প্রেমের টানে ছিটমহলেই সংসার পেতেছেন আরজু
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র কথা তিনি জানেন না। কিন্তু জানেন প্রেমের কথা।
যে প্রেমের টানে ছিটমহলে আশ্রয় নিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের কন্যা। শহরের স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে সেখানে সংসার পেতেছেন। এক বছর দেশের মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দিনহাটা লাগোয়া করলা ছিটমহলের জীবনকে আপন করে হরিয়ানার কন্যা গেন্দু ফুসুয়া হয়েছেন আরজু বিবি। প্রেমিক ও তাঁর পরিবারকে আরও কাছে পেতে শিখেছেন বাংলা ভাষাও।
গেন্দু ফুসুয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ ভূখন্ড ঘেরা করলা ছিটমহলের যুবক এরশাদ সরকারের পরিচয় হয় হরিয়ানায়। কাজের খোঁজে ছিটমহল ছেড়ে সেখানে যান এরশাদ। ধারুহেরা জেলায় রাজমিস্ত্রির কাজও পেয়ে যান। মধ্যপ্রদেশের পান্না জেলার বাসিন্দা সিয়ারাম ফুসুয়া শ্রমিক সরবরাহের ঠিকাদার হিসাবে পরিবার নিয়ে ওই সময় সেখানে যান। সিয়ারামবাবুর সঙ্গে ছিলেন মেয়ে গেন্দু। সেখানেই প্রেম এরশাদের সঙ্গে। হতদরিদ্র এরশাদের মনে কিন্তু সংশয় ছিল। কিন্তু তাঁকে এক রকম অবাক করেই প্রেমের টানে গত বছর মার্চে হরিয়ানা ছেড়ে করলা ছিটমহলে চলে আসেন দু’জন। সেখানে বিয়ে করেন। আরজু বিবি এখন দু’মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরশাদের কথায়, “পরিচয় হওয়ার পরে ওঁকে সব খুলে বলেছি। আমি গরিব, আমার নাগরিকত্ব পর্যন্ত নেই এটাও জানিয়েছি। আরজু সব মেনে নিয়ে আমার সঙ্গে চলে আসে। পরিবারের প্রত্যেককে মানিয়ে নিয়েছে। ওঁর প্রেম আমার মত হতদরিদ্রের জীবন পাল্টে দিয়েছে।”
গেন্দু ওরফে আরজু দিব্যি নাগরিকত্বহীন স্বামীকে নিয়ে দরমার বেড়া দেওয়া মাটির ঘরে সংসার পেতে। হরিয়ানা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দিনহাটায় এসেছিলেন গেন্দুর বাবা। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে পুলিশ ছিটমহলে যেতে পারেনি। ওই সময় লোক মারফত তিনি বাবাকে ফিরিয়ে দিয়ে জানিয়ে দেন ‘এখানে বেশ ভাল আছি। এরশাদ জোর করেনি। স্বেচ্ছায় ওকে বিয়ে করেছি। তাই আর ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়।’
আরজু বিবি। ছবি: হিমাংশুরঞ্জন দেব।
বাড়ির দাওয়ায় দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বাংলায় আরজু বলেন, “এখন এটাই আমার বাড়ি। মা বাবা যোগাযোগ রাখেন না। কিন্তু এখানে প্রেম আছে। স্বামী ও তাঁর পরিবারের ভালোবাসায় সব ভুলে থাকি। ফেলে আসা দিনের কথা নিয়ে তাই আর ভাবি না।” ভ্যালেন্টাইনস ডে-র কথা জানেন? অবাক চোখে তাকান আরজু। বলেন, “সেটা কী!”
এরশাদ-আরজুর ওই প্রেমের কথা করলা ছিটমহলের বাসিন্দাদের মুখে মুখে। এরশাদের মা রেজিয়া বিবি তো বলেই বসলেন, “হিন্দিভাষি এক মেয়েকে ছেলে বিয়ে করছে দেখে প্রথমে দুঃখ পেয়েছিলাম। বৌমার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। কিন্তু কয়েক মাসে ধারণা পাল্টে যায়। মেয়েটা শুনে বাংলা বলতে শিখে নেয়। এখন ভাবি পছন্দ করে বিয়ে দিলে এত ভাল বৌমা জুটত কি না সন্দেহ।” এরশাদের বাবা খোকা সরকার জানান, বৌমার বাপের বাড়ি পাকা। বিদ্যুৎ, টিভি সব আছে। এখানে কিছু নেই। শহরের মেয়ে এমন পরিবেশকে এ ভাবে মানিয়ে নেবে কেউ ভাবতে পারেননি। এরশাদ আরজুর প্রেমের কথা জানেন ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহকারী সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি বলেন, “প্রেম এখানে সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত হয়েছে। এমন অমর প্রেম সচরাচর দেখা যায় না। অভাব থাকলেও ওঁরা সুখে আছে।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.