হাওড়া থেকেই রূপসী বাংলার দাবি
নিয়ে লড়তে চায় দু’দল
রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসকে হাওড়া পর্যন্ত চালানোর দাবি আরও জোরালো করছে সিপিএম এবং কংগ্রেস। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজারকে চিঠি দিয়ে জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার দাবি করে বাঁকুড়ার সিপিএম সাংসদ বাসুদেব আচারিয়া এ বার রেলমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছেন। আর জেলা কংগ্রেস নেতৃত্ব চিঠি দিয়েছেন রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরীকে। থেমে নেই বিজেপি-ও। ছাতনায় বিজেপি-র নেতা-কর্মীরা রেল অবরোধ কর্মসূচি করেন। তবে রেল সূত্রের খবর, এখনই ওই ট্রেনটিকে ফের হাওড়া পর্যন্ত চালানোর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না।
রেল গত ১৫ জুলাই থেকে পুরুলিয়া-হাওড়া রূপসী বাংলা এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে। ট্রেনটি হাওড়ার পরিবর্তে এখন সাঁতরাগাছি স্টেশন পর্যন্ত চালানো হচ্ছে। আগাম ঘোষণাও করেছিল রেল। তখনই এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সরব হয় সিপিএম। ডিওয়াইএফ স্মারকলিপি দিয়ে গণকনভেনশন করে। ডিভিশন স্তরে রেলের ইউজার্স কমিটির সদস্য তথা সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য প্রদীপ রায় সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান আদ্রার ডিআরএমকে। সিদ্ধান্ত রদ হয়নি। তবে হাল ছাড়েননি সিপিএম এবং কংগ্রেস নেতৃত্ব। দুই দলই রেলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে পুরুলিয়া জেলার প্রতি বঞ্চনা করার অভিযোগ তুলেছেন।
লোকসভায় রেলের স্থায়ী কমিটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাসুদেববাবু গোড়াতেই দক্ষিণ-পূর্ব রেলের জিএম জি সি অগ্রবালকে চিঠি দিয়ে ট্রেনটি আগের মতোই হাওড়া পর্যন্ত চালানোর দাবি জানান। জিএম জবাবি চিঠিতে বাসুদেববাবুকে ট্রেনটির যাত্রাপথ সঙ্কুচিত করার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। রেল সূত্রের খবর, আগে সকালে হাওড়া স্টেশন থেকে রূপসী বাংলা ও পুরীগামী ধৌলি এক্সপ্রেস এক সঙ্গে জুড়ে দিয়ে খড়গপুর পর্যন্ত চালানো হত। যাত্রীদের দাবি মেনে দু’টি ট্রেনেই দু’টি করে কামরা বাড়ানো হয়। তাতে ট্রেন দু’টির মোট কামরা বেড়ে ২৬ হয়। কিন্তু রেলবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ২৪টির বেশি কামরা নিয়ে ট্রেন চালানো যাবে না। এ ছাড়া ট্রেনের রক্ষনাবেক্ষণের সমস্যাও রয়েছে। এই কারণগুলির জন্য রূপসী বাংলা ট্রেনটিকে হাওড়ার বদলে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত চালানো হচ্ছে।
সিপিএম এবং কংগ্রেসের পাল্টা যুক্তি, পুরুলিয়া থেকে হাওড়া যাওয়ার ট্রেন রয়েছে মাত্র তিনটি। বিকেলে রূপসী বাংলা ট্রেনটি পুরুলিয়া ছেড়ে হাওড়ায় পৌঁছাত রাতে। কিন্তু এখন অত রাতে সাঁতরাগাছি পৌঁছে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুরের যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে নাকানিচোবানি খেতে হচ্ছে। পুরুলিয়া জেলা কংগ্রেসের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বিভাস দাসের অভিযোগ, “রেল যে ব্যাখ্যাই দিক, অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারছি যাত্রীরা সমস্যায় পড়ছেন। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য রেল প্রতিমন্ত্রীকে জানিয়েছি।”
বাসুদেববাবুও বলেন, “রাতে সাঁতরাগাছি থেকে গাড়ি কমে যাওয়ায় যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছতে সমস্যা হচ্ছে।” বাসুদেববাবুকে লেখা চিঠিতে জিএমের ব্যাখ্যা, সাঁতরাগাছি থেকে বহু ট্রেন রাতে হাওড়ায় ফেরে। যাত্রীরা সেই ট্রেনগুলিতেও যেতে পারেন।” সাংসদ তাঁকে ফের চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, ধৌলির চেয়ে বেশি যাত্রী রূপসী বাংলায় থাকেন। সে ক্ষেত্রে কেন ধৌলি এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করে সাঁতরাগাছি পর্যন্ত চালানো হবে না? বাসুদেববাবু বলেন, “সকালে হাওড়া থেকে বহু নিত্যযাত্রী রূপসী বাংলায় মেদিনীপুর, বাঁকুড়ায় আসেন। আবার বিকেলে তাঁরা ওই ট্রেনে কলকাতা যান। রেলের এই সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়ছেন নিত্যযাত্রীরা।” রেলমন্ত্রীকে ইতিমধ্যেই তিনি ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। জেলা কংগ্রেস ও সিপিএম নেতৃত্বের দাবি, সকালে রূপসী বাংলা ছাড়ার সময়ের সামান্য বদল ঘটালেই হাওড়া থেকেই ট্রেনটি আগের মতো যাত্রীদের নিয়ে রওনা হতে পারবে। এই সমাধান সূত্র নিয়েই দাবি আদায়ে সচেষ্ট হচ্ছে দুই দল।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.