রবিবাসরীয় প্রবন্ধ ১...
খাঁচায় বাঁচা
জেলখানায় ঢুকলেই শুরু সহ-কয়েদিদের নিংড়ানি। বাড়ির লোককে দিয়ে টাকা আনাও, দিয়ে চলো। নইলে বাথরুমে শোও, পাজামা কাচো, বেডকভারের আড়ালে যাও।

মুরগি
প্রথম বার জেলে ঢুকে ভরসন্ধেয় থম মেরে বসেছিল স্বপন। হঠাৎ কালুয়া’দার উদয়। ‘কী রে, মন খারাপ? তোর মুখ দেখে তো মনে হয় না, তুই কিছু করতে পারিস।’ গলায় যেন মধু ঝরছে। বাবা-বাছা করে তার খাবার সাজিয়ে সে-রাতে চুপিচুপি বউয়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা অবধি করে দিয়েছিল।
পরের দিন জেল দেখাতেও নিয়ে গেল কালুয়াদাই। ঠাসাঠাসি ভিড়ে খিস্তি কিচিরমিচিরের মধ্যেই বাথরুমের দোরগোড়ায় পড়ে মড়ার মতো ঘুমোচ্ছে দু’টো সিড়িঙ্গে চেহারা। গন্ধে অন্নপ্রাশনের ভাত উঠে আসে! কানে বিড়ি গুঁজে আয়েশি ভঙ্গিতে পায়খানা যেতে যেতে একটা মুসকো লোক তাদের পাছায় টেনে লাথি কষাল। অশ্রাব্য খিস্তি মেরে বেটাদের গু সাফ করার হুকুম দিল। সিঁটিয়ে থাকা স্বপনের গায়ে-মাথায় হাত বুলিয়ে কালুয়া বলল, ‘ভয় নেই! তোকে ওখানে থাকতে হবে না! আমার কাছে থাকবি। বাড়ি থেকে হাজার চারেক টাকার ব্যবস্থা করিস।’
স্বপন পরে বুঝেছিল, এ-ও হল ‘নবীন-বরণ’। ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ-হস্টেলের মতো নৃশংস নয়, নতুন মুরগি কেমন ডিম দেবে তা বুঝে নেওয়ার ধৈর্য-পর্ব! জেলের নবীন-বরণের ওয়ার্ডের নাম আমদানি-ফাইল। প্রথম রাতটুকু কাটার পরেই আমদানি-মালদের কেস-টেবিল হওয়ার কথা। মানে, বিচারাধীন বন্দিদের জন্য নির্দিষ্ট আন্ডারট্রায়াল (ইউ টি) ওয়ার্ডগুলোয় কে কোথায় থাকবে ঠিক করা। আমদানি-র দেখভালের দায়িত্বে ছিল কালুয়াদা, তত দিনে সাত বছর জেল খাটা হয়ে গিয়েছে তার।
শাঁসালো মাল ভেতরে ঢোকার খবরটা ‘কালুয়াদারা’ই ছড়িয়ে দেয়। সুপারের সামনে কেস-টেবিলের সময়ে ডিমওলা মুরগিকে বাগাতে হামলে পড়ে বিভিন্ন ইউ টি ওয়ার্ডের ‘দাদা’রা। গা-হাত-পা টিপে মাংস বিক্রির ঢঙেই বন্দির ওজন-হাইট-ঠিকুজি-কুষ্ঠি টুকে কোনও না কোনও ওয়ার্ডে বিক্রি হয়ে যায় সে। তাতে আমদানি-ফাইলের ‘দাদা’ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে মোটা কমিশন। ভাল ঘরের ছেলে, সদ্য বিয়ের পরে একটা চিটিং কেসে জেলে ঢুকেছিল স্বপন। আমদানি আর ইউ টি চার দিনে হাজার পনেরো খসার পরে তার তখন মনে হচ্ছে, বাসরের শয্যাতুলুনির পরে এ হল বউ নিয়ে ফিরে দোর ধরার খরচ।
