এক বার মামলা তুলে নিয়েছে রাজ্যের পরিবহণ দফতর। তার পরেও ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ফের আপিল মামলা করল রাজ্য সরকার। প্রত্যাহারের পরে আবার কী ভাবে মামলা হয়, উঠেছে সেই প্রশ্ন।
বুধবার দেখা যায়, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো নিয়ে বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্যের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজ্য সরকার আবার একটি আপিল মামলা করেছে। এ দিন সেই মামলার শুনানির সময়ে উচ্ছেদ হওয়া বাড়ির মালিক ও দোকানদারদের সংগঠন বলে, রাজ্য সরকার তো আগেই আপিল মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তা হলে ফের আপিল মামলা হয় কী ভাবে?
সরকারের পক্ষে আইনজীবী শাক্য সেন বলেন, আগেকার আপিল মামলাটি প্রত্যাহার করেছে পরিবহণ দফতর। কিন্তু এ বার আপিল মামলা করেছে রাজ্য সরকার। পরিবহণ দফতর আর রাজ্য সরকার এক নয়। ডিভিশন বেঞ্চ আগের আপিল মামলার সব তথ্য নিয়ে কাল, শুক্রবার সরকারি আইনজীবীকে হাজির হতে বলে। ওই দিন ফের শুনানি হবে।
ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সেন্ট্রাল স্টেশনের জন্য আইন অনুযায়ী জমি অধিগ্রহণ না-হওয়ায় হাইকোর্ট সেই অধিগ্রহণ খারিজ করে দিয়েছিল। রাজ্য সরকার সেই রায়ের বিরুদ্ধে বিচারপতি গিরীশচন্দ্র গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করে। তৃণমূল কংগ্রেস এর মধ্যে কেন্দ্রের জোট সরকার থেকে সরে আসে। রেলমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেয়। তার পরে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল মামলাটি উঠলে সরকারি আইনজীবী জানান, তাঁরা আর ওই মামলায় আগ্রহী নন। তাঁরা মামলা তুলে নিতে চান। ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি খারিজ করে দেয়। তার পরে রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী জানান, ওই মামলায় রেলও যোগ দিয়েছিল। তাই রেল মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার আবেদন জানাবে।
রাজ্য সরকার ওই মামলা তুলে নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে, রেলমন্ত্রীর পদটি তৃণমূলের হাতে না-থাকলেও প্রকল্পটি তো রাজ্যের। তা হলে রাজ্য সরকার মামলা তুলে নিল কেন? তার পরেই রাজ্য সরকার ফের এই আপিল মামলা দায়ের করেছে কলকাতা হাইকোর্টে। |