ঠিকা শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্টে (ডিএসপি) ফের গণ্ডগোলে জড়িয়ে পড়ল কংগ্রেস ও তৃণমূলের দুই শ্রমিক সংগঠন। শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই অশান্তি রবিবার ছড়িয়ে পড়ে কারখানার বাইরেও। দু’পক্ষেরই তিন জন করে জখম হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ডিএসপি সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে গণ্ডগোলের শুরু। ঠিকা শ্রমিক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ৩ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে আইএনটিইউসি এবং আইএনটিটিইউসি-র মধ্যে অশান্তি বাধে। তার জেরে বেশ কিছুক্ষণ কাজকর্ম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। আইএনটিইউসি-র ঠিকা শ্রমিক সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশিস চৌধুরী অভিযোগ করেন, সাত মাস আগে আইএনটিটিইউসি-র সঙ্গে লিখিত বোঝাপড়া হয়, কারখানার বিভিন্ন বিভাগে দু’পক্ষই ৫০ শতাংশ হারে ঠিকাকর্মী নিয়োগ করবে। সেই হিসেবে ৩ নম্বর ব্লাস্ট ফার্নেসে নিয়োগ করা ১৪ জন ঠিকাকর্মীর অর্ধেক তাঁদের সমর্থক। কিন্তু শনিবার আইএনটিটিইউসি-র তরফে দাবি করা হয়, এখন থেকে শুধুমাত্র তাদের সমর্থকেরাই কাজ করবেন। আইএনটিইউসি সমর্থক ঠিকাকর্মীদের কাজ ছেড়ে দিতে হবে। দেবাশিসবাবুর অভিযোগ, “এর প্রতিবাদ করায় আইএনটিটিইউসি-র লোকজনের হাতে মার খেতে হয় আমাদের সমর্থকদের।” এর পরেই আইএনটিইউসি-র পক্ষ থেকে ওয়ারিয়া ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখানো হয়। পুলিশি আশ্বাসে বিক্ষোভ থামে।
আইএনটিটিইউসি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনের জেলা সভাপতি তথা ডিএসপি ঠিকা শ্রমিক সংগঠনের নেতা প্রভাত চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, এই ঘটনায় তাঁদের কেউ জড়িত নয়। তাঁর বক্তব্য, “ঘটনায় জড়িত যাঁরা আইএনটিটিইউসি-র সমর্থক বলে নিজেদের দাবি করছে, তাঁরা আসলে নিজেদের এলাকার কংগ্রেস সমর্থক বলে পরিচিত। নিজেদের সংগঠনে উপযুক্ত গুরুত্ব না পেয়ে আইএনটিটিইউসি-র নাম করে কারখানায় অশান্তি পাকাচ্ছে।” তিনি জানান, তাঁরা চান, কারখানার কাজকর্মে যাতে কোনও রকম বিঘ্ন না ঘটে।
কারখানার ভিতরের এই গন্ডগোল রাতের দিকে ছড়িয়ে পড়ে আমরাই ও নঈমনগর এলাকায়। দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। তিনজন করে জখম হন দু’পক্ষেরই। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি পাঠানো হয়। রবিবার সকালেও এলাকায় অশান্তির রেশ ছিল। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করে। পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। ফের যাতে অশান্তি না ছড়ায় সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে। |