ডিকিতে ছাগল, গাছে চোর, নীচে মারমুখী জনতা
র্ধ্বশ্বাসে ছুটছে গাড়িটা।
পিছনে পাঁই-পাঁই করে ছুটছে সাইকেল, মোটরবাইক। আর গাড়ির ভিতরে পরিত্রাহি ম্যা-ম্যা চিৎকার!
সামনের গ্রামে খবর চলে গিয়েছিল। রাস্তা আটকে আড়াআড়ি শুইয়ে দেওয়া হয়েছিল সাইকেল। হুড়মুড়িয়ে তার উপরেই এসে পড়ল গাড়ি। রাস্তার পাশে ছিটকে গেল সাইকেলটা।
কিন্তু খবর ছুটছিল আগে।
কিছুটা এগোতেই রাস্তা জুড়ে বেঞ্চ, চৌকি। পুরুলিয়ার মানবাজার থেকে বরাবাজার যাওয়ার পাকা সড়ক ছেড়ে পাশের মেঠো পথে নেমে পড়ল গাড়ি। পিছু-পিছু নাছোড় বাইক-বাহিনী। ইতিমধ্যে ধাওয়া করে আসা সেই মিছিল আরও লম্বা হয়েছে। ছুট ছুট... ছুটবে কোথায়? সামনে তো রাস্তাই নেই। খেতের আল! তার সামনেই শেষমেশ ঘ্যাঁচ করে ব্রেক কষে থেমে গেল গাড়ি। মুহূর্তে দরজা খুলে ছিটকে বেরোল তিন জন। পড়িমরি দৌড়ে এক জন কাঁটায় হাত-পা ছড়ে চড়ে বসল খেজুর গাছে। আর দু’জন তত ক্ষণে একটা মাটির ঘরের টিনের চালায় উঠে পড়েছে। কালো কাচে ঢাকা ছাই-রঙা গাড়ির জানলার ভিতর থেকে জুলজুল করে তাকিয়ে কয়েক জোড়া চোখ। চারপাশে লোকজনের হল্লা শুনে ম্যা-ম্যা চিৎকার বেড়ে গিয়েছে। আর্তনাদ আসছে ডিকি থেকেও।
শনিবার মিঠে রোদ মাখা দুপুরে দুলালডি গ্রামে এই সার্কাস দেখতে তখন ভিড়ে-ভিড়াক্কার। কেউ গাঁয়ের পুকুরে নাইতে যাচ্ছিলেন, গামছা কাঁধেই ছুটে এসেছেন। তড়িঘড়ি উনুনের পাশে হাঁড়ি নামিয়ে রেখে বেরিয়ে এসেছেন মেয়ে-বউরা। ছেলেছোকরার দল আমোদ পেয়েছে। ঘুড়ি-লাটাই, গুলতি-লাট্টু ছেড়ে ঢেলা হাতে টিপ প্র্যাক্টিস শুরু হয়ে গিয়েছে। জোয়ান-মদ্দেরা অপেক্ষায়, বাছাধনেরা টুপ করে খসে পড়লেই যা হাতের সুখ হবে না! ছাগল চুরি করা!
অঙ্কন: সুমিত্র বসাক
সত্যিই তো! নধর ছাগলগুলো দিব্যি রাস্তার ধারে ঘাস খেয়ে বেড়াচ্ছিল। সাঁ করে গাড়ি নিয়ে এসে তাদের খপাখপ তুলে নিয়ে চম্পট!
“বাড়িতে ছিলাম। হঠাৎ মেয়ে এসে বলল, দু’টো লোক রাস্তা থেকে আমাদের ছাগল গাড়িতে তুলে পালাচ্ছে। দৌড়ে গিয়ে থামানোর চেষ্টা করতে আমায় প্রায় চাপা দিয়ে দিচ্ছিল! পাড়াপড়শিদের জানান দিয়ে আমি বাইকে পিছু নিই” এক নিঃশ্বাসে বলে থামেন বরাবাজারের সিন্দরি গ্রামের মহম্মদ সামিম।
মানবাজারের জনড়া গ্রামের বৃদ্ধ সহদেব মাহাতো দুয়ারশিনি সেতুর কাছে দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন। দোকানদারের মোবাইল বেজে উঠে জানায়, কয়েক জন চোর ছাই রঙের গাড়ি নিয়ে এই দিকেই আসছে। “দূর থেকে গাড়িটা দেখতে পেয়েই সাইকেলটা আড়াআড়ি ভাবে ফেলে ওদের আটকানোর চেষ্টা করি” একগাল হাসেন সহদেব।
সামনে দুলালডির মোড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন চেপুয়া গ্রামের সুমিত মাহাতো, রাঙাটাঁড়ের সাধন মাহাতোরা। ফোন পেয়ে তাঁরাই চটপট রাস্তায় বেঞ্চ-চৌকি দিয়ে ব্যারিকেড গড়ে ফেলেন। গাড়ি নেমে যায় মাঠে। এখন শুধু তিন মক্কেলের টং থেকে নামার অপেক্ষা। খেজুর কাঁটার খোঁচায় গাছে চড়ে বসা ছেলেটার জামা-প্যান্ট ফর্দাফাঁই। এক যুবক ডিঙি মেরে তারা প্যান্ট ধরে হ্যাঁচকা টান দিতেই সে ধপাস। ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্যত জনতা।
কিন্তু যে পুলিশ জেগে ঘুমোয়, তারা কখন এসে হাজির! পাবলিক কিলিয়ে কাঁঠাল পাকানোর আগেই তারা চুলের মুঠি ধরে ছেলেটাকে টেনে নিয়ে সোজা ভ্যানে। তাদের হাঁকডাঁকে অন্য দু’জনও সুড়সুড় করে নেমে এল টিনের চালা থেকে। খাকি উর্দির ধমক খেয়ে তারা নাম বলে মহম্মদ বাপ্পান, প্রাণ সোনার ও রঞ্জিত সিংহ। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের ধানবাদ জেলার কাতরাসে। আগেও না কি তারা বিস্তর ছাগল হাতিয়ে বেচেছে।
গাড়িটাকে মানবাজার থানায় নিয়ে যেতে হবে। ও বাবা! পুলিশ গিয়ে দরজা খুলতেই ম্যা-ম্যা, ডিকি তুলতেও ম্যা... ম্যা...। এক কনস্টেবল গুনতি করে বললেন, ‘স্যর, পাঁচটা..।’ স্যার বললেন, ‘থানায় নিয়ে চল।’
শুনে পড়িমরি ছুটে আসেন মহম্মদ সামিম “ও স্যর, আমার ছাগলটাকে ছেড়ে দিন। ও তো কিছু করেনি!” কিন্তু ততক্ষণে ছাগল নিয়ে গাড়ি থানার পথ ধরেছে। আইন বড় বালাই। এখন চোরে লকআপে রুটি চিবোচ্ছে। বাইরে খুঁটোয় বাঁধা ছাগল চিবোচ্ছে পুলিশের দেওয়া ঘাস।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.