ইডেন পেল নতুন নায়ককে
দুই বাঁ-হাতির শৌর্যে হায়দরাবাদের সূর্যাস্ত
ক জন যত শান্তশিষ্ট, অন্য জন আবার ততটাই ছটফটে।
এক জন যদি হন বিনয়ের অবতার, অন্য জন রেগে গেলে আবার মাঠের মধ্যেই বিপক্ষ ক্রিকেটারের দিকে তেড়ে যাওয়ার আগে দু’সেকেন্ড ভাববেন না।
এক জন আয়ারল্যান্ডের শীতের মতো বরফ-শীতল। অন্য জনের মেজাজের পারদ সময়-সময় টেক্কা দিয়ে যায় গ্রীষ্মের দিল্লিকেও!
ওয়েন মর্গ্যান ও গৌতম গম্ভীর দু’জনে দুই ভিন্ন ক্রিকেট-রাজপথের পথিক। যে দুই রাজপথে গাঁটছড়া বেঁধে দিল রবিবারের ইডেন। দুই নায়ককে একাত্ম করে দিল এক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে। যে লক্ষ্য সানরাইজার্সের সূর্যাস্ত যেমন, ঠিক তেমনই কলকাতার সূর্যোদয়।
ইডেনে মারকাটারি মর্গ্যান।
ছবি: শঙ্কর নাগ দাস
ইডেনে মারমুখী গম্ভীরের ছবি
তুলেছেন সুদীপ্ত ভৌমিক
চৈত্রশেষের দুপুরে গনগনে রোদে গম্ভীর যে ইনিংসটা খেলে গেলেন, সেটা অতি পরিচিত। এত দিন দেখে দেখে ইডেনের দর্শকের বোধহয় প্রতিটা ফ্রেম মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। মনবিন্দর বিসলা শুরুর দিকে দু’তিনটে বড় শট খেলবেন। খেলে ডাগআউটে ফিরবেন। আর খুব তাড়াতাড়ি ৫০-এর কাছাকাছি রান করে টিমের স্কোরের ভিতটা তৈরি করে দেবেন কেকেআর ক্যাপ্টেন। এ দিনও গম্ভীরের ব্যাটিং চিত্রনাট্যে কোনও নড়চড় নেই। ৪৫ বলে ৫৩ আইপিএলের ছ’বছরের ইতিহাসে গম্ভীরের ১৮ নম্বর হাফসেঞ্চুরি। এবং আইপিএল রেকর্ডও। আর ম্যাচ শেষের চিত্রনাট্যও পাল্টায়নি। ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার নিতে আসবেন, মুখে ‘আমি’ নয়, ‘আমরা।’ দু’বছর আগে যা ছিল, আজও তাই।
গম্ভীরের ইনিংসটা প্রত্যাশিত হলে সুপার সানডে-র ইডেনে চমক মর্গ্যান। টস জিতে গম্ভীর যখন গড়গড় করে টিম লিস্ট বলে যাচ্ছেন, ব্রেন্ডন ম্যাকালামের জায়গায় ওয়েন মর্গ্যানের নাম শুনে অবাক হননি, ঠাসা ইডেন খুঁজলে এমন দশ জনও পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ! টুইটার-ফেসবুকও সরগরম। প্রদীপ সঙ্গওয়ানের জায়গায় লক্ষ্মীরতন শুক্ল, রায়ান ম্যাকলারেনের জায়গায় টিমে সচিত্র সেনানায়কে, এত পর্যন্ত ঠিক আছে। কিন্তু ম্যাকালাম কোথায়? ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের খোঁচাগুলো এ রকম:
‘ব্যাটিং নিয়ে এত ভুগছে কেকেআর। আর তা-ও কি না ম্যাকালাম রিজার্ভ বেঞ্চে! মর্গ্যানকে তো আজ বসানোই যেত।’
‘গম্ভীরের ক্যাপ্টেন্সি নিয়ে কিছু বলার নেই। ম্যাকালামের মতো টি-টোয়েন্টি স্পেশ্যালিস্ট ওর ফার্স্ট ইলেভেনে জায়গা পাচ্ছে না! কালিস, নারিন ঠিক আছে। কিন্তু ব্রেন্ডনকে বসিয়ে মর্গ্যান?’
ক্যাচ ধরার পর লক্ষ্মীর সঙ্গে মনোজের সেলিব্রেশন। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক
সাড়ে তিন ঘণ্টার ‘শো’ শেষে গম্ভীর একশোয় একশো। ছিদ্রান্বেষীর দল গঙ্গাবক্ষে! স্টেইন-গানের মুখ ভোঁতা করে দিয়ে মর্গ্যান বিশাল ছক্কাটা গ্যালারিতে পড়তে না পড়তে ভেসে উঠল নতুন টুইট। ‘মর্গ্যানের শরীরে কি আজ গেইলের আত্মা ঢুকে গিয়েছে?’ না, গেইলের মতো খুনে ছিল না মর্গ্যানের ব্যাট। কিন্তু পাঁচটা বাউন্ডারি, তিনটে ছয় দিয়ে সাজানো ৪৭ রানের ইনিংসটা যে কত কার্যকরী ছিল, নাইট ডাগআউটই সেটা পরিষ্কার করে দিল। হাফসেঞ্চুরি হাতছাড়া করে আইরিশ যুবক ফিরছেন, আর উঠে দাঁড়িয়ে হাততালির ঝড় কেকেআর ডাগআউটে।
‘স্ট্যান্ডিং ওভেশন’ হবে না? ১৮.৪ ওভারে তখন কেকেআর ১৬৯-৩। গত দু’বছরে যা হয়নি, ইডেনের পিচে সেই ১৮০ তখন ধরাছোঁয়ার মধ্যে। শনিবার নাইট শিবির থেকে স্পিনিং ট্র্যাকের বদলে ব্যাটিং পিচের অর্ডার এসেছিল। দিল্লি ম্যাচের পিচ নয়, রবিবার ম্যাচ হল নতুন উইকেটে। কিন্তু সেখানেও রানের ‘হুটোপার্টি’ বসাতে দাপুটে চরিত্র চাই। মনোজ-ইউসুফকে টপকে যে চরিত্রের সন্ধান গম্ভীর পেয়েছিলেন মর্গ্যানে। তাই চিরাচরিত পাঁচ বা ছ’নম্বর নয়, আজ মর্গ্যান চারে। কালিসকেও ভুললে চলবে না। ‘বুড়ো’ অপবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ান ডে টিমে অনিয়মিত। কিন্তু তথাকথিত ‘বুড়ো’ কালিস দু’টো জিনিস বুঝিয়ে দিলেন। এক, বোলারদের পালিশ তোলার ক্ষমতা সাইঁত্রিশেও আছে। দুই, গম্ভীর-মর্গ্যান থাকলেও টিমে ‘মিস্টার ডিপেন্ডেবল’-এর মুকুটটা তাঁকেই ছেড়ে দিতে হবে। প্রমাণ ২৭ বলে ৪১ রানের ‘পারফেক্ট টেন’ টি টোয়েন্টি ইনিংস। প্রমাণ চার ওভারে ১৩ রানে ৩ উইকেট।
এবং সচিত্র সেনানায়কে। আজ সুনীল নারিনের ( ৪ ওভারে ৩১) দিন ছিল না, রোজ-রোজ হবে মানেও নেই। কিন্তু নারিনের ‘পরিপূরক’-এর খোঁজ পেয়ে গেল ইডেন। দেখল, নতুন নায়কের হাত ধরে নতুন ‘মিষ্ট্রি’-র জন্ম। কালিসকে বাদ দিলে নাইট বোলিংয়ের একমাত্র রুপোলি রেখা। সেনানায়কে চার ওভারে ১৮ রান দিয়ে একটা উইকেটও পেলেন। নারিনের সঙ্গে তাঁর জুটি বিপক্ষকে ভবিষ্যতে ভোগাবে নিশ্চিত। তাঁর স্পিনের ধাঁধা সামলাতে যত বার হাবুডবু খেয়েছে টিম সঙ্গকারা, তত বার উত্তাল হয়েছে ইডেন। উঠেছে ‘মেক্সিকান ওয়েভ’, সৃষ্টি হয়েছে আগামীর ‘রিংটোন’।
স্বাগত, মধুর জয়। স্বাগত, নববর্ষ। স্বাগত, নতুন নায়ক। স্বাগত, নবজন্মের কেকেআর।

কেকেআর ১৮০-৪ (২০ ওভারে)
সানরাইজার্স হায়দরাবাদ ১৩২-৭ (২০ ওভারে)

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল রাজস্থান
কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের ১২৪ রান টপকাতেই শেষতম অর্থাৎ কুড়ি ওভার খেলতে হল রাজস্থান রয়্যালসকে। সৌজন্য অজিঙ্ক রাহানে। সম্প্রতি কোটলায় টেস্ট অভিষেকে ব্যর্থ হওয়ার পর আইপিএলেও হাত খুলে মারছেন না। এ দিন রাহুল দ্রাবিড়ের দলের সৌভাগ্য, জয়ের টার্গেট ১২৫-এর বেশি ছিল না। না হলে কী হত, বলা কঠিন। ওপেন করতে এসে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে রাহানে করলেন ৪২ বলে ৩৪ রান (৩X৪)। চার বল বাকি থাকতে রাজস্থান ছ’উইকেটে জেতার পর টিভিতে রাহানে বলেন, “আমি কুড়ি ওভারই ক্রিজে থাকতে চেয়েছিলাম।” কিন্তু তাঁর অধিনায়কের ম্যাচ শেষে টিভিতে বলা কথাতেই পরিষ্কার কী প্রচণ্ড টেনশন ছিল রাজস্থান ডাগ আউটে! “আমার তো হার্টরেট দেড়শোর কাছাকাছি উঠে গিয়েছিল!” বলেন দ্রাবিড়। যিনি ঘরের মাঠে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাট করতে পাঠানোর পর অ্যাডাম গিলক্রিস্টের পঞ্জাবের প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের মিলিত অবদান ৫ রান! তার মধ্যে বেশ কয়েক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া গিলক্রিস্ট করেন শূন্য। ডেভিড হাসি ৪১ না করলে গিলক্রিস্টের দলের দশা আরও খারাপ হত।





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.