বেশি আসন চাইছে শরিক দল
বামেদের আসন রফা নিয়ে জট
সন্ন পঞ্চায়েত ভোটে ছোট শরিকেরা বেশি আসন দাবি করছে। অথচ বড় শরিক সিপিএম তা নিয়ে বিশেষ উচ্চবাচ্য করতে পারছে না।
এমনই ছবি দেখা যাচ্ছে পুরুলিয়া জেলা বামফ্রন্টের বৈঠকগুলিতে। বস্তুত, আসন সমঝোতা নিয়ে জেলা বামফ্রন্টের এ যাবৎ যতগুলি বৈঠক হয়েছে এবং আসন রফার সমীকরণ নিয়ে পরের পর বৈঠকে যে ভাবে আলোচনা চলেছে, তাতে শরিকদলগুলির একাধিক নেতাই বলছেন, নিকট অতীতে কখনও এ ভাবে আসন রফা নিয়ে আলোচনার কথা তাঁরা মনে করতে পারছেন না।
রাজ্য সরকার ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দ্বৈরথ হাইকোর্টে গড়ানোয় পঞ্চায়েত নির্বাচন নিয়ে আপাতত ঘোর সংশয়। কিন্তু, একাধিক জেলায় বামফ্রন্ট ইতিমধ্যেই আসন সমঝোতা করে ফেললেও পুরুলিয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এই জেলায় ফরওয়ার্ড ব্লক বরাবরই সাংগঠনিক দিক থেকে শক্তিশালী। জেলায় তাদের সাংগঠনিক শক্তি আরও বেড়েছে দাবি করে এ বার বেশি আসন চেয়েছে ফব। ফলে, আসন রফা নিয়ে এখনও ঐকমত্যে পৌঁছতে পারেননি জেলা বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। অথচ রাজ্য বামফ্রন্টের নির্দেশ ছিল, গত ২৬ মার্চের মধ্যেই জেলায় পঞ্চায়েতের তিন স্তরেই আসন রফা চূড়ান্ত করে ফেলতে হবে। দোলের ছুটির দিন এই আসন রফা নিয়ে বেলা সাড়ে বারোটা থেকে রাত অবধি জেলা বামফ্রন্টের দীর্ঘ বৈঠকের পরেও রফাসূত্র বেরোয়নি। এই পরিস্থিতিতে সিপিএমের শরিক দলগুলির আশঙ্কা, এ বারও সাবির্ক ঐক্য অধরা থেকে যেতে পারে।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণীন্দ্র গোপের অবশ্য দাবি, তাঁরা দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে আসছেন। কর্মিসভা করবেন। জেলা বামফ্রন্টের বৈঠকে তাঁরা থাকবেন না। তাঁর আরও দাবি, “নানা কারণে প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় দেরি হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৯০ শতাংশ আসনে সার্বিক ঐক্য হয়েছে।”
বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির বরাবরের অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে সিপিএম কার্যত এক তরফা ভাবেই প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করত। নামে বামফ্রন্টের তালিকা হলেও তা আদতে হত সিপিএমেরই। ফলে, বহু ক্ষেত্রেই গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে শরিকদলগুলি তৃণমূল বা কংগ্রেস বা বিজেপি-র সঙ্গে হাত মেলাত। বিধানসভা ভোটে সিপিএম তথা বামফ্রন্টের ভরাডুবির পরে অবশ্য ছবিটা বদলেছে।
