কলেজ চত্বরে বহিরাগতদের প্রবেশকে ঘিরে ছাত্র পরিষদ, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) ও এসএফআই সমর্থকদের মধ্যে অল্পবিস্তর হাতাহাতি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাট কলেজে এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ছাত্র সংসদের অফিসে সামান্য ভাঙচুর হয়েছে বলে অভিযোগ এসএফআইয়ের।
অধ্যক্ষ শিবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করতে ছাত্রছাত্রীদের উপযুক্ত প্রমাণপত্র দেখে কলেজে ঢোকানো হচ্ছিল। এ দিন এক ছাত্র কলেজের গেটে চেয়ার আনার নাম করে ইউনিয়নে যায়। তার পরে শুনলাম অল্পবিস্তর ভাঙচুর হয়েছে।” তাঁর দাবি, “পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার সময়ে রামপুরহাট কলেজকে রায়গঞ্জ বানানো হবে বলে এক দল ছাত্র ও বহিরাগতরা আমাকে হুমকি দেয়। তবে এই হুমকির ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও নানা কারণে আমাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।” তবে তিনি এ ব্যাপারে কোথাও অভিযোগ করেননি।”
এই কলেজে ছাত্র সংসদের ক্ষমতায় রয়েছে এসএফআই। এ দিন ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক সরিফুল ইসলাম ছাত্র সংসদের প্যাডে কয়েক জন ছাত্রের নাম উল্লেখ করে অধ্যক্ষের কাছে ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন। ওই ছাত্ররা কোন সংগঠনের তিনি উল্লেখ করেননি। তবে এসএফআই সমর্থকদের দাবি, অভিযুক্তরা টিএমসিপি ও ছাত্র পরিষদের সমর্থক। |
অন্য দিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিএমসিপি ও ছাত্র পরিষদের পক্ষে কলেজ ইউনিট সভাপতি ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, “কলেজে বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করতে অধ্যক্ষ নোটিস জারি করেছিলেন, কলেজে ঢোকার আগে লাইব্রেরি কার্ড বা এই কলেজের পড়ুয়া হিসেবে অন্য কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। অথচ ইউনিয়নে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বহিরাগতরা আড্ডা মারছে। পড়ুয়ারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। কয়েক জন সমর্থক বাধা দিতে গেলে এসএফআই সমর্থকেরা মারধর করে। আমরাও তিন-চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি।”
সরিফুল ইসলামের পাল্টা দাবি, “বহিরাগতদের ঢোকা বন্ধ করতে আমরাই অধ্যক্ষের কাছে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলাম। সেই মতো অধ্যক্ষ প্রমাণপত্র দেখিয়ে ঢোকার নির্দেশ জারি করেন। এ দিন বেলা ১১টা নাগাদ বহিরাগতরা কলেজে ঢোকার চেষ্টা করে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও সংগঠনের সদস্যরা বাধা দিলেও কাজ হয়নি। উল্টে তারা ইউনিয়নে ভাঙচুর করে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।” অধ্যক্ষ জানান, বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ করতে ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগী হতে হবে।অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন পড়ুয়ারা। |