উৎপাদন বাড়াতে লোকসানে চলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (পিডিসিএল)-এর পরিচালন ব্যবস্থা ঢেলে সাজছে রাজ্য। কোল ইন্ডিয়ার কয়লা কেনা থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের শেষ ধাপ পর্যন্ত বাড়তি পেশাদারিত্ব আনতে চায় সরকার।
রাজ্য বিদ্যুৎ দফতর মনে করছে, এতে নিগমের বর্তমান পরিকাঠামোতেই যেমন উৎপাদন কিছুটা বাড়বে, তেমনই লোকসানেও খানিকটা রাশ টানা যাবে। মহাকরণ সূত্রে খবর, চেয়ারম্যান ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদের বিকল্প খোঁজা শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিদ্যুৎ -মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত বলেন, “নিগমকর্তারা দক্ষতার সঙ্গে চটজলদি সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। দায়িত্ববোধ ও নজরদারির অভাবে লোকসান হচ্ছে। তাই পরিচালনায় নতুন মুখ আনার কথা ভাবছি।”
বাম আমলের শেষ দিকে নিগমের কাজে দক্ষতা আনতে কিছু পদে এনটিপিসি থেকে অভিজ্ঞ কর্তাদের এনে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ দফতরের যুক্তি, এর ফলে আগে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে উৎপাদন ক্ষমতার সর্বাধিক ৬০-৬৫%-এর বেশি কাজে লাগানোর কথা নিগম কর্তারা ভাবতে না-পারলেও, এখন উন্নতি হয়েছে। উৎপাদন ক্ষমতা সামান্য হলেও বেড়েছে।
তবে দফতর সূত্রে খবর, সম্প্রতি কোল ইন্ডিয়ার কয়লা কেনা নিয়ে এক ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎমন্ত্রী। দফতরের এক কর্তা জানান, নিগমে নিম্নমানের কয়লা বেশি লাগে। কিন্তু গত ক’মাসে ইস্টার্ন কোলফিল্ডস রানিগঞ্জের দামি কয়লা পাঠিয়েছে। ফলে উৎপাদন খরচও ইউনিটে ২০-২৫ পয়সা বেড়েছে। এটা জেনে বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘনিষ্ঠ মহলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেন তা ফেরত পাঠানো হল না, সে প্রশ্নও তোলেন। রাজ্যের প্রাক্তন বিদ্যুৎ মন্ত্রী নিরুপম সেন অবশ্য জানান, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারদের নিগমের মাথায় বসালে, অবস্থা বদলাতে পারে। তিনি বলেন, “বেশি উৎপাদন ক্ষমতার কেন্দ্র চালানোর মতো কর্মীও নিগমের নেই।”
কোলাঘাট, ব্যান্ডেল, বক্রেশ্বর, সাঁওতালডিহি, সাগরদিঘি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সম্মিলিত উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৭০০ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন গড় উৎপাদন ২৬০০-২৮০০ মেগাওয়াট। যা বণ্টন সংস্থার মাধ্যমে সারা রাজ্যে সরবরাহ করা হয়। |