|
|
|
|
সিটি সেন্টারের প্রস্তাব গৃহীত পর্ষদের বৈঠকে |
নিজস্ব সংবাদদাতা • মেদিনীপুর |
খড়্গপুর শহরের চৌরঙ্গির কাছে সিটি সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা ছিল আগেই। এ বার তাতে সিলমোহর পড়ল। মঙ্গলবার মেদিনীপুর-খড়্গপুর উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে সিটি সেন্টার তৈরির প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। এ বার প্রস্তাব পাঠানো হবে নগর উন্নয়ন দফতরে। তাদের ছাড়পত্র পেলেই কাজ শুরু হবে। পর্ষদের চেয়ারম্যান মৃগেন মাইতি বলেন, “পর্ষদ দীর্ঘদিন আগেই চৌরঙ্গির কাছে ১২০ একর জমি নিয়ে রেখেছিল সিটি সেন্টারের জন্য। এতদিন ন্যূনতম পদক্ষেপও করা হয়নি। এ বার আমরা সিটি সেন্টার তৈরিতে উদ্যোগী হয়েছি। মঙ্গলবারই এ ব্যাপারে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।” প্রাথমিক ভাবে ৮৫ একর জমিতে সিটি সেন্টার তৈরির জন্য প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। নগরোন্নয়ন দফতর যদি জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে জমি অধিগ্রহন করে তবে এই কাজ শুরু হবে। নাহলে পিপিপি (পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ) মডেলেও হতে পারে। সবই নির্ভর করবে নগরোন্নয়ন দফতরের নির্দেশের উপর। পর্ষদের সিইও অরিন্দম দত্ত বলেন, “আমরা ওই জমির বর্তমান অবস্থা, কী ভাবে তার উন্নয়ন ঘটানো যায় তার বিস্তারিত রিপোর্ট নগরোন্নয়ন দফতরে পাঠাব। তারপর তাঁদের সিদ্ধান্ত মতোই কাজ করা হবে।” ২০০৭ সালে চৌরঙ্গির কাছে ১২০ একর জমি নিয়েছিল পর্ষদ। ২০০৮-এ জমি মালিকদের সঙ্গে বৈঠকও করেছিল পর্ষদ। কিন্তু কাজ এগোয়নি। পরে ওই জমি কিনতে তৎপর হয় কিছু ডেভেলপার। দাবি তোলে, ওই জমিতে প্রশাসন কী করবে তা পরিষ্কার করে জানাতে হবে। জোর করে জমি দখল করে রাখা যাবে না। একজন জমি মালিক আদালতেরও যান। আদালত নির্দেশ দেয়, নগরোন্নয়ন দফতরের প্রধান সচিব যেন বিষয়টি শুনানি করে মিটমাট করেন। ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সেই সমাধান করার নির্দেশ দিয়েছিল কোর্ট। প্রশাসন সূত্রে খবর, কোর্টের নির্দেশ পেয়েই নগরোন্নয়ন দফতর পদক্ষেপ শুরু করে। পর্ষদের সঙ্গে বৈঠকও করে ১৩ অগস্ট। ১৬ অগস্ট ওই জমির মালিকের শুনানি হয়। জমিটি নিজেই ডেভেলপ করার জন্য ছাড়পত্র চান মালিক। যেহেতু জমিটি ৮৫ একরের বাইরে (আবার আগের ১২০ একরের মধ্যে) তাই জমি মালিককে অনুমতি দেয় নগরোন্নয়ন দফতর। তবে তার জন্য পর্ষদের নকশা মানতে হবে ও নির্দিষ্ট ফি জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে ৮৫ একরের বাইরে ও ১২০ একরের মধ্যে থাকা কেউ নিজের থেকে ডেভেলপ করতে চাইলে তাঁকেও অনুমতি দেওয়া হবে বলে পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে ৮৫ একর জমিটি পর্ষদ নিজে রাখতে চায়। ওই জমি ডেভেলপ করতে প্রায় দেড়শ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে পর্ষদের অনুমান। বর্তমানে রাজ্যের যা আর্থিক পরিস্থিতি তাতে ওই বৃহৎ অর্থ রাজ্য সরকার খরচ করতে রাজি হবে নাকি পিপিপি মডেলে এগোব তা নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্ষদ ও প্রশাসনিক কর্তাদের। এ ক্ষেত্রে নগরোন্নয়ন দফতর ও পর্ষদ যেন দ্রুত পদক্ষেপ করে, সেই দাবি সকলেরই। মৃগেনবাবু ছাড়াও এ দিন বৈঠকে ছিলেন খড়্গপুরের কংগ্রেস বিধায়ক জ্ঞানসিংহ সোহন পাল, ডেবরার বিধায়ক রাধাকান্ত মাইতি, সদস্য প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী প্রমুখ। |
|
|
|
|
|