বাল্যবিবাহই ধর্ষণ বন্ধের উপায়, মত খাপ পঞ্চায়েতের
খাপ পঞ্চায়েতের বিতর্কিত মন্তব্যের তালিকায় নতুন সংযোজন। হরিয়ানায় লাগাতার ধর্ষণের ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ তাদের ‘দাওয়াই’, ষোলো বছর বয়স হওয়ার আগেই ছেলেমেয়ের বিয়ে দিয়ে দিন। তা হলে ধর্ষণের ঘটনা কমে যাবে।
গত এক মাসে হরিয়ানায় ১০টি ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। দিন কয়েক আগে হরিয়ানার জিন্দ জেলায় গণধর্ষণের শিকার একটি দলিত মেয়ে গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন দিয়েছিল। গতকাল সে মারা যায়। সেই প্রসঙ্গে আজ সুবে সিংহ নামে খাপ পঞ্চায়েতের এক সদস্য বলেন, “ধর্ষণ বন্ধ করতে ষোলো বছরের আগেই ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া উচিত। তাদের যৌন ইচ্ছা মেটানোর জন্য তা হলে আর অন্য কিছুর প্রয়োজন হবে না।”
আর এক খাপ সদস্যের মতে, “এ সবই আসলে অতিরিক্ত টিভি ও সিনেমা দেখার ফল। বয়ঃসন্ধির সময় থেকেই ছেলেমেয়েদের মধ্যে যৌন ইচ্ছা তৈরি হয়। তাই সেই বয়সের আগেই যদি তাদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া যায়, তা হলে ধর্ষণের ঘটনা অনেক কমে যাবে।”
বছর ষোলোর ওই দলিত মেয়েটির ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখনও পর্যন্ত চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু ধর্ষণে অভিযুক্তরা রেহাই পেয়ে যাচ্ছে, বা খাপ পঞ্চায়েত প্রধানরা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন, হরিয়ানায় এই ধরনের ঘটনা হামেশাই ঘটছে। রাজ্যে কিশোরী-নিগ্রহের ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলায় উদ্বিগ্ন ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস (এনসিপিসিআর)। আজ তারা রাজ্য সরকারের কাছে এ বিশয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছে। জানতে চেয়েছে, সাম্প্রতিক কালের প্রত্যেকটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এনসিপিসিআর-এর চেয়ারপার্সন শান্তা সিংহ বলেন, “এই ক’দিনে দশটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তা ছাড়া, যৌন নিগ্রহের আরও ঘটনাও ঘটেছে। কমিশন রাজ্য সরকারকে প্রত্যেকটি ঘটনা ধরে ধরে জিজ্ঞাসা করবে। জানতে চাইবে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে কি না।” চেয়ারপার্সনের মতে, হরিয়ানায় ধর্ষণ কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। “রাজ্যে কন্যাসন্তানের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। প্রতি এক হাজার ছেলেতে মেয়ের সংখ্যা মাত্র ৮৩০। এই লিঙ্গ অনুপাতই রাজ্যে মেয়েদের অবস্থা তুলে ধরছে।” তাঁর মতে, জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য রাজ্য সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। “এই রাজ্যেও মেয়েরা যে নিরাপদ, সেই ভরসা তাদের দিতে হবে। আর যারা দোষী, তাদের মনে ভয় ঢুকিয়ে দিতে হবে।”
হুডা সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়েছে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল লোক দল (আইএনএলডি)-ও। এক বিবৃতি দিয়ে আইএনএলডি-র তরফে আজ জানানো হয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কী রকম, তা এই সব ঘটনা থেকেই স্পষ্ট।
এই অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি ফুল চাঁদ মুল্লানা বলেন, “এটা সরকারকে কলঙ্কিত করার এক চক্রান্ত। আগেও এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। আমাদের সরকার সব সময়েই এর তীব্র নিন্দা করেছে। কোনও দোষীকে রেহাই দেওয়া হয় না। যখনই কোনও ঘটনা ঘটে, প্রশাসনের তরফ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তা হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, এ ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে কেন?” ডিজিপি রঞ্জীব দালালেরও দাবি, রাজ্যে ধর্ষণের ঘটনা সাম্প্রতিক কালে অনেক বেড়ে গিয়েছে