দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
কঠিন বর্জ্য
প্রকল্প শিকেয়
রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকায় প্রস্তাবিত কঠিন বর্জ্য অপসারণ প্রকল্প কার্যত শিকেয়। এই প্রকল্পের কাজ কবে শুরু হবে তা নিয়ে কোনও স্পষ্ট উত্তর দিতে পারছেন না পুর এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) কর্তৃপক্ষ।
দীর্ঘ দিন ধরে জটিলতায় আটকে ছিল রাজপুর-সোনারপুরের এই প্রকল্প। পুরসভার দাবি, জমি চিহ্নিত করে কেএমডিএ-র কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রক্রিয়া চলছে। তবে কেএমডিএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের জন্য সংশ্নিষ্ট পুর এলাকায় কয়েক জন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছিল। প্রথম ধাপে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দেখাতে পারেননি রাজপুর-সোনারপুর পুরকর্তৃপক্ষ। ফলে প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। পরে ফের জমি চিহ্নিত করে পুর কর্তৃপক্ষ কেএমডিএ-কে জানান। কিন্তু তার পরেও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি।
রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার আবর্জনা ও নিকাশি বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “পুরমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটিকে নিয়ে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে প্রকল্পের জন্য যতটা জমি দরকার তা আমরা দ্বিতীয় বারেও দিতে পারিনি। যে পরিমাণ জমি কেএমডিএ-কে দেখিয়েছি তাতেই কাজ শুরু হওয়ার ইঙ্গিত পেয়েছি। তবে, কবে থেকে তা শুরু হবে সেটা জানি না।” রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও বলেন, “ওই প্রকল্প নিয়ে সবিস্তার খোঁজখবর নিচ্ছি।”
রাজপুর-সোনারপুর পুর এলাকায় গত কয়েক বছরে জনবসতি ব্যাপক হারে বেড়েছে। ফলে এলাকায় আধুনিকমানের একটি কঠিন বর্জ্য অপসারণ প্রকল্প জরুরি। কিন্তু তা নিয়ে উদাসীনতার অভিযোগ উঠেছে পুরনো বাম বোর্ডের বিরুদ্ধেও। পুরসভা সূত্রেই জানা গিয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ তৎকালীন বামবোর্ডকে ময়লাপোতায় একটি নিকাশি নর্দমা করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কোনও রকমে একটা কাঁচা নর্দমা করেই সেই দায় সারা হয়েছিল বলে অভিযোগ।
বর্তমানে বিরোধী বামেদের অভিযোগ, ময়লাপোতায় প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ইউনিট ঠিকমতো চলছে না। কেঁচো চাষ প্রকল্পের কাজও এগোয়নি। এমনকী, ময়লাপোতায় পুর এলাকা থেকে সংগৃহীত ময়লার একটা অংশ এলাকার বাইরে ফেলা হচ্ছে বলে তাঁদের অভিযোগ।
তবে নিজেরা অভিযোগ করলেও তাঁদের বোর্ডের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি পুরসভার বাম কাউন্সিলর এবং প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান সিপিআইয়ের তড়িৎ চক্রবর্তী। তিনি বলেন, ‘‘আমরাই হরিনাভির ওই এলাকায় আধুনিক মানের কঠিন বর্জ্য অপসারণ প্রকল্প করার পরিকল্পনা করেছিলাম।”
যদিও বিরোধী বামেদের আনা যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন পুরসভার জঞ্জাল অপসারণ বিভাগের চেয়ারম্যান পারিষদ পল্লব দাস। তাঁর কথায়: “প্লাস্টিক রিসাইক্লিং ইউনিটের কাজ পুরোদমে চলছে। ওই ইউনিটের উৎপাদিত সমগ্রী আমরা রাস্তা তৈরির কাজে ব্যবহার করেছি। কেঁচো চাষও হচ্ছে। প্রস্তাবিত কঠিন বর্জ্য অপসারণ প্রকল্পের জমি সংক্রান্ত কাগজপত্র আমরা কেএমডিএ-র কাছে পাঠিয়েছি। কথাবার্তাও চলছে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেএমডিএ-র এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আমি যতটুকু জানি, রাজপুর-সোনারপুর পুর কর্তৃপক্ষ পুর এলাকায় প্রস্তাবিত কঠিন বর্জ্য অপসারণ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি কেএমডিএ-র প্রতিনিধিদের দেখাতে পারেননি।” বিষয়টি নিয়ে কেএমডিএ-র সিইও অরূপ সা-র সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংস্থার জনসংযোগ আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। কিন্তু সংস্থার জনসংযোগ আধিকারিক সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।

ছবি: সুব্রত রায়




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.