের জন্য বাছা হয়, তা হলে অরুময়নৈগম, সুব্রত ভট্টাচার্য, সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মতো বাগানের ঘরের ছেলেরা কবে পাবেন এই পুরস্কার? কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, টাকা দিতে হবে বলেই মরণোত্তরের দিকে ঝুঁকেছেন কর্তারা। ‘‘শতবর্ষের পুরনো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের সঙ্গে এত সফল মানুষ জড়িয়ে আছেন যে, বাছতে গিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তা সত্ত্বেও বলছি আমাদের এই ব্যাপারটা নতুন করে ভাবতে হবে। এক বছর মরণোত্তর এবং পরের বছর জীবিতদের দেওয়ার নিয়ম চালু করা যায় কি না সেটা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছি। সবার সঙ্গে কথা বলব,’’ বলে দিলেন অঞ্জন মিত্র।
অঞ্জনবাবুদের এই ভাবনারই সুফল মোহনবাগান দিবসে বলাইদাসের পরিবারের পাশাপাশি সুব্রত-প্রসূনকে মঞ্চে তোলা।
খবর জেনে দুই প্রাক্তনই খুশি। সুব্রত বললেন, “আমার প্রিয় ক্লাব আমাকে ডেকে স্বীকৃতি দিচ্ছে এটাই ভাল লাগছে। এই ক্লাবের জন্যই তো সারা জীবনটা দিলাম।” আর নস্টালজিক হয়ে প্রসূনের মন্তব্য, “মোহনবাগান আমার মা। ওখানে না খেললে হয়তো সাংসদই হতে পারতাম না। কে আমাকে চিনত?”
সব মিলিয়ে মরণোত্তর বিতর্ক চাপা দিতে মোহনবাগান কর্তারা আপাতত সফল। সুব্রত-প্রসূনের চেয়ে ভাল কোনও অস্ত্র যে তাদের হাতে ছিল না! |