টোপা
টাকাটা বাড়ির লোকের সঙ্গে ইন্টারভিউয়ের (দেখা হওয়া) পরে সেপাই মারফত হাতে-হাতেও দেওয়া যেতে পারে। তবে হাতে-হাতে নগদ ঢুকলে থার্টি পার্সেন্ট হাতছাড়া হবেই। ‘মেট’-এর বেনামে খোলা অ্যাকাউন্টে বাড়ির লোক সরাসরি ফেলে দিলে বরং স্বস্তি। জেলের ওয়ার্ডে এই মেটরাই শেষ কথা। খুব গোলমেলে জঙ্গিটঙ্গি ছাড়া, সাধারণত যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিদেরই জেলের বিভিন্ন শাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইউ টি ওয়ার্ড, আমদানি, চৌকা (জেলের রান্নাঘর) কিংবা হাসপাতালের কাজ সামলাতে ভরসা মেট বা মেট-রাইটাররা। জেলের ভাষায় এই আসামিদের আর এক নাম টোপা। ইউ টি-র সাজা হওয়া বা টোপা লাগার পরেই তার অন্য স্টেটাস! টোপা লাগার পরে গোড়ায় ভেঙে পড়ে অনেকেই। নেতা গোছের টোপারা তার পর এক দিন শোক সামলে মেট হয়ে ওয়ার্ডে ফিরে আসে।
অনেক বন্দিই টোপাদের বলতে শুনেছে, তোকে কিনতে বহুত টাকা গচ্চা দিয়েছি, ডিম দিবি না মানে! জেলের ‘লাইফার’দেরও ঘর-বাড়ি থাকে! মালকড়ি জোগাড় করতে তাদেরও কম কাঠখড় পোড়াতে হয় না। ফলে, টাকাটা উসুল করে নিতে টোপারাও সাক্ষাৎ যমদূত হয়ে ওঠে। কেউ ২৫ হাজার খসিয়ে ইউ টি ওয়ার্ডের মেট হলে, টার্গেট থাকে কয়েদিদের নিংড়ে এর তিন গুণ তুলে আনতে হবেই।
সব থেকে লাভ, ইউ টি ওয়ার্ডে। ভাল কয়েদি কিনতে পারলে দরকারমাফিক পালিশ (উত্তমমধ্যম) দিয়ে কাজ হাসিল হয়। ভদ্দরলোক কয়েদিকে চোখ রাঙিয়েও কাজ সারা যায়। তবে বারবার ঢুকতে বেরোতে অভ্যস্ত ঘাগু ক্রিমিনাল হলে সাবধানে ঘাঁটাতে হবে। তাদের সঙ্গে ট্যাঁ-ফোঁ করলে উলটে টোপার নিজেরই (মারধর খেয়ে) আয়না হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। মেট ও তার টেনিয়ারা গোড়া থেকেই তাক করার মতো নিশানা ঠিক করে নেয়।

