টুকরো খবর
কিশোরকে ট্রেন থেকে ধাক্কা, যাবজ্জীবন মহিলার
চলন্ত ট্রেন থেকে এক কিশোর হকারকে ঠেলে ফেলে দেওয়ার দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল এক মহিলার। শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক ফার্স্ট কোর্টের বিচারক শ্যামলকুমার বিশ্বাস বলাগড়ের ডুমুরদহের বাসিন্দা শান্তি রায়কে ওই সাজা দেন। ২০০৪-এর ২২ জুলাই হাওড়া-কাটোয়া শাখার কুন্তিঘাট স্টেশনের কাছে ওই ঘটনা ঘটে। শ্রীরামপুরের বাসিন্দা নীরজকুমার প্রসাদ নামে ওই কিশোরের বয়স তখন ছিল ১৪ বছর। সে দিন নীরজ কুন্তিঘাট স্টেশন থেকে উঠতে গিয়েছিল ডাউন কাটোয়া লোকালের ভেন্ডার-কামরায়। ট্রেনটি চলতে শুরু করায় সে উঠে পড়ে মহিলা-কামরায়। কামরায় ছিলেন এক পুলিশকর্মীর স্ত্রী, নিত্যযাত্রী শান্তি রায়। নীরজকে উঠতে দেখে শান্তি এবং আরও কয়েক জন হইহই করে ওঠেন। ট্রেন প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার পরেই নীরজকে ধাক্কা মারেন শান্তি। রেললাইনে আছড়ে পড়ে তার হাত, বুক ও কোমরে মারাত্মক চোট লাগে। মহিলা-কামরার অন্য যাত্রীরা শান্তিকে ধরে মারধর করে ব্যান্ডেল রেল পুলিশের হাতে তুলে দেন। দীর্ঘ দিন চিকিৎসা চলে নীরজের। তার অভিযোগের ভিত্তিতে ধরা হয় শান্তিকে। বৃহস্পতিবার শান্তিকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। সরকারি কৌঁসুলি কালীপ্রসাদ সিংহরায় বলেন, “বিচারক ওই মহিলাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করেছেন। টাকার অর্ধেক ওই ছেলেটির পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। টাকা অনাদায়ে ওই মহিলাকে আরও দু’বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।” নীরজ এখন যুবক। বর্তমানে রাজস্থানে থেকে রঙের কাজ করেন। তাঁর আর এক জামাইবাবু মোহন সাউ বলেন, “আদালতের রায়ে আমরা খুশি।” এ দিন চেষ্টা করেও শান্তিদেবীর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

বুদ্ধর সভার অনুমতি মিলল
চলতি মাসের ৯ তারিখে আরামবাগের রবীন্দ্রভবনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কর্মিসভার অনুমতি দিল প্রশাসন। কিছু দিন আগে জেলা সিপিএমের পক্ষ থেকে প্রশাসনের কাছে ওই সভার জন্য নিয়মমাফিক আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সভা হলে আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে আরামবাগ থানা রিপোর্ট দেয় হুগলি জেলা প্রশাসনকে। বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা হয়। সিপিএমের হুগলি জেলা সম্পাদক সুদর্শন রায়চৌধুরী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব বাসুদেব বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এ ব্যাপারে স্মারকলিপি দেন। রাজ্য প্রশাসন ফের বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়। হুগলির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) আরামবাগে তদন্তে যান। সেই তদন্ত-রিপোর্টের ভিত্তিতেই শুক্রবার কর্মিসভার অনুমতি মিলল বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।আরামবাগের মহকুমাশাসক অরিন্দম নিয়োগী বলেন, “পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” সিপিএমের জেলা সম্পাদক বলেন, “সভা করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করি। প্রশাসন সজাগ এবং সতর্ক থাকুক।”

যুবককে ক্ষুর, গ্রেফতার প্রেমিক-প্রেমিকা
হাওড়ার বাগনানে এক ব্যক্তির গলায় ব্লেড মারার অভিযোগে ধৃত কৌশিক আইচ ও তার প্রেমিকাকে শুক্রবার উলুবেড়িয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়। কৌশিকের পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজত ও তার প্রেমিকার ১৪ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। বৃহস্পতিবার বিকেলে একটি গাড়িতে করে নবাসনে আসেন কলকাতার যাদবপুরের বাসিন্দা কৌশিক। সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রেমিকা এবং মৃত্যুঞ্জয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির বাসিন্দা কৌশিকের অভিযোগ, মোবাইল ফোনে মৃত্যুঞ্জয় তাঁর প্রেমিকাকে উত্তক্ত করছিল। তাই তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার জন্য বেড়াতে আসার নাম করে নবাসনে আনেন কৌশিক। একটি নির্জন জায়গায় গাড়ি থেকে নেমে তিনি মৃত্যঞ্জয়ের গলায় ব্লেড চালিয়ে দেন। মৃত্যুঞ্জয়ের চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে কৌশিক এবং তাঁর প্রেমিকাকে ধরে ফেলে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পুলিশ তাঁদের গ্রেফতার করে।

বিধবাকে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন
হারু মালিক।—নিজস্ব চিত্র।
এক বিধবাকে শ্বাসরোধ করে খুনের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হল এক ব্যক্তির। শুক্রবার হুগলির শ্রীরামপুর মহকুমা আদালতের ফাস্ট ট্র্যাক সেকেন্ড কোর্টের বিচারক সৌম্যজিৎ মুখোপাধ্যায় চণ্ডীতলার মশাট বিশ্বেশ্বরতলার বাসিন্দা হারু মালিককে ওই সাজা শোনান। পুলিশ জানা গিয়েছে, খুনের ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবর রাতে। বীশ্বেশ্বরতলার বাসিন্দা সোনাই মালিক নামে বছর আটত্রিশের ওই বিধবা খুন হন। পরের দিন সকালে বাড়ির কাছে পানাপুকুর থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ ওই মহিলার প্রতিবেশী হারুকে গ্রেফতার করে। হারু এবং সোনাই দু’জনেই মাছ বিক্রি করতেন। তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। ওই সম্পর্কের জেরেই খুন হতে হয় সোনাইকে। ওই মামলায় মোট ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। বৃহস্পতিবার হারুকে দোষী সাব্যস্ত করেন বিচারক। মামলার সরকারি আইনজীবী অশোক সেন বলেন, “দু’জনের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। মহিলা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। সেই কারণেই ওই ব্যক্তি মহিলাকে খুন করে দেহ পুকুরে ফেলে দেয়। হারুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড।” সাজা শোনার পর হারু অবশ্য দাবি করে, “আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমি ওঁকে মারিনি।” হারুর স্ত্রী আরতিদেবীও বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস স্বামী খুন করেনি।”

বাঁশের আঘাতে খুন মহিলা, ধৃত পড়শি
এক মহিলাকে বাঁশ দিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল তাঁর পড়শি মহিলাকে। বৃহস্পতিবার রাতে হুগলির মগরার ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা কণিকা দেবনাথ (৪০) নামে প্রহৃত ওই মহিলাকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার ভোরে তিনি মারা যান। তাঁর স্বামী নির্মল দেবনাথের অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় পড়শি শুক্লা ঘোষকে। ডিএসপি (ডি অ্যান্ড টি) দেবশ্রী সান্যালের দাবি, “ধৃত মহিলা অপরাধের কথা কবুল করেছেন।” তদন্তকারী অফিসারেরা জানান, ধৃত শুক্লার দাবি, তাঁর স্বামীর সঙ্গে কণিকার বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি জেনে তিনি দু’জনকেই বারণ করেছিলেন। কিন্তু কেউ শোনেননি। এ দিন কণিকা স্বামীকে ডাকার চেষ্টা করতেই তিনি তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। কিন্তু তাঁকে প্রাণে মারতে চাননি। ধৃতকে শুক্রবার চুঁচুড়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁর ১৪ দিন জেল হাজতের নির্দেশ দেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কণিকার সঙ্গে শুক্লাদেবীর স্বামী উত্তমের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা নাগাদ কণিকা উত্তমের বাড়ির জানলার সামনে যান। সেই সময় শুক্লা বেরিয়ে এসে কণিকাকে জাপটে ধরেন। দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। অভিযোগ, আচমকাই একটি বাঁশ তুলে কণিকার মাথায় বসিয়ে দেন শুক্লা। রক্তাক্ত অবস্থায় কণিকা লুটিয়ে পড়েন। উত্তম-শুক্লাই তাঁকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করান।

আইন অমান্য
শুক্রবার চুঁচুড়ায় ‘আইন অমান্য’ সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের। ছবি: তাপস ঘোষ।
পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে মহিলাদের উপর ‘ক্রমবর্ধমান’ নির্যাতন-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের ‘ব্যর্থতা’র প্রতিবাদে শুক্রবার হুগলির জেলা সদর চুঁচুড়ায় ‘আইন অমান্য’ করল সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। হাজারখানেক আন্দোলনকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ দিন বিকেলে চুঁচুড়া স্টেশন চত্বর থেকে বিশাল মিছিল করে ঘড়ির মোড়ে যান আন্দোলনকারীরা। মহিলারাও তাতে সামিল হন। পুলিশ সুপারের দফতরের সামনে ‘আইন অমান্য’ করা হয়। দলের নেতা সজল অধিকারী বলেন, “রাজ্যে গণতন্ত্র ভুলুণ্ঠিত। মহিলাদের উপর অত্যাচার বেড়েই চলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদিচ্ছা দেখা যাচ্ছে না রাজ্য সরকারের। মুখ্যমন্ত্রীর কাজকর্মে গণতন্ত্রের প্রতি অসহিষ্ণুতা প্রকাশ পাচ্ছে।”

যুবতীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ
বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফুসলিয়ে এনে যুবতীকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ উঠল ‘প্রেমিক’-সহ তাঁর পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে। মাস ছয়েক আগে উত্তর ২৪ পরগনার দেগঙ্গার বাসিন্দা তনুজা বিবি (৩০) নামে বিধবা ওই যুবতী ও তাঁর তিন শিশুপুত্রকে নিয়ে আরামবাগের চকমদন গ্রামে আসেন ‘প্রেমিক’ দেওয়ান বাদশা আলম। গত সোমবার অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তনুজাকে আরামবাগ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শুক্রবার সকালে তিনি মারা যান। তনুজার বাবা পুলিশের কাছে ওই অভিযোগ দায়ের করে জানান, দেওয়ান মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রাখেনি। মেয়ের সব টাকাপয়সা কেড়ে নিয়ে তাঁকে পুড়িয়ে মারা হয়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তেরা পলাতক।

ছাত্রীদের কটূক্তি ও মার, ধৃত কিশোর
ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় বৃহস্পতিবার বিকেলে আরামবাগের কানপুরে মারধর করা হয় চার স্কুলছাত্রীকে। সেই ঘটনায় জড়িত অভিযোগে আরও এক কিশোরকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে কানপুর গ্রামেরই বাসিন্দা বছর তেরোর ওই কিশোরকে ধরা হয়। সে-ই মূল অভিযুক্ত। সে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পরেই গ্রেফতার করা হয় বছর এগারোর আর এক অভিযুক্তকে। আর এক অভিযুক্ত এখনও অধরা। ধৃতদের জুভেনাইল আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই চার ছাত্রী কানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে। তাদের বয়ান অনুযায়ী ওই তিন কিশোরের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক সইফুদ্দিন আহমেদ। আহত ছাত্রীদের আরামবাগ আদালতে ভর্তি করানো হয়।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.