পুরকর্তারা তবু নির্বিকার
জলের সরকারি সমীক্ষাতেও মিলল আর্সেনিক
লকাতার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেছিলেন, শহরের জলে আর্সেনিক নেই। জল সরবরাহ বিভাগের ডিজি বিভাস মাইতি জানিয়েছিলেন, সরকারি কোনও সংস্থা রিপোর্ট দিলে তবেই তাঁরা এ ব্যাপারে মন্তব্য করবেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরে এ বার রাজ্য জল অনুসন্ধান বিভাগ (সুইড)-ও কলকাতার ভূগর্ভস্থ জলে আর্সেনিকের উপস্থিতি খুঁজে পেয়েছে।
জুনের শেষে কলকাতা পুরসভায় রিপোর্ট জমা দিয়েছে সুইড। তাতে বলা হয়েছে, কলকাতা, রাজপুর-সোনারপুর, রাজারহাট, দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর ও কামারহাটি পুর-এলাকায় বিভিন্ন নলকূপ থেকে মোট ৯৬টি জলের নমুনা সংগ্রহ করেছিল সুইড। তার মধ্যে ৩৭টি নমুনায় আর্সেনিকের উপস্থিতি মিলেছে। সহনমাত্রার উপরে আর্সেনিক রয়েছে ১৩টি নমুনায়। ওই ১৩টি নলকূপের মধ্যে আটটি রয়েছে কলকাতা পুর-এলাকার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড, প্রিন্স গোলাম হোসেন শাহ রোড, চৌবাগা, দরগা রোড, বাবুঘাট, বিবেকানন্দ রোড এবং কুঁদঘাটে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাদের সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড ও গোলাম হোসেন শাহ রোডের পাঁচটি নলকূপের জলে বিপজ্জনক মাত্রায় আর্সেনিক পেয়েছিল। সেই সমীক্ষাকে আমলই দেননি মেয়র। উল্টে জলসঙ্কট মেটাতে দক্ষিণ শহরতলির ওই সব এলাকায় গভীর নলকূপ বসানোর পরামর্শ দেয় পুরসভা। যদিও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপোর্টে কলকাতায় গভীর নলকূপ বসানো বন্ধ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এ বার কলকাতা পুরসভার কাছে জমা দেওয়া রিপোর্টে একই পরামর্শ দিয়েছে সুইড-ও।
সুইডের অধিকর্তা সুরজিৎ দাস জানান, কলকাতা ও তার সংলগ্ন এলাকায় ভূগর্ভে আর্সেনিকের উপস্থিতি কতটা, তা জানতে ২০১১ সালে তাঁরা দু’বার সমীক্ষা করেন। এক বার বর্ষার আগে, অন্য বার বর্ষার পরে। কলকাতা পুরসভা এলাকা থেকে নেওয়া হয় ৮৬টি নমুনা। বাকি ১৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় রাজপুর-সোনারপুর, রাজারহাট, দক্ষিণ দমদম, বরাহনগর ও কামারহাটি পুর-এলাকা থেকে। সুরজিৎবাবু বলেন, “আমাদের সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, ৯৬টি জলের নমুনার মধ্যে ৩৭টি নমুনায় কম-বেশি আর্সেনিকের উপস্থিতি পাওয়া গিয়েছে।” এখন থেকেই কলকাতা পুরসভাকে ওই দূষণ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সুইড।
সুইড ওই রিপোর্ট পুরসভায় জমা দিলেও মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এ রকম রিপোর্টের খবর আমার জানা নেই।” একই জবাব মিলেছে পুরসভার জল সরবরাহ বিভাগের ডিজি বিভাস মাইতির কাছ থেকেও। তবে রিপোর্ট যে পুরসভা পেয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন নলকূপ দফতরের ভারপ্রাপ্ত মেয়র পারিষদ তারক সিংহ। তিনি বলেন, “কলকাতা পুরসভা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় নলকূপের জলে সহনমাত্রার উপরে আর্সেনিকের সন্ধান মিলেছে।”
তা হলে মেয়র এবং জল সরবরাহ বিভাগের ডিজি কী ভাবে বললেন যে সুইডের পাঠানো ওই রিপোর্টের কথা তাঁরা জানেন না? তারকবাবুর দাবি, “ওই রিপোর্ট জল সরবরাহ বিভাগের ডিজি-র কাছেও পাঠানো হয়েছে।” বিভাসবাবুর বক্তব্য, “এ ব্যাপারে আমি কোনও কথা বলব না।”
মেয়র কিংবা জল সরবরাহ বিভাগ যখন আর্সেনিকের উপস্থিতির কথা বারবার অস্বীকার করে চলেছেন, সেখানে তারকবাবু কিন্তু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং সুইডের রিপোর্টকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যে সব নলকূপের জল পরীক্ষা করেছিল, পুরসভা সেই সব নলকূপের জল সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন তারকবাবু। তিনি বলেন, “এখানেই থেমে নেই পুরসভা। জল অনুসন্ধান দফতরের পরামর্শ মেনে আরও কয়েকটি এলাকার নলকূপের জলও সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট ৩৪টি জলের নমুনা জল অনুসন্ধান দফতর, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ ও পুরসভার নিজস্ব পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।”
এর পরেও কি যাদবপুর এলাকায় ঢালাও গভীর নলকূপ বসানোর সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে পুরসভা? তারকবাবু বলেন, “আগামী সপ্তাহেই এ ব্যাপারে পুরসভা বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠক করবে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.