লাথখোর

খুন, কিডন্যাপিং, ডাকাতির পোড়খাওয়া ইউ টি-রা ওয়ার্ডের কুলীন। তাদের স্পেশাল খাতিরদারি। সোর্স, মানে প্রশাসনের কেষ্টবিষ্টুদের সঙ্গে চেনাজানা থাকলে, তারাও মেটের অবধ্য। এরাই জেলের ভিআইপি। এ ছাড়া, হলদিরাম ভুজিয়াওয়ালার বড় কর্তা বা আমরি-র ‘বস’দের মতো মক্কেল পেলেও পোয়া বারো। টাকার জোরেই তারা জেল-জীবনে ভিআইপি-র মর্যাদা পাবে। যদিও সারদা কিংবা আমরি-র মতো স্পর্শকাতর কেসে অভিযুক্তদের কয়েদিদের হাতে মারধর খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই তাদের আলাদাও রাখা হতে পারে।
এর বাইরে উটকো কেসে ফাঁসা সোর্সবিহীন ভদ্র ঘরের ছেলে, মধ্যবিত্ত ঘরের বধূহত্যার অভিযুক্ত বা কিছু ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযুক্ত মানেই মেটের খাদ্যবস্তু। কার জামিন পেতে কত টাইম লাগবে এবং কেমন ট্যাঁকের জোর বুঝেই এক-এক জনের রেট ঠিক করে মেট। টাকা দিয়ে মেটকে খুশি করতে না-পারলে প্রতি মুহূর্তে কোনও না কোনও হেনস্তার মধ্যে দিয়ে যেতে হবেই।
যাদের কানাকড়ি দেওয়ার ক্ষমতা নেই সেই ‘লাথখোর’ কয়েদিদের দিয়েই মেট ও ভিআইপি-দের জামাকাপড় কাচা, বিছানা পাতার কাজ করানো হয়। ভিআইপি-রা নিজের ফাইলে বসেই ভালমন্দ পোলাও-কালিয়া আনিয়ে খায়। বেশি দামে মদ, গাঁজা, কাফ সিরাপ, পুরিয়ারও দেদার জোগান। লাথখোর কয়েদির জন্য জেলের ট্যালটেলে হলুদ গোলা ডাল, পোকায় কাটা সব্জির ঘ্যাঁট কিংবা ক্ষুদ্রতম মাছ-মাংসের টুকরো। পাঁচটা বিড়ির জন্য প্যান্ট-জামা কেচে দিতেও কোনও লাথখোর রাজি হয়ে যায়।
টাকা না-দিলে যে কোনও সাধারণ কয়েদির দশাই পাক্কা লাথখোর। বেগড়বাঁই করে মেটের সামনে রুখে দাঁড়ালে শুরু হবে তাকে দিয়ে বাথরুম সাফ করানো, গোটা ওয়ার্ড ঝাড়পোঁছ কিংবা একা হাতে বালতি-বালতি জল তুলিয়ে আনা। মারধর থেকে শুরু করে মুখে গু-মুত ঢেলে দেওয়াও অস্বাভাাবিক ঘটনা নয়। নামমাত্র একটা কম্বল কিংবা বিনা কম্বলেই শুতেও দেওয়া হবে বাথরুমের ধারে।
এ ছাড়াও দাগিদের বিভিন্ন গ্যাংয়ের মারামারি, কাটাকাটি, বদলা চলে চোখের সামনে। আমদানি-মালকে চমকাতেও নিয়মিত পালিশ চলে কোনও লাথখোরকে। ভদ্র ঘরের আনকোরার বউ, বান্ধবী, মা-বাপকে ঝেড়ে দেওয়ার হুমকি। এবং মুখে সাবান ঘষে দেওয়ার ভয় দেখানো। সাবান ঘষা মানে দু’আঙুলের ফাঁকে ব্লেড দিয়ে গালে টেনে দেওয়া। সারা জীবন গালে সেই দাগ বয়ে বেড়াতে হবে। খুব বেশি দিন অত্যাচার সইতে না-পেরে কয়েদিরা শেষ তক যে ভাবে হোক, টাকা-কড়ি জোগানোর রাস্তাই বেছে নেয়।

