অগ্নি নির্বাপণ বিধি নিয়ে অভাব সচেতনতার, বেহাল দমকলও
প্রত্যাশা অনেকটা। কিন্তু তা পূরণের জন্য যে পরিকাঠামো দরকার, তা আছে কতটা? রাজ্য জুড়েই দমকলের হাল-হকিকত নিয়ে এই প্রশ্নটা দীর্ঘদিন ধরেই উঠছে পরিকাঠামোই প্রধান অন্তরায় দমকলকর্মীদের কাজে। রাজ্যের প্রক্ষিতে হুগলি জেলার ছবিটা কিছু আলাদা নয়।
হুগলি জেলা দমকলের (‘এফ’ ডিভিশন) সদর দফতর শ্রীরামপুরে। ‘এফ’ ডিভিশনের অধীনে ১১টি দমকল কেন্দ্র আছে। উত্তরপাড়া থেকে শুরু করে বর্ধমানের দেবীপুর স্টেশনের আগে পর্যন্ত, অন্য দিকে আরামবাগ, চণ্ডীতলা, জাঙ্গিপাড়া বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ছুটে বেড়াতে হয় এই বিভাগকের কর্মীদের। কাজের বড় অংশই গ্রামাঞ্চল। বড় আগুন লাগলে অন্য জেলাতেও যেতে হয়। ব্যারাকপুর, বজবজের মতো শিল্পাঞ্চল এমনকী কলকাতার নানা প্রান্তেও যেতে হয় এখানকার কর্মীদের। গঙ্গাসাগর মেলাতেও এখান থেকে গাড়ি পাঠানো হয়।
এখন দেখা যাক পরিকাঠামো কী হাল।
গ্রামগঞ্জের বহু জায়গাতেই একফালি মাটির রাস্তা, কোথাও মোরাম বিছানো। দমকল সূত্রেই খবর, অনেক জায়গাতেই সরু রাস্তার জন্য বড় গাড়ি ঢোকে না। শহরেও অনেক গলি-ঘুপচি রয়েছে। এ সমস্ত জায়গায় আগুন লাগলে একমাত্র বিকল্প ছোট গাড়ি, যা কিনা অনেক দমকল কেন্দ্রেই নেই। শ্রীরামপুরে সদর কেন্দ্রেও আগুন নেভানোর ছোট গাড়ি নেই। দমকলকর্মীদের অভিজ্ঞতা বলছে বড় গাড়ি না ঢোকায় দূড়ে গাড়ি দাঁড় করিয়ে বেশ কয়েকটি হোর্স পাইপ জুড়ে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে তাঁদের। সম্প্রতি রিষড়ার হেস্টিংস জুট মিলের লাইন কোয়ার্টারেও একই পরিস্থিতি হয়। দমকলের নিয়মবিধি না মেনে সরু অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো একের পর এক আবাসন গজিয়ে উঠেছে বা উঠছে। এই সমস্ত আবাসনে আগুন লাগলে অথবা আপৎকালীন কোনও পরিস্থিতিতে দমকলের বড় গাড়ি ঢোকা কার্যত অসম্ভব। অভিযোগ, সরেজমিনে পরিদর্শন ছাড়াই পুরসভা-সহ বিভিন্ন দফতরের ‘গোপন আঁতাতে’ এই সমস্ত আবাসন গড়ে উঠেছে বা উঠছে। বছরের পর বছর ধরে এই অভ্যাস চলে আসছে।
বহু জায়গাতেই, বিশেষত শহরাঞ্চলে জলের সমস্যা প্রকট। অভিযোগ, বহুতল এবং বিভিন্ন মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আদৌ এ বিষয়ে মাথা ঘামান না। শ্রীরামপুর স্টেশন-সংলগ্ন সুপার মার্কেটের আশপাশে জলের কোনও উৎস নেই। সে ক্ষেত্রে কোনও ভাবে বড় আগুন লাগলে কী ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে, তার উত্তর দমকলকর্মীদের কাছেই নেই। শ্রীরামপুর ওয়ালশ হাসপাতালেও অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই মহকুমা হাসপাতালেও জলের উৎস নেই। দমকলকর্মীরা জানাচ্ছেন, আগুন লাগলে গঙ্গা থেকে জল তুলে কাজ করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। শেওড়াফুলি হাট ঘিঞ্জি জায়গায়। প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে হাটের এলাকা। কয়েকশো স্থায়ী দোকান রয়েছে। অস্থায়ী ভাবেও বহু মানুষ কেনাবেচা করেন ডালা নিয়ে। ঘিঞ্জি গলিতে প্লাস্টিকের ছাউনি টাঙিয়ে বিক্রিবাট্টা চলে এখানে। কোনও আপৎকালীন সমস্যা হলে দমকলের গাড়ি ঢোকার সমস্যা রয়েছে এখানেও। অথচ, অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা নিয়ে মাথা ঘামায় না কেউ।

(চলবে)



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.