কাউকে ছাড় নয়, বললেন মমতা
মরি-কাণ্ডে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে কেউ কোনও গাফিলতি করলে তাঁকে ছাড়া হবে না বলে বুধবার পরিষ্কার করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনায় অভিযুক্ত হাসপাতাল-কর্তারা ‘প্রভাব খাটিয়ে’ ছাড়া পেয়ে যাবেন কি না, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বুধবার স্টার আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, “কেউ কোনও গাফিলতি করলে তাঁকে ছাড়া হবে না। যারা আগুন লাগার দু’ঘণ্টা পরে পুলিশকে খবর দিল, তাঁদের জন্য কোনও ক্ষমা নেই।” ঘটনার পরে আমরি-কর্তাদের সঙ্গে সিপিএমের যোগাযোগের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। সেই সূত্রেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমি যদি এসেই কিছু করতে যেতাম, আমাদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসাপরায়ণতার অভিযোগ উঠত।”
আমরি-র ঘটনায় শিক্ষা নিয়ে তাঁর প্রশাসন বেআইনি বাড়ি বা হাসপাতাল চিহ্নিত করতে শুরু করেছে বলে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দমকল ও পুরসভাকে বলেছি অভিযান চালাতে। কিন্তু যদি দেখা যায়, ৯০% বাড়িই বেআইনি, এবং সরকার যদি সব বাড়ি-হাসপাতাল ভাঙতে শুরু করে, মানুষগুলো তা হলে যাবে কোথায়? তাই সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছি। তা না-মানলে কড়া ব্যবস্থা নিতেই হবে। দয়া করে তখন কেউ ভুল বুঝবেন না।” মঙ্গলবার আমরিতে হাসপাতাল-কর্মীদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, মমতা তখন কর্মীদের একাংশকে চড় মারার কথা বলেন। যে প্রসঙ্গে এ দিন তাঁর মন্তব্য, “৯০ জন মানুষ মারা গিয়েছেন! চড় মারা তো অনেক কম! ওঁদের ফাঁসি হওয়া উচিত।”
বস্তুত ঢাকুরিয়ার ওই হাসপাতাল-কর্তৃপক্ষ যে কতটা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীনতা’র পরিচয় দিয়েছেন, পুলিশি তদন্তেও তা ক্রমশ পরিষ্কার হচ্ছে। পুলিশ জেনেছে, হাসপাতালের পরিচালন সমিতির সদস্যেরা জানতেন যে, আবর্জনায় দখল হয়ে গিয়েছে বেসমেন্ট। তবু জঞ্জাল সরেনি। তাই ওঁরা দায় এড়াতে পারেন না বলে মনে করেন গোয়েন্দা-পুলিশের তদন্তকারী অফিসারেরা। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতালের এজিএম (রক্ষণাবেক্ষণ) সঞ্জীব পাল সেপ্টেম্বরে দমকলকে যে হলফনামা দেন, নভেম্বরে পরিচালন সমিতির বৈঠকে তার বয়ান নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। সিদ্ধান্ত হয়েছিল, দমকলের নির্দেশ মেনে ৩ মাসের মধ্যে বেসমেন্ট ফাঁকা করার ব্যাপারটা ভেবে দেখা হবে। তা-ও বেসমেন্ট কেন খালি হল না, আমরি-কর্তাদের জেরা করে তার ব্যাখ্যা মেলেনি বলে জানান তদন্তকারীরা।
কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ দমন) দময়ন্তী সেন বলেন, মাস তিনেক আগে আমরি-র এক বিভাগে ছোট আগুন লেগেছিল। দমকলকে সে খবর দেওয়ার জন্য হারাধন চক্রবর্তী নামে এক নিরাপত্তারক্ষীকে ক’দিনের জন্য সাসপেন্ড হতে হয়। হারাধনবাবু-সহ আমরি-র কয়েক জন নিরাপত্তাকর্মীকে এ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আগুন লাগার খবর কী ভাবে প্রশাসন পেয়েছিল, সে সম্পর্কে ধোঁয়াশা কেটেছে। দময়ন্তী সেনের কথায়, “সে দিন ভোর ৪টে ১০ মিনিটে দমকলে (১০১) প্রথম ফোনটি করেন হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর আত্মীয় সুশান্ত গোলদার। দমকল জানায় লালবাজার কন্ট্রোলে। সেখান থেকে খবর যায় লেক থানায়।” তিনি আরও জানান, প্রায় একই সময়ে লালবাজারে (১০০) ফোন করেছিলেন সাজিদ। পুলিশের দাবি: সাজিদ বলেছেন, তার আগে পৌনে এক ঘণ্টা তিনি আগুন লাগার খবরটা হাসপাতাল-কর্তাদের জানাতেই ব্যস্ত ছিলেন। কাদের, কখন তিনি ফোন করেছিলেন পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে।
এ দিকে পঞ্চাননতলা বস্তির কিছু যুবকের জন্য আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করলেন আমরি-কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, যে ৬৫ জনকে রাজ্য সম্মান জানিয়েছে, তাঁদের ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। বস্তির যাঁরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাঁদের নিখরচায় চিকিৎসা হবে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিজনদের ক্ষতিপূরণ-সহ বিভিন্ন (তদন্ত ছাড়া) বিষয়ে সাহায্য করতে বিমল সাহা নামে গোয়েন্দা বিভাগের এক কর্মীকে ‘নোডাল অফিসার’ নিযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ৮৬৯৭১০০১০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.