|
|
|
|
মমতার আপত্তি, চটের ব্যাগের ব্যবহার কমাচ্ছে না কেন্দ্র |
নিজস্ব সংবাদদাতা • কলকাতা |
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে খাদ্যশস্য ও চিনি প্যাকেজিংয়ে চটের ব্যাগের ১০০ শতাংশ বাধ্যতামূলক ব্যবহার কমানোর প্রস্তাব থেকে পিছু হঠল কেন্দ্র। মঙ্গলবারই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল আপত্তিকে মর্যাদা দিয়ে পেট্রোলের দাম কমানো হয়েছে। তার ২৪ ঘণ্টা পরেই এই সিদ্ধান্ত। তবে এ জন্য যথেষ্ঠ ঘাম ঝরাতে হয়েছে রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে। বুধবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থ বিষয়ক কমিটির বৈঠকে খাদ্যশস্য ও চিনির প্যাকেজিংয়ের জন্য চটের ব্যাগের বাধ্যতামূলক ব্যবহার ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯০ শতাংশ করার প্রস্তাব ওঠে। চিনি কল ও খাদ্যশস্য সরবরাহকারীরা অনেক দিন ধরেই এই দাবি করে আসছিল। তাদের যুক্তি, যে হারে খাদ্যশস্য ও চিনির উৎপাদন বেড়েছে, সেই অনুযায়ী চটের ব্যাগের সরবরাহ বাড়েনি।
আবার কেন্দ্র এই সিদ্ধান্ত নিলে পশ্চিমবঙ্গের চট শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আসছে বামেদের পাশাপাশি তৃণমূলও। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে এ বিষয়ে আগেই চিঠি লিখেছিলেন। এমনকী জাতীয় উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে যোগ দিতে এসেও মমতা বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর পর মঙ্গলবারই চটের বস্তার ব্যবহার ও এই শিল্পের উন্নয়ন সংক্রান্ত আর একটি চিঠি মুখ্যমন্ত্রী পাঠান প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহকে। এত কিছুর পরেও এ দিন মন্ত্রিসভার অর্থ বিষয়ক কমিটির বৈঠকে চটের বস্তার ব্যবহার কমানোর প্রস্তাবটি উঠলে তীব্র আপত্তি জানান তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা রেলমন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী। এ ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে আপত্তি রয়েছে, তা-ও বলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত শরিক দলের এই আপত্তিকে গুরুত্ব দিয়ে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয় সরকার। তাৎপর্যপূর্ণ হল, বাধ্যতামূলক চটের ব্যবহার কমানোর প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শরদ পওয়ার। কিন্তু তাঁর যুক্তি শেষ পর্যন্ত টেঁকেনি। তবে চটের ব্যাগের ব্যবহার কমানো নিয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত না হলেও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের আওতায় থাকা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) দুপুরে বিবৃতি দিয়ে জানায়, খাদ্যশস্য ও চিনি প্যাকেজিংয়ের জন্য বাধ্যতামূলক ভাবে চটের ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে ৯০% করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী সঙ্গে সঙ্গে ক্যাবিনেট সচিব অজিত শেঠের সঙ্গে কথা বলেন। পরে রাতের দিকে ভুল শুধরে নতুন বিবৃতি দেয় পিআইবি। কিন্তু তার আগেই চটকলের প্রতিটি শ্রমিক ইউনিয়ন ‘কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কড়া প্রতিবাদ’ করে। আইএনটিইউসির রাজ্য সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য এমনকী প্রণব মুখোপাধ্যায়ের কাছে ফ্যাক্স করে একটি প্রতিবাদপত্রও পাঠান। |
|
|
|
|
|