বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
ছবি তুলেই ‘আপলোড’, সচেতনতার নতুন দিশা
খন-তখন মোবাইলে ছবি তোলা এবং সোজা দিয়ে দেওয়া ফেসবুক-টুইটার-অর্কুটের পাতায় এই অভ্যাসটাই এখন এক সুতোয় গাঁথে একটা গোটা প্রজন্মকে। ছবির তালিকায় শুধু প্রেমিকার সাজ কিংবা কফিশপের আড্ডা নয়, পুজো থেকে ফ্যাশন শো, মিটিং-মিছিল-যানজট থেকে জমা জলের দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা থেকে দুর্যোগ, অপরাধ থেকে অব্যবস্থা সবকিছুই। অনেক ক্ষেত্রে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে দেওয়া এমন ছবির সূত্রেই ধরা পড়ছে অভিযুক্ত। অপরাধ-দুর্নীতির ছবি বা ভিডিও ঘিরে এই সব সাইটে তুমুল আলোচনা বা বিতর্কে গড়ে উঠছে জনমত, কিছু ক্ষেত্রে যা মানসিক জোর বাড়িয়ে, আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে সুবিচার পাওয়ার লড়াইয়েও এগিয়ে দিচ্ছে। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনের যাবতীয় খুঁটিনাটির ছবি দেওয়া তো আছেই। বিয়ে থেকে হানিমুন, রান্না থেকে আড্ডা সবই হাজির এ সব সাইটের পাতায়।
কিন্তু সোশ্যাল নেটওয়াকির্ং সাইটে ছবি ‘শেয়ার’ করার এই প্রবণতা এগিয়ে দিচ্ছে ঠিক কোন দিকে? ব্যক্তিগত জীবনটাকে হাটখোলা করে আরও প্রশস্ত করে দিচ্ছে সাইবার অপরাধের পথ? নাকি জুগিয়ে দিচ্ছে যে কোনও সমস্যা-দুর্ভোগ-বিতর্কে বিশ্বজুড়ে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা, গড়ে তুলছে জন-সচেতনতা? এ প্রশ্নে ভিন্নমত সমাজের বিশিষ্টেরা। কেউ সওয়াল করছেন এ প্রবণতার সমাজের ভাল করার ক্ষমতা নিয়ে, কেউ বা এতেই দেখছেন সিঁদুরে মেঘ।
স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে কমবয়সী চাকুরে এ প্রজন্মের একটা বড় অংশই যখন-তখন মোবাইল হাতে ছবি তোলেন। আর সব ছবিই সোজা দিয়ে দেন ফেসবুক-টুইটার-অর্কুটে। মাস কয়েক আগে এক ভূমিকম্পে অফিসপাড়ায় হেলে পড়া বহুতলের ‘অ্যামেচার’ ছবি কিংবা বর্ষায় পাড়ায় পাড়ায় জমা জলের ভোগান্তির চেহারাটাও এ ভাবেই পৌঁছেছে ঘরে ঘরে। সম্প্রতি গুয়াহাটিতে এক তরুণীর শ্লীলতাহানির ভিডিও-ও এ সব সাইটে দেখেই প্রতিবাদের ঝড় ওঠে কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ায়। অনেক ক্ষেত্রে আবার এ ভাবে ছবি আপলোড করা খুলে দিচ্ছে সাহায্যের পথও। রাস্তায় একটা দুর্ঘটনা দেখেছিলেন এক তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। অজ্ঞাতপরিচয় আহতের ছবি মোবাইলে তুলে তিনিই দিয়ে দেন দু’টি সাইটে।
মোবাইলে ছবি তুলে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে দেওয়ার এই সুযোগকে তাই সাধারণ মানুষের ক্ষমতাবৃদ্ধি হিসেবেই দেখছেন সমাজতত্ত্ববিদ অভিজিৎ মিত্র। তাঁর কথায়, “ঠিক যে ভাবে বিভিন্ন সংস্থা বা দফতর সিসিটিভির নজরদারি চালায়, তেমনই সাধারণ মানুষেরও ক্ষমতা আছে নজরদারি করার সমাজের সর্বত্র এই বার্তাটা পৌঁছে দেওয়া গেলে অপরাধ-দুর্নীতি-অব্যবস্থায় জড়িতদের কাছে এটা একটা হুঁশিয়ারি হয়ে উঠবে। এটা নিঃসন্দেহে সাধারণ মানুষের ক্ষমতায়ন।”
একমত অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর কথায়, “অপরাধ, অব্যবস্থার ছবি তুলে এ সব সাইটে দিয়ে দেওয়া মানেই তো পৌঁছে গেল গোটা বিশ্বের কাছে। এতেই একটা চাপ তৈরি হয়। অথচ হয়তো সূত্রপাত করেছিলেন খুব সাধারণ কেউ। আজকাল তো অভিযোগ, ক্ষোভ উগরে দেওয়ার জায়গাও এই সাইটগুলোই। তখন নড়েচড়ে বসা ছাড়া উপায় থাকে না। সব কিছুরই খারাপ দিক থাকে। তা বলে ভাল দিকটাকে অস্বীকার করতে হবে?”
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) পল্লবকান্তি ঘোষও মানছেন, “কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে ধরতে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছড়িয়ে পড়া ছবি আমাদের সাহায্য করে। তবে শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকরী হবে তা বিচারের উপরে নির্ভর করে।” যদিও তিনি মনে করিয়ে দেন, “অপরাধ বা সমস্যাকে ক্যামেরাবন্দি করে সাইটে দেওয়া নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে কিন্তু পাল্টা প্রশ্নও উঠছে। সম্প্রতি একটি ঘটনায় আধঘণ্টা ধরে ভিডিও তোলার যৌক্তিকতা নিয়ে বিতর্কও বেধেছে।”
মোবাইলে ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘শেয়ার’ করার এই প্রবণতাটা তবে কি মোটের উপর ভাল চোখেই দেখছে সমাজ? যা হয়ে উঠছে জন-সচেতনতা তৈরির হাতিয়ার?
মানছেন না অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “এ সব সাইটে লোকে সাধারণত হাল্কা মেজাজে সময় কাটায়। তখন সচেতনতা গড়ে তোলার মতো গুরুগম্ভীর বিষয়গুলো কি ততটা গুরুত্ব পায়? বরং অশালীনতা বা সাইবার অপরাধের সুযোগ অনেক বেশি।” সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যেরও প্রশ্ন, “সত্যিই কি এ ভাবে সচেতনতা বাড়ে? শ্লীলতাহানি, ধর্ষণ বা আক্রান্তের ছবি কি সকলেই দেখেন সেই জায়গা থেকেই? নাকি নিছক কৌতুহলে বা আনন্দ পেতে?”





First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.