অন্ধ্রে ধরাশায়ী কংগ্রেস, অন্য রাজ্যে ভাল ফল শাসকদের
ন্ধ্রপ্রদেশের উপ-নির্বাচনে জয়-জয়কার হল জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসের। ধরাশায়ী হল কংগ্রেস। উত্তরপ্রদেশের মঠ আসনের ফলে যেমন খুশি তৃণমূল তেমনই সিপিএমকে স্বস্তি দিয়েছে বাম-শাসিত ত্রিপুরার নলছড়। ওই কেন্দ্রটি নিজেদের দখলেই রাখতে পেরেছে বামেরা। কয়েক মাসে বাদেই ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট। তার আগে এই ফলে স্বভাবতই খুশি বামেরা। কংগ্রেস যথারীতি সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে। ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভা নির্বাচনের সাম্প্রতিক সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি কংগ্রেস। নিজেদের দখলে থাকা হাটিয়া কেন্দ্রের উপ- নির্বাচনে চতুর্থ স্থানে নেমে এসেছে তারা। আসনটি দখল করেছেন আজসু প্রার্থী নবীন জয়সোয়াল।
পর পর দুই লোকসভা নির্বাচনে যে অন্ধ্রপ্রদেশ শক্তি জুগিয়েছিল কংগ্রেসকে, আজ সেই রাজ্যে কংগ্রেসের ভিত নড়ে গেল। অন্ধ্রপ্রদেশে ১৮টি বিধানসভা আসনের উপ-নির্বাচনে ১৫টিই দখল করে নিল কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে আসা জগন্মোহন রেড্ডির দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস। সেই সঙ্গে নেল্লোর লোকসভা কেন্দ্রও দখল করেছে জগনের দল। প্রণব মুখোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার দিনেই এই ফল কংগ্রেসের কাঁটা হয়ে ইল।
আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তির মামলায় জেল হেফাজতে রয়েছেন জগন। আদালতের ওই রায় এমন সময়ে এসেছিল, যখন উপ নির্বাচনের মাত্র ১৪ দিন বাকি। ফলে শেষ দু’ সপ্তাহ ভোট প্রচারেই যেতে পারেননি তিনি। জগনের হয়ে দুর্গ সামলেছিলেন তাঁর মা ও বোন। জেলে বন্দি সেই জগনের জনপ্রিয়তা কোন স্তরের তা আজ টের পেলেন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলনেতা চন্দ্রবাবু নায়ডুও। এবং আজ এও ইঙ্গিত পাওয়া গেল যে, অন্ধ্রে এখন অন্যতম প্রধান শক্তি জগন্মোহন রেড্ডি। নির্বাচনী সাফল্যের পরে জগনের মা-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ছেলে জগন্মোহনের জয়ে খুশি মা বিজয়াম্মা। হায়দরাবাদে। ছবি: এএফপি
অন্ধ্রপ্রদেশে গত লোকসভা নির্বাচনে ৩২টি আসন জিতেছিল কংগ্রেস। তার আগের নির্বাচনে জিতেছিল ২৯টি আসন। ফলে ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে অন্ধ্রে কংগ্রেসের সম্ভাবনা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠে গেল। এমনিতেই পৃথক তেলেঙ্গানা রাজ্যের দাবিতে অন্ধ্র রাজনীতি উত্তাল। তার ওপর বাকি অন্ধ্রেও জগনের দাপটে কংগ্রেসের যে কোণঠাসা অবস্থা তাও আজকের ফলে স্পষ্ট। কারণ, দিনের শেষে মাত্র দুটি আসন ধরে রাখতে পেরেছে কংগ্রেস।
এই অবস্থায় জগন সম্পর্কে রাজ্য ও দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করতে শুরু করেছেন কংগ্রেসের একাংশ। তাঁদের কথায়, রাজশেখর রেড্ডির যোগ্য উত্তরসূরি জগন। কংগ্রেস তাঁকে বুঝিয়ে দলে রাখতে পারত। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের পর তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার আশ্বাস হাইকম্যান্ড দিলে হয়তো তিনি দলত্যাগ করতেন না।
তবে দশ জনপথ ঘনিষ্ঠ কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতার কথায়, জগনের বিরুদ্ধে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাতে তাঁর থেকে কংগ্রেসের দূরত্ব রাখতেই হত। তা ছাড়া জগন এখন জেলে বন্দি রয়েছেন বলে সাময়িক ভাবে হয়তো সহানুভূতি পেয়ে গিয়েছেন। কিন্তু, তিনি দীর্ঘদিন বন্দি থাকলে সংগঠনকে শক্তিশালী করার সুযোগ পাবেন না। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কংগ্রেস।
জগন-অনুগামীদের উল্লাস। ছবি: পিটিআই
পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ুর মতো রাজ্যগুলির উপ-নির্বাচনে ভাল ফল করেছে ওই রাজ্যগুলির শাসক দলই। কেরলের নেয়াত্তিনকারা আসনটি সিপিএমের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে শাসক ইউডিএফ জোট। ওই আসনে সিপিএম প্রার্থী এফ লরেন্সকে ৬ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী আর সেলভারাজ। এক সময়ে সিপিএমের বিধায়ক ছিলেন সেলভারাজ। মার্চ মাসে দলের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেন তিনি। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি রমেশ চেন্নিথালার দাবি, নেয়াত্তিনকারা আসনে জয় মুখ্যমন্ত্রী উমেন চান্ডির সরকারের ভাল কাজের ফল।
তামিলনাড়ুর পুদুক্কোট্টাই আসনে জিতেছেন শাসক এডিএমকে-র প্রার্থী কার্তিক থোন্ডাইমান। ডিএমডিকে প্রার্থী জাহির হুসেনকে ১১ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন তিনি। মহারাষ্ট্রে কেজ বিধানসভা আসনটি নিজেদের দখলেই রেখেছে শরদ পওয়ারের এনসিপি। তফসিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত এই আসনটি দখলে ছিল প্রয়াত মন্ত্রী বিমল মুন্ডাডার। উপ-নির্বাচনে পৃথ্বীরাজ শাঠেকে প্রার্থী করে এনসিপি। রাজনৈতিক শিবিরের বক্তব্য, কেজ আসনের ভোটে কার্যত লড়াই হয়েছে উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার ও বিজেপি নেতা গোপীনাথ মুন্ডের। মুন্ডে ও তাঁর মেয়ের পাশাপাশি ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন অজিত পওয়ার-সহ তাবড় এনসিপি নেতা।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.