জেলা বামফ্রন্টের একটি সূত্র জানাচ্ছে, এ বার ফব বেশি আসন দাবি করছে। একই সঙ্গে জেলা পরিষদের দাবি থেকে সরে এসে এ বার বেশি আসন দাবি করে বসেছে সিপিআই-ও। এই জেলার ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট আসন ১৯৪৪টি। ২০০৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ঐক্য না হওয়ায় ফব একাই প্রায় ৬০০ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে সিপিএম নেতৃত্ব আরও উদ্বেগে। জেলা পরিষদ নিয়েও জট কাটছে না। এ বার সেখানে আসন ৩৫ থেকে বেড়ে ৩৮ হয়েছে। ফব গতবার ৭টিতে লড়েছিল। এ বার তারা বেশি আসন চায়। জেলা ফব-র একাধিক শীর্ষ নেতা বলছেন, “শেষ পর্যন্ত আসন রফা না হলে তাঁরা ফের একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।”
সিপিআইয়ের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সমর রায়ের কথায়, “গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন বণ্টন খুব জটিল বিষয়। প্রথমে ঠিক হয়েছিল, এই স্তরের ঐক্যের ক্ষেত্রে স্থানীয় নেতৃত্ব বসবেন। সেখানে সমস্যা হবে, শুধু সেই এলাকার ক্ষেত্রেই জেলা বামফ্রন্ট হস্তক্ষেপ করবে।” এত দিনের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বামফ্রন্ট নেতৃত্ব আন্দাজ করেছিলেন ফব দক্ষিণ-পশ্চিম পুরুলিয়ার যে-সব এলাকায় শক্তিশালী, সেখানে তাঁদের হস্তক্ষেপ করতে হবে। অথচ ঘটনা হল, বাঘমুণ্ডি, ঝালদা ১, ঝালদা ২, জয়পুর ও আড়শার মতো যে ব্লকগুলি ফব-র শক্তঘাঁটি, সেগুলিতে আসন রফা নিয়ে বিশেষ একটা সমস্যা হয়নি। আড়শা ও বলরামপুরে আংশিক সমস্যা রয়েছে। বেশি গোল বেধেছে সাঁতুড়ি ও পুরুলিয়া ২ ব্লকে (এখানে বরাবর সিপিএমই শক্তিশালী)। বস্তুত, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের পরে সিপিএম যে যে এলাকায় শক্তিশালী ছিল, সেই এলাকাতেও সাংগঠনিক ভিত গড়েছে ফব। এই সমস্ত বিষয়কে মাথায় রেখে এ বার তারা বেশি আসনের দাবিদার। এই সব জায়গায় জেলা নেতৃত্বকে হস্তক্ষেপ করতেই হবে। ফব-র জেলা সম্পাদক নরহরি মাহাতো বলেন, “আমাদের সাংগঠনিক শক্তি অনুযায়ী আমরা আসন দাবি করেছি। তার স্বপক্ষে যুক্তিও দেওয়া হয়েছে। আশা করি ঐক্য হবে।”
সিপিআইয়ের সঙ্গেও এই অনৈক্য দেখা দিয়েছে কাশীপুর ও নিতুড়িয়া নিয়ে। সমরবাবুর অভিযোগ, “ওই দুই এলাকায় আমাদের যা প্রাপ্য, সিপিএম তা দিতে ছাড়তে না। যদি জেলা স্তরেও সমস্যা না মেটে, তা হলে কিছু আসনে আমাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই হতেই পারে।” জেলা ফব-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, “আমরা জেলার কুড়িটি ব্লকে আছি, এত দিন সিপিএম সেই স্বীকৃতিটাই তো দিত না! আমরা আসন দাবি করলে তা মানা হত না। ফলে এর আগে কখনই জেলায় পঞ্চায়েত নিবার্চনে সার্বিক বাম ঐক্য হয়নি। এ বার পরিস্থিতি ভিন্ন। রাজ্য বামফ্রন্টের বৈঠকে আমাদের নেতৃত্ব বিমান বসুকে (রাজ্য বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান) বলেই দিয়েছেন পুরুলিয়ায় ঐক্য না হলে অন্য জেলাতেও ফব সার্বিক ঐক্যের ফর্মুলা না মানতে পারে।”
জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মণীন্দ্র গোপ অবশ্য বলছেন, “আসন রফা ও প্রার্থী তালিকা আমরা ঠিকই ঘোষণা করব। কিন্তু, ভোট কবে, সেটাই তো এখনও পরিষ্কার নয়!”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.