সম্পাদকীয় ১...
অন্ধকারই ভবিতব্য?
ষাট কোটি ভারতসন্তানকে এক সূত্রে গাঁথা বড় সহজ কাজ নহে। গত মঙ্গলবার সেই কাজটি সাধিত হইয়াছে আলোয় নহে, অন্ধকারে। দেশের পাঁচটি বিদ্যুৎ-গ্রিডের মধ্যে তিনটি উত্তর, পূর্ব এবং উত্তর-পূর্ব একই সঙ্গে বিকল হইল। ফলে, উত্তর ও পূর্ব ভারত অন্ধকারে নিমজ্জিত হইল। সোমবারও অপেক্ষাকৃত ছোট মাপে একই ঘটনা ঘটিয়াছিল। সে দিন উত্তর ভারত বিদ্যুৎহীন হইয়াছিল, ২২ কোটি মানুষ সমস্যায় পড়িয়াছিলেন। এই বিপর্যয়ের একটি আপাত-কারণ আছে দেশের উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলি তাহাদের ঘোষিত সীমার অতিরিক্ত বিদ্যুৎ টানিয়া লইতেছিল। কাজটি বেআইনি, কিন্তু যেহেতু কঠোর শাস্তির বালাই নাই, ফলে রাজ্যগুলি নির্দ্বিধায় এই কাজটি করিয়া থাকে। উত্তর ভারতে বর্ষায় ঘাটতি পড়িয়াছে। ফলে, কৃষিক্ষেত্রে সেচের উপর নির্ভরতা আরও বাড়িয়াছে। তাহার ফলে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়িয়াছে। ফলে, গ্রিডের উপর চাপ বাড়িতেছিল। এক সময় ব্যবস্থাটি ভাঙিয়া পড়িয়াছে। তবে, বিপর্যয়ের মাত্রা এতখানি হওয়া অনিবার্য ছিল কি না, সে বিষয়ে সংশয় আছে। অতি দ্রুত তৎপর হইলে হয়তো অপেক্ষাকৃত অল্পে নিস্তার পাওয়া যাইত। যাঁহাদের উপর দায়িত্ব ছিল, তাঁহারা সম্ভবত ঘুমাইয়া পড়িয়াছিলেন।
কিন্তু, এই বিপর্যয় নির্জলা দুর্ঘটনা নহে। বস্তুত, এমন অঘটনই এক অর্থে অবশ্যম্ভাবী হইয়া উঠিয়াছে। মূল কারণ, ভারতে বিদ্যুতের চাহিদা যতখানি, জোগান তাহার অপেক্ষা কম। বৃষ্টি কম হইলে সেচের জন্য অধিকতর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হইবে, অথবা তীব্র গ্রীষ্মে মানুষ বাতানুকূল যন্ত্র চালাইবে, তাহাতে যদি কর্তারা বিস্মিত অথবা নারাজ হন, তবে মুশকিল। সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করাই বিধেয়। সেই বাড়তি বিদ্যুতের উৎস তাপশক্তিই হইবে। পরিবেশ-বান্ধব বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি বিষয়ে ভাবিতে হইবে, পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথেও নিরাপত্তার শর্ত মানিয়া অগ্রসর হইতে হইবে সবই ঠিক, কিন্তু এগুলি যদি আদৌ ফলপ্রসূ হয়, তাহা দীর্ঘমেয়াদে হইবে। স্বল্প বা মধ্যম মেয়াদে তাপশক্তির উপর নির্ভরশীল থাকাই একমাত্র উপায়। একাদশ যোজনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যতখানি বাড়িবার কথা ছিল, তাহার তুলনায় ৭০০০ মোগাওয়াট কম বাড়িয়াছে। অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়াই যে ভবিতব্য হইবে, তাহাতে আর সন্দেহ কি?
বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজটি বহুলাংশে প্রশাসনিক জটে আটকাইয়া পড়িয়াছে। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির জন্য যে কয়লা বরাদ্দ হওয়ার কথা, তাহা হয় নাই। এই জুলাইয়ে জানা গিয়াছে, কয়লা বরাদ্দ না হওয়ার কারণে এন টি পি সি প্রায় ১১,০০০ মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজ স্থগিত রাখিতে বাধ্য হইয়াছে। কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রক, কয়লা মন্ত্রক এবং পরিবেশ মন্ত্রকের মধ্যে যে ন্যূনতম বোঝাপড়া দরকার, দৃশ্যতই তাহা নাই। কয়লা উত্তোলনের কী প্রভাব পরিবেশের উপর পড়িবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনে পড়িবে, এবং তাহার প্রতিকারে কী করা বাঞ্ছনীয়, তাহার কোনও নির্দিষ্ট সূত্র নাই। পরিবেশ মন্ত্রকের ছাড়পত্রের অভাবে তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প কয়লা পাইতেছে না। পাশাপাশি, বিদেশি কয়লার দাম গত এক বৎসরে বিপুল হারে বাড়িয়াছে। সেই দামে কয়লা কিনিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন করিতে হইলে যে দামে বিদ্যুৎ বেচিতে হয়, তাহা ধার্য করিবার সাহস কোনও রাজনৈতিক দলেরই হয় না। তাহার উপর নূতন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জমি লইয়া রাজনৈতিক জটিলতা আছে, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা আছে। পশ্চিমবঙ্গে দুটি অতি জরুরি প্রকল্প কাটোয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং আলিপুরদুয়ারে পাওয়ার গ্রিড কর্পোরেশনের সাব স্টেশন জমির জটিলতায় আটকাইয়া আছে। কী উপায়ে সেই জটিলতা কাটিবে, তাহা সন্ধানের চেষ্টা নাই। সব সমস্যা সম্মিলিত সুরে বলিতেছে, কেন্দ্রীয় সরকার চরম নীতিপঙ্গুত্বে ভুগিতেছে। তাহারই ফল সোম-মঙ্গলের অন্ধকার।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.