ডাব্বা-বিস্কুট
সব সময়ে টাকা দিলেই রেহাই মেলে না। ঘরের লোক কিংবা প্রেমিকার সঙ্গে দু’টি কথা বলে নিশ্বাসও তো নিতে হয়। সরকারি ফোনবুথ থেকে দু’একটা নথিভুক্ত নম্বরে বার কয়েক কথা বলতে পারে বন্দিরা। কিন্তু তাতে কি আশ মেটে? তাই তলে তলে ডাব্বা-বিস্কুটের পরিষেবা।
ডাব্বা হল মোবাইল ফোন। আর সিম কার্ডের নাম বিস্কুট। ডাব্বা-বিস্কুটের টানে পা বাড়িয়েই নিয়মিত ফাঁদে পড়ে আনকোরা আমদানি-মালেরা। শ্রীঘর-বাসের শুরুতেই মেটের ‘সহৃদয়তা’য় ভুলে তার ডাব্বা বাজাতে গিয়েও অনেকে অত্যাচারের বাড়তি পথ খুলে দেয়। যেমনটা রাকেশের ক্ষেত্রে হয়েছিল। ভিন রাজ্যের শিক্ষিত ছেলে মাসির বাড়ি বেড়াতে এসে সাইবার জালিয়াতির অভিযোগে ধরা পড়ে। অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত যুবককে ব্ল্যাকমেল করতে জনৈক মেট এক মোক্ষম রাস্তা বেছে নেয়। মেটের মোবাইল থেকেই মাসতুতো বোনকে ফোন করেছিল ছেলেটা। সেই নম্বর সঙ্গে সঙ্গে লুফে নেওয়া হয়। আর কিছু দিনের মধ্যেই জামিন পাবে এমন এক দাগি দুষ্কৃতীর মাধ্যমেই জমাটি চিত্রনাট্যের জাল বোনা হয়। জেল থেকে বেরিয়েই সেই দাগি মেয়েটির সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার পরে তাদের বিছানার মাখো-মাখো ভিডিয়ো-ছবি অচিরেই মেটের থ্রি-জি মোবাইলে ঢুকে পড়ে।
মেট এক দিন সোল্লাসে আশপাশের সবাইকে ডেকে তার মোবাইলে আসা নতুন খাসা ‘পানু’র কথা ঘোষণা করল। সবাই মিলে ঝুঁকে পড়ে সেটি দেখার সময়েই রাকেশকে ধরে ‘কেমন বুঝছিস, মালটা দারুণ না’ ইত্যাকার ইঙ্গিত। ‘কী রে, এই ছবিটা মার্কেটে ছেড়ে সবাইকে বলে দেব না কি?’ এই হুমকির চাপ থেকে বাঁচতেই ছেলেটি ক্রমশ মেট ও তার টেনিয়াদের কেনা গোলাম হয়ে গিয়েছিল।
জেলে ডাব্বা-বিস্কুট ঢোকার পিছনে অবশ্য পুলিশেরও কিছু স্বার্থ থাকে। মোবাইলের কথা-চালাচালি মারফত অপরাধজগতের নানা তথ্যও উঠে আসে। আবার কোনও কোনও কয়েদিকে টাইট দিতেও এই ডাব্বাই ভরসা। প্রেমিকাকে হাফ-মার্ডার কেসে অভিযুক্ত স্বরূপ বড় ভাল ছবি আঁকত। নিজের হাতে তৈরি গ্রিটিংস কার্ড বন্দিদের বেচে জেলেই রোজগারের একটা উপায় বার করেছিল সে। এ ছাড়া, হাসপাতালের স্পেশাল ডায়েটের ডিম কিনে মেটকে বেশি দামে বিক্রি করেও দু’পয়সা হত। নিজের উকিলের ফি জোগাড় করতেই সে-দিন সন্ধে থেকে ছবি আঁকা নিয়ে ব্যস্ত ছিল স্বরূপ। এমন সময়ে মেটের টেনিয়ারা তাকে ক’জন কয়েদির বকেয়া টাকা আদায় করতে বলল। ‘দেখছ না, আঁকছি!’ জবাবটা একটু বেশি ঝাঁঝিয়েই দিয়ে ফেলেছিল সে। ফল পেতে দেরি হয়নি। পরের দিনই ওয়ার্ডারদের তার ব্যাগটা দেখিয়ে তাতে ডাব্বা আছে বলে ফাঁসিয়ে দিল টেনিয়ারা। ইচ্ছে করেই ওর ব্যাগে মোবাইল গুঁজে দিয়েছিল ওরা। একটু বাদে থাই-কোমরময় ওয়ার্ডারের রুলের দগদগে ছাপ নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ওয়ার্ডে ফিরেছিল স্বরূপ।
ডবলের বেশি দামে ডাব্বা বা বিস্কুট কিনতে হলেও দু’তিন মাস অন্তর মেটদের ফের টাকা দেওয়া দস্তুর। নয়তো সেপাইকে ধরিয়ে দিয়ে ইচ্ছে করে মার খাওয়ানো হবে। মার থেকে বাঁচতেও অনেকে ভয়ে টাকা দেয়।

লেড়ো
জেলে ভাল থাকার বিনিময়-মূল্য অবশ্য শুধু টাকা নয়। আইপিএল-এর জাল টিকিট হাতে ধরা পড়া বছর উনিশের হালকা গোঁফ ওঠা ছোকরার উপরে সে-চাপ ছিল না। খেলাটা প্রথমে বুঝতে পারেনি ছেলেটা। মেটকে তত টাকা দিতে পারেনি। কিন্তু ওয়ার্ডে খাটাখাটনি তেমন নেই। ভাল মাছ-মাংসের পিসও প্রায়ই জুটে যাচ্ছিল। শুধু মাঝেমধ্যে ‘দাদা’ গা-হাত- পা টিপে দিতে বলত। এক দুপুরে ‘দাদা’র মাথা কোলে নিয়ে ভাই পাকা চুল বেছে দিচ্ছে, তার থাইতে রাখা দাদার হাতটা হঠাৎ বেয়াড়া হয়ে উঠল। ঠাট্টা ভেবে ধ্যাত বলে সে হাত সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সে-দিন রাতেই ফের দাদার ডাক এল। ‘ভদ্র ঘরের ছেলে, তোকে তো আর পায়খানার গন্ধে শুতে বলতে পারি না! আয় আমার কাছেই শুয়ে পড়িস!’
ফাইলের কিনারে জালের দেওয়ালে তাঁবুর মতো টাঙানো বেড কভার। সেই আবডালে শোওয়ার ব্যবস্থা। টেনিয়ারা মুখ টিপে হাসছিল। পরের দিন সকালে একটু কান্নাকাটি করেছিল ছেলেটা। ক্রমশ অমুকদাদার লেড়ো (পার্টনার) বলে তাকে দেগে দেওয়া হয়। কয়েদিদের উপরে যৌন অত্যাচার ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে থাকেন জেল কর্তৃপক্ষ। আগে প্রকাশ্যে কোনও কয়েদির হাত-পা বেঁধে উপুড় করে যৌন আগ্রাসনের ঘটনাও ঘটতে দেখা যেত। সিসিটিভি-র যুগে সবই চোরাগোপ্তা। পুরোটাই অনিচ্ছায়, এমনও নয় অবশ্য।

গায়ে-গায়ে

পিষে মারার এই প্রক্রিয়া তো চলছে প্রতি পদক্ষেপেই। বাড়ির লোকের সঙ্গে দেখা করার সময়ে পাঁচ মিনিটের বেশি কথা বলার জন্য, একটা আচারের শিশি ভেতরে ঢোকাতে বা বই পড়ার সাধ মেটাতেও রক্ষী বা পুরনো পাপীদের খুশি করার অনন্ত দায় মিটিয়ে চলতেই হবে। প্রায়ই দুষ্কৃতীর হুমকি যায় বাড়িতে। জেলে যাওয়া ছেলেকে প্রাণে বাঁচাতে খেয়ে না-খেয়ে বেনামের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢালতে বাধ্য হন বৃদ্ধ মা-বাপ বা অসহায় স্ত্রী। জেল থেকে কোনও দূত এসেও কখনও সরাসরি সে-টাকা নিয়ে যায়।
পুরনো হয়ে গেলে অবশ্য একটু রেহাই মেলে। তখন নতুন আমদানি-মালদের নিয়ে পড়ে মেটরা। কিন্তু খরচের তো শেষ নেই। পাড়ার গোলমালে প্রতিবেশীর উপরে হামলার ঘটনায় কেস খাওয়া রবীনবাবু এ ভাবেই আট বছর ভেতরে কাটিয়ে দিয়েছিল। ধারধোর করে তার বউ-বাচ্চার যখন দিন কাটছে, কেস মেটার কোনও আশা নেই, তখনও উকিলের খরচ দিতে হচ্ছে। ‘উকিলের টাকা কী ভাবে মেটাচ্ছ?’ স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করাতে একদিন হাউহাউ করে কেঁদেছিল স্ত্রী। জেলের ভাষায়, কয়েদির বউ-বোনের এমন আপসের নাম গায়ে-গায়ে শোধ!

(চরিত্রদের নাম পরিবর্তিত।
জেল-খাটা বন্দি এবং কারা দফতর-পুলিশের বিভিন্ন সূত্রে বলা কথার ভিত্তিতে লিখিত)


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.