সোনু খুনের শাস্তি চেয়ে সরব গৌতম
সুদীপ্ত গুপ্তের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে যখন তোলপাড় হচ্ছে, সেই সময় শিলিগুড়ির অম্বিকানগরের বাসিন্দা নবম শ্রেণির ছাত্র সোনু পটেল সিংহেক খুনের মামলায় অভিযুক্তদের শাস্তি হল না কেন তা নিয়ে সরব হলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী গৌতম দেব। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ সোনুর বাড়িতে যান উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার আগেই আমরা আশ্বাস দিয়েছিলাম এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমাদের একটু দেরি হয়ে গেল। কিন্তু সোনুকে যারা খুন করেছেন তারা কেউ রেহাই পাবেন না। বিষয়টি নিয়ে আমি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলব। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার আনন্দ কুমারের সঙ্গে কথা বলব। বাড়ির লোকজন চাইছেন বলে ওই মামলার পুনর্তদন্ত হবে।” পাশাপাশি, দলের যুব সংগঠনের তরফে বিষয়টি নিয়ে লাগাতার আন্দোলন হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ ব্যাপারে পুলিশ কমিশনার জানান, শীঘ্রই ওই মামলার বর্তমান অবস্থা খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করা হবে।
২০০৫ সালের ২৫ মে সেই সময়ের শিলিগুড়ি হিন্দি হাইস্কুলের ছাত্র সোনুকে ক্রিকেট ব্যাট, উইকেট দিয়ে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ওঠে এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে। ওই দিন এসএফআইয়ের ডাকে ওই স্কুলে ধর্মঘট চলছিল। তা উপেক্ষা করে সোনু স্কুলে যায় বলেই তাঁকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। সেই সময় বাম সরকারের প্রভাবশালী নেতা, মন্ত্রীদের চাপে ওই ঘটনার মামলা ধামাচাপা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
প্রয়াত সনু পটেল সিংহের বাবা-মা’র কাছে গৌতম দেব। —নিজস্ব চিত্র।
সোনুর বাবা ভাই রামলক্ষণ সিংহ, অনিল সিংহ’রা জানান, সোনুর খুনের ঘটনার পরে তৎকালীন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য তাঁদের বাড়িতে যান। তিনি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থার করার আশ্বাস সহ হিন্দি হাইস্কুলে সোনুর একটি মূর্তি স্থাপন, অম্বিকানগরে সোনুর নামে একটি হিন্দি প্রাথমিক স্কুল এবং তাঁর পরিবারের একজনকে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। সোনুর এক ভাইকে চাকরি দেওয়া হলেও অন্য আশ্বাসগুলি পূরণ করা হয়নি বলে তাঁরা অভিযোগ করেন। সোনুর মা শৈলা সিংহ বলেন, “আট বছর হয়ে গেলেও ছেলের খুনিরা এখনও শাস্তি পায়নি। আমরা চাই ওই ঘটনায় যারা জড়িত, পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে শাস্তির দিক। আবার নতুন করে তদন্ত হোক।”
সেই সময়ের বাম সরকারের মন্ত্রী তথা বর্তমানে সিপিএমের দার্জিলিং জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য অশোক ভট্টাচার্য পুনর্তদন্তের দাবির বিষয়টি রাজনীতি ছাড়া কিছু নয় বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, “২০০৫ সালে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা খুব দুর্ভাগ্যজনক। ওই দিন ফি বৃদ্ধি নিয়ে এসএফআইয়ের একটি আন্দোলন চলছিল। সেদিনই সোনুর মৃত্যু হয়। কিন্তু ওই ঘটনার সঙ্গে এসএফআইয়ের আন্দোলনের কোনও যোগ ছিল না। তার পরে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। এতদিন পরে ওই ঘটনা নিয়ে হইচই করার অর্থ রাজনীতি করা এটা সবাই বুঝতে পারছে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, সুদীপ্ত গুপ্তের মৃত্যু নিয়ে রাজ্য সরকার যা ভূমিকা নিচ্ছে তাতে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফুঁসছে। তা ঢাকতে পুরনো ঘটনা আনা হচ্ছে।
পাশাপাশি, ওই পরিবারের তরফে আরও কিছু দাবি করা হয়েছে সেগুলি পূরণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।” পাশাপাশি মন্ত্রী জানান, ১৯৯৪ সালের ১৪ মে কংগ্রেস নেতা উদয় চক্রবর্তীকে খুন করা হয়। ওই ঘটনাতেও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি। উদয়বাবুর আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে অনেকেই সেই মামলার পুনর্তদন্ত করানোর দাবি তুলেছেন। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, “বাম আমলের এমন অনেক খুনের মামলা ধামাচাপা পড়ে রয়েছে। আমাদের কাছে নিহতদের বাড়ির লোকজন পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সবই জানাব।”

পুরনো খবর:



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.