ফের শহরের জঞ্জাল সাফাই নিয়ে বিপাকে পড়তে হয় মালদহের ইংরেজবাজার পুর কর্তৃপক্ষকে। গত সোমবার থেকে ইংরেজবাজার শহরের জঞ্জাল সাফাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শহর জুড়ে জমা হয়ে রয়েছে আবর্জনার স্তূপ। জঞ্জাল ফেলার কোনও স্থায়ী জায়গা না-থাকায় পুর কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন এলাকায় তা জমা করছেন। জমা জঞ্জালে সেই এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলেই এলাকার বাসিন্দারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করছেন। তখন পুর কর্তৃপক্ষকে ফের নতুন জায়গা খোঁজে নামতে হচ্ছে। গত কয়েক মাস ধরে সাহাপুর এলাকায় জঞ্জাল ফেলা হচ্ছিল। গত সোমবার ওই এলাকার মহিলারা আন্দোলনে নামলে এখনও নতুন কোনও জায়গার সন্ধান মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে গোটা ঘটনায় দায় জেলা প্রশাসনের উপরে চাপিয়ে দিয়েছেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, “জঞ্জাল ফেলার জায়গার জন্য জেলাশাসকের কাছে বহুবার চিঠি পাঠিয়ে সাহায্যে চেয়েছি। জেলা প্রশাসন সাহায্য করছে না। যেখানে জঞ্জাল ফেলার জায়গা করছি সেখানে জমির দালালরা স্থানীয় বাসিন্দাদের উসকে দিয়ে আবর্জনা ফেলার কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। এমন চলতে থাকলে শহরের বাসিন্দাদের নিয়ে নাগরিক কনভেনশন ডাকব।” |
স্কুল মাঠে জঞ্জাল। ছবি: মনোজ মুখোপাধ্যায়। |
মালদহের জেলাশাসক শ্রীমতি অর্চনা বলেন, “চেয়ারম্যান বলুন উনি কী সাহায্য চান। আমরাও চাইছি শহরের জঞ্জাল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক। জঞ্জাল সমস্যার সমাধান পুরসভাকেই করতে হবে।” ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের চন্দন পার্কে পুরসভার স্থায়ী ভাগাড় হাতছাড়া হওয়ার পর থেকেই শহরের জঞ্জাল ফেলা নিয়ে প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে ইংরেজবাজার পুর কর্তৃপক্ষকে। স্থায়ী ভাগাড় হাতছাড়া হওয়ার পর কয়েক লক্ষ টাকা বায়না দিয়ে মহানন্দা পল্লীর কাছে ভাগাড়ের জন্য জমি কিনতে উদ্যোগী হন পুর কর্তৃপক্ষ। সেখানেও কয়েকদিন জঞ্জাল ফেলার পর এলাকার বাসিন্দাদের প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। ফলে বায়না দিয়েও সেই জমি কেনা যায়নি। এরপর ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের দু’ধারে জঞ্জাল ফেলা শুরু হয়। কয়েক মাস সেখানে জঞ্জাল ফেলার পরে আশেপাশে এলাকার বাসিন্দারা দুর্গন্ধে অতিষ্ট হয়ে বাধা দেন। মাঝে কাজীগ্রামের কাছে শহরের জঞ্জাল ফেলতে গিয়ে পুরকর্মীরা গ্রামবাসীদের হাতে মার খেয়ে ফিরে আসেন। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ২০০ মেট্রিক টন জঞ্জাল বিবেকানন্দ স্কুলের পাশের মাঠে, রাস্তার ধারে জমা হয়ে রয়েছে। কয়েকদিন আগে সেই জমা জঞ্জালে আগুন লেগে গিয়ে দুইটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পুর চেয়ারম্যান বলেন, “আপাতত ৬ মাসের জন্য অস্থায়ীভাবে একটি ভাগাড় খুঁজতে হবে। তারপর জার্মানির একটি সংস্থা শহরের সমস্ত পচনশীল জঞ্জল নিয়ে সার ও বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। তখন আর শহরের জঞ্জাল নিয়ে কোনও সমস্যা থাকবে না। ইংরেজবাজার পুরসভার বিরোধী দলনেতা সিপিএমের শুভদীপ সান্যাল অবশ্য পুর চেয়ারম্যানের সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেন, “জঞ্জাল সমস্যা নিয়ে চেয়ারম্যানের সদিচ্ছা নেই। যদি থাকত তবে সমস্যা মেটাতে আগেই নাগরিক কনভেনশন ডেকে আমাদের সাহায্য চাইতেন। সমস্ত কাজ ফেলে জঞ্জাল সাফাইকে অগ্রাধিকার দিয়ে শহরকে দুষণমুক্ত করা উচিত। নইলে শহরের মানুষ আরও সমস্যায় পড়বেন।” |