ফুলবাজারের কাঁটা সরাতে উদ্যোগ
হাকরণ থেকে দিল্লিতে ফিরিয়ে দেওয়া টাকা ফের আনিয়ে মল্লিকঘাট ফুলবাজার উন্নয়নের কাজ দ্রুত শুরু করতে চায় রাজ্য সরকার। কেন্দ্রের পাঠানো পাঁচ কোটি টাকা তিন বছর অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। কাজ না-হওয়ায় রাজ্য সরকার তা ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। ১০০ শতাংশ অনুদান হিসেবে কেন্দ্র ওই প্রকল্পে ২০ কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছিল। নতুন উদ্যানচর্চামন্ত্রী আবু হেনা বলেন, “উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত করতে বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নির্দেশ মেনেই থমকে থাকা ওই প্রকল্প দ্রুত শুরুর চেষ্টা হবে।”
হাওড়া ব্রিজের নীচে গঙ্গার পশ্চিম তীরে এশিয়ার সর্ববৃহৎ এই ফুলবাজার। বিভিন্ন জেলার ফুল উৎপাদকেরা এখানে তাঁদের পসরা নিয়ে আসেন। বর্ষায় এই জায়গাটি কার্যত অগম্য হয়ে ওঠে। অন্য দিকে, আগুন লাগলে বড় মাপের বিপর্যয়ের আশঙ্কাও থেকে যায়। ২০০৮-এর ১১ এপ্রিল ফুলবাজারে আগুন লেগে ২৪০টি দোকান পুড়ে গিয়েছিল। ২০০৬ সালে রাজ্য ওই জায়গায় একটি আধুনিক প্রকল্প রূপায়ণের পরিকল্পনা করে। তৎকালীন কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী কমলনাথ সেই প্রস্তাবকে স্বাগত জানান। ঠিক হয়, এক লক্ষ বর্গফুট মাপের চারতলা বাড়ি তৈরি হবে। সেখানে ফুল সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা ও পরীক্ষাগার তৈরির কথা হয়। দফায় দফায় বৈঠকের পরে ২০০৮-এ অনুদানের প্রথম কিস্তি হিসেবে কেন্দ্র পাঁচ কোটি টাকা পাঠায়। কিন্তু কাজ এগোয়নি।

প্রকল্প রূপায়ণের দায়িত্ব ছিল রাজ্যের উদ্যানচর্চা দফতরের উপরে। এ জন্য কমিটিও তৈরি হয়। এর চেয়ারম্যান ছিলেন প্রাক্তন সাংসদ সিপিএমের সুধাংশু শীল। কেন কাজ হয়নি? সুধাংশুবাবু বলেন, “ফুলবাজারের দোকানিদের তালিকা চূড়ান্ত করতে প্রথম দিকে কিছু সমস্যা হয়েছিল। এর পরে সমস্যা দেখা দেয় কাজ চলার সময়ে কোথায় ওঁদের পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব, তা নিয়ে।” ঠিক হয়েছিল, ১২০ জন দোকানিকে অস্থায়ী ভাবে পাশে নির্দিষ্ট জায়গায় পাঠানো হবে। ওই জায়গার জন্য কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ এক কোটি টাকা চান রাজ্য সরকারের কাছে। উদ্যানচর্চা দফতরের প্রাক্তন মন্ত্রী মোহন্ত চট্টোপাধ্যায় বলেন, “২০০৯-এ ওই টাকা আমরা দিই। ১২০ জনের অস্থায়ী প্রকল্প তৈরির জন্য রাজ্যের তরফে প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ হয়। কিন্তু ২০০৮-এ তৈরি হয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রভাবিত ‘ফুলবাজার বাঁচাও কমিটি’। তারা নানা ঝামেলা করে। প্রকল্প আর রূপায়িত হয়নি।”
‘ফুলবাজার বাঁচাও কমিটি’র অবশ্য অভিযোগ, “প্রকল্প রূপায়ণের সরকারি কমিটি স্বেচ্ছাচারিতা করছিল। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কমিটির প্রধান সুধাংশুবাবুর বদলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে করা হোক। তা মানা হয়নি।” এ প্রসঙ্গে মোহন্তবাবুর বক্তব্য, “আমরা মহাকরণের বৈঠকে নীতিগত ভাবে সেই প্রস্তাব মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু পরিবর্ত জায়গায় দোকানিরা সরলেন না, আমরা হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম।” সুধাংশুবাবু বলেন, “কেন্দ্র ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট চাইছিল। আমরা দিতে পারছিলাম না। গত বছর অগ্রিম হিসেবে দেওয়া টাকা আমরা ফিরিয়ে দিই।”
বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে দফতরের অফিসারদের সঙ্গে এবং রাজ্যের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মন্ত্রী আবু হেনা। তিনি বলেন, “শীঘ্র প্রকল্পটির কাজ শুরুর ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।” এ ব্যাপারে সুধাংশুবাবুর প্রতিক্রিয়া, “সে ক্ষেত্রে আমরা ওঁদের সব রকম সহযোগিতা করব।”

Previous Story Calcutta Next Story




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.