সম্পাদকীয় ২...
যথাসময়ে
দুর্ঘটনা নামক বস্তুটি, পৃথিবীর অন্য প্রায় সকল দেশের ন্যায়, ভারতেও ঘটে। সেই সব দুর্ঘটনার পরে হতাহতদের জন্য, বিশ্বের অন্য নানাবিধ দেশের ন্যায়, ভারতেও ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত থাকে। বিমা-কৃত ক্ষতিপূরণের বন্দোবস্ত। অথচ, সেই ক্ষতিপূরণটি পাইবার জন্য ভারতে যে পরিমাণ কাঠখড় পুড়াইতে হয়, তাহার তুলনা বিশ্বে দুর্লভ। ক্ষতিপূরণ বিভিন্ন মাত্রায় হইয়া থাকে। দুর্ভোগের কোনও হেরফের হয় না। অনেক সময় এমন কাণ্ডও ঘটিয়া থাকে যে দুর্ঘটনা ঘটিবার দশককাল পরে হয়তো ঘোষিত অর্থ হাতে আসিল। তাহার একটি বড় কারণ সরকারি লাল ফিতার প্রকোপ। বিমাসংস্থা যে কোনও একটি বিশেষ ‘কেস’ লইয়া অগ্রসর হইবে, তাহার কিছু আবশ্যিক প্রাক্-শর্ত থাকে। ইহারই অন্যতম সংশ্লিষ্ট এলাকার পুুলিশ এবং পরবর্তী স্তরে ‘মোটর ভেহিকলস ক্লেমস ট্রাইবুনাল’-এর ছাড়পত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই দুইটি বস্তু লইয়া এমন টালবাহানা চলে যে সেই ছাড়পত্র লাভ করিতে করিতে দীর্ঘ সময় কাটিয়া যায়। ঠিক যখন ক্ষতিপূরণটি হাতে আসা প্রয়োজন, সেই সময়ে সেই প্রাপ্য অর্থ লাভ করিবার আশা পাল্লা দিয়া ফিকা হইতে থাকে। সব ‘কেস’-ই যে নিতান্ত সহজ সরল হইবে, এমন নহে। জটিল ঘটনা থাকে, দুর্ঘটনার বিভিন্ন মাত্রা বিভিন্ন রকম প্রশাসনিক জটিলতা সৃষ্টি করিতে পারে। সমস্যা হইল, সব ঘটনাই এমন নহে। যেগুলি সময়মতো শেষ করা সম্ভব, সেইগুলিও নিয়মতন্ত্রের এমন অচলায়তনে পড়িয়া যায় যে, ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। রাঁচি পুলিশের তৎপরতাটি এই সূত্রেই উল্লেখের দাবি রাখে।
খুবই কালোচিত একটি উদ্যোগে রাঁচি পুলিশ কর্তারা স্বীয় এলাকাধীন যাবতীয় পুলিশ থানাকে সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের কথা স্মরণ করাইয়া দিয়াছেন। সেই রায়ের আলোকে রাঁচি পুলিশের বিধান ইহাই যে, দুর্ঘটনার এক মাসের ভিতর সংশ্লিষ্ট পুলিশ ‘মোটর ভেহিকলস ক্লেমস ট্রাইবুনাল’-এর নিকট যাবতীয় নথি পেশ করিবে এবং সেই ট্রাইবুনাল-ও অগ্রাধিকার দিয়া এই বিষয়টি বিবেচনা করিবে। যদিও সমস্ত রাজ্যের ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্টের রায়টি প্রযোজ্য, কিন্তু ঝাড়খণ্ডের এই তৎপরতাটি দৃষ্টান্তমূলক হিসাবে গণ্য হইতে পারে, কারণ অন্য রাজ্যে এই বিষয়টিতে তেমন তৎপরতা দেখা যায় নাই। অথচ, দুর্ঘটনার পরে তৎপরতা যে কিছুই থাকে না, এমন নহে। ত্রাণ বা উদ্ধারকার্য চলে, তাহার পরে প্রয়োজনবোধে পরিদর্শন ইত্যাদিও চলিতে থাকে। কিছু ক্ষতিপূরণও ঘোষণা করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনার অব্যবহিত পরে গণমাধ্যমের শ্যেনচক্ষু বিষয়টির উপরেই নিবদ্ধ থাকে, ফলে এই বিষয়ে যাবতীয় তৎপরতা, এমনকী শোকজ্ঞাপনও জনতার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিপুল। সমস্যা হইল, সেই সব দৃষ্টি আকর্ষণী কার্যকলাপেই যে তৎপরতা ফুরাইবার নহে, সেই সত্যটি প্রায়শই প্রশাসন ভুলিয়া যায়। গণমন এবং গণমাধ্যমের তাৎক্ষণিক আগ্রহ খুবই দ্রুত ফুরাইয়া আসে, অথচ দুর্ঘটনার ক্ষত অত দ্রুত নিরাময় হয় না। ক্ষতিপূরণ দানের একটি মুখ্য উদ্দেশ্য অবশ্যই সেই নিরাময়ে সাহায্য করা। অথচ, সেই অর্থও সময়মতো হাতে আসে না। ফলে, দুঃসময়ে কাজেও আসে না। এই সংকটের নিরসনে শীর্ষ আদালতের তরফে একটি দিক-নির্দেশিকা বিদ্যমান। তাহা অনুসরণ করা জরুরি। রাঁচি পুলিশ পথ দেখাইয়াছে। অবশিষ্ট ভারত তাহা অনুসরণ করিবে কি?


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.