কাটাতেলেই চলছে বাস, নালিশ পেয়ে হানা সৃষ্টিধরের
ফের অভিযানে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সৃষ্টিধর মাহাতো। তবে, এ বার কোনও সরকারি অফিসে নয়, রবিবার সাতসকালে সঙ্গীসাথী পরিবৃত হয়ে তিনি হানা দিলেন বরাবাজার বাসস্ট্যান্ডে। তাঁর এই আচমকা অভিযান নিয়ে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ হলেও সেই অংশের সমালোচনাকে যে তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন না, তা এ দিনের অভিযানে যাওয়ার মাধ্যমে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সভাধিপতি।
ইতিপূর্বে জেলার কয়েকটি সরকারি দফতরে অভিযান চালিয়েছিলেন সৃষ্টিধরবাবু। সভাধিপতির মতে, এক শ্রেণির আমলা ও কর্মী কাজ করেন না। এতে জেলার উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তাই সরকারি অফিসে কর্মসংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে তিনি অভিযানে নামবেন। এ দিন সকালে বরাবাজার স্ট্যান্ডে থাকা বাসগুলি স্টার্ট করে তেলের মধ্যে কেরোসিন মেশানো রয়েছে কিনা, তা বোঝার চেষ্টা করেন সভাধিপতি। বাসযাত্রীদের একাংশ সভাধিপতিকে পেয়ে অভিযোগ জানাতে থাকেন। সরবেড়িয়া গ্রামের বদন সিংহ বা লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের শুসনি গ্রামের বাসিন্দা অমিয় মাহাতো, সরোজ মাহাতোরা দাবি করেন, বরাবাজারের প্রায় সব বাসই ডিজেলে কেরোসিন মিশিয়ে (যাকে বলা হয় কাটাতেল) চলে। অমিয়বাবু বলেন, “কেবিনে ইঞ্জিনের সামনে বসে থাকা দায়। কাটাতেলের উৎকট গন্ধে বেশিক্ষণ বসে থাকলে বমি আসে, মাথা ঘোরে। বাসকর্মীদের অভিযোগ জানালে তারা বলে ‘না পোষায় অন্য গাড়িতে চড়ুন’। কিন্তু, এখানে সব বাসেরই প্রায় এক অবস্থা।”
সৃষ্টিধরবাবু বলেন, “বরাবাজারের বাসগুলি কেরোসিনে চলে বলে আগেই অভিযোগ পেয়েছিলাম। আজ হাতেনাতে প্রমাণ পেলাম। বাসকর্মী ও মালিকদের অভ্যাস পাল্টাতে বলেছি। কিছুদিন পরে আবার আসব।” পরিস্থিতির বদল না হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সভাধিপতি। সভাধিপতি এর পর রেশন গুদামে হানা দিয়ে চালের নমুনা পরীক্ষা করেন।
এলাকায় অধিকাংশ বাস যে কেরোসিনে চলে, সে কথা অনেকেই মেনেছেন। সিপিএমের পরিবহণ শ্রমিক সংগঠনের বরাবাজার ব্লকের সম্পাদক মিহির ঘটকে কথায়, “সব বা যে কেরোসিনে চলে, এমন কিন্তু নয়। কিছু বাস চলে।” কেরোসিন মিশিয়ে বাস কেন চালাতে হচ্ছে, সে প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় বাসকর্মীদের একাংশ বলেন, “এই বাসস্ট্যান্ড থেকে ৫০-৬০টি বাস রোজ যাতায়াত করে। প্রথম দিকে যাত্রী কম থাকায় লোকসান কমানোর উদ্দেশ্যে কেরোসিন মেশানো শুরু হয়েছিল। পরে অনেকেই ওই পথ ধরেছে।” যে সংস্থা বরাবাজার ব্লকে কেরোসিন তেলের ডিস্ট্রিবিউটর, সেই বরাবাজার লার্জসাইজড মাল্টিপারপাজ কো-অপারেটিভ সোসাইটির ম্যানেজার শশাঙ্ক সিংহবাবুও বলছেন, “সভাধিপতির অভিযোগ ঠিক। এখানে বেশির ভাগ বাসই কেরোসিন-ডিজেল মিশিয়ে অথবা শুধুই কেরোসিনে চলে।”
এত কেরোসিন আসছে কোথা থেকে? এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, রেশন দোকান থেকে প্রকৃত উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে কেরোসিন পাচার হয়ে যাচ্ছে ওই সব বাস চালানোর কাজে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবাজার ব্লক এলাকার জন্য প্রতি মাসে ১ লক্ষ ২৬ হাজার লিটার কেরোসিন তেল বরাদ্দ রয়েছে। ব্লকে ডিলারের সংখ্যা ৮৩। শশাঙ্কবাবুর কথায়, “ওই ডিলারেরা আমাদের কাছ থেকে কেরোসিন নিয়ে যান। কিন্তু, এখান থেকে নিয়ে যাওয়া কেরোসিন উপভোক্তারা পাচ্ছেন কি না, তা দেখা আমাদের দায়িত্ব নয়। সেই পরিকাঠামোও আমাদের নেই।”
বরাবাজারের বিডিও অনিমেষকান্তি মান্না জানিয়েছেন, কেরোসিন তেলে গাড়ি চালানো হচ্ছে, এই মর্মে তাঁর কাছে কেউ অভিযোগ জানাননি। ব্লক খাদ্য পরিদর্শক মুরুলীধর কুমারও বলেন, “উপভোক্তাদের বঞ্চিত করে কেরোসিন অন্য কাজে ব্যবহার হচ্ছে বলে কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।” জেলা বাসমালিক সংগঠনের সম্পাদক প্রতিভারঞ্জন সেনগুপ্ত বলেন, “ডিজেলের মধ্যে কেরোসিন মিশিয়ে বাস চালানোর কথা আমার অন্তত জানা নেই। তবে, কোনও বাসে এটা হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। বাসমালিক সমিতি এই অনৈতিক কাজকে সমর্থন করে না।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.