|
|
|
|
ব্লগে প্রত্যাঘাত জেটলির |
দেশের খারাপ ভাবমূর্তির জন্য দায়ী মনমোহনই |
নিজস্ব সংবাদদাতা • নয়াদিল্লি |
নিরাশার বাতাবরণ ও নেতিবাচক মানসিকতায় দেশের ভাবমূর্তি খারাপ হচ্ছে বলে গত কাল আক্ষেপ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। তাঁর অভিযোগের আঙুল স্পষ্টতই বিরোধীদের দিকে। আজ নিজের
ব্লগে সেই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে বিজেপি সাংসদ অরুণ জেটলি নিরাশার বাতাবরণের জন্য দায়ী করলেন, খোদ প্রধানমন্ত্রীকেই। তাঁর মতে, একাধিক ঘটনা প্রমাণ করেছে দুর্নীতির মোকাবিলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তাই নেতিবাচক পরিবেশের কারণ খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীকে আত্মসমালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা।
মন্দার বাতাবরণে বিদেশি লগ্নি টানতে তৃণমূলের মতো শরিককে খোয়ানোর ঝুঁকি পর্যন্ত নিয়েছিলেন মনমোহন। কিন্তু তা সত্ত্বেও দেশে যে লগ্নির পরিবেশ তৈরি হয়নি, গত কাল তা কার্যত মেনে নেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশে নিরাশার বাতাবরণ ও নেতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা হচ্ছে।
প্রত্যুত্তরে জেটলি বলেছেন, নৈতিকতার চেয়ে (গাঁধী পরিবারের) আনুগত্যই এই সরকারের কাছে বড়। তাই এই সমস্যা। বিজেপি-র অভিযোগ, মন্ত্রী থেকে সাংসদ সকলেই রবার্ট বঢরাকে বাঁচাতে উঠে পড়ে লেগেছেন। ফলে সামগ্রিক ভাবে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে গোটা সরকারি ব্যবস্থাতেই। পাল্টা জবাবে কংগ্রেস বলেছে, বিজেপি সংসদ চালাতে দিচ্ছে না। যৌথ সংসদীয় কমিটির বৈঠক বয়কট করছে। (উল্লেখ্য, টুজি তদন্তে সাক্ষী হিসেবে মনমোহন ও চিদম্বরমকে ডাকতে রাজি না হওয়ায় আজ কমিটির বৈঠক বয়কট করেন বিজেপি-র ছয় সাসংদ) বিজেপি নেতারাই আসলে নেতিবাচক মানসিকতার শিকার। কংগ্রেসের অভিযোগ, বিরোধী দলগুলি পরিকল্পনামাফিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নষ্ট করতে তৎপর।
কংগ্রেস এই অভিযোগ করলেও নিজের ব্লগে আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক জেটলি। বফর্স থেকে কয়লা কেলেঙ্কারি কিংবা সাম্প্রতিক বঢরা কাণ্ডের উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, “শুধু অভিযুক্তদের আড়াল করাই নয়, সিবিআই এমনকী যৌথ সংসদীয় কমিটির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের তদন্তেও সরকার তার প্রভাব খাটাচ্ছে। সিবিআইয়ের জুজু দেখিয়ে সপা বা বিএসপি-র মতো দলের সমর্থন আদায় করছে। এর ফলে ক্রমশ প্রশাসনের নৈতিকতা নষ্ট হচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রীকে জেটলির পরামর্শ, যদি এই নিরাশার বাতাবরণকে দূর করতে হয় তা হলে অবিলম্বে বিভিন্ন দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্ত করাতে হবে। দোষীদের শাস্তি দিতে হবে। সরকারি ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরে এলে তবেই এই নেতিবাচক পরিবেশ থেকে মুক্ত হবে দেশ। |
|
|
|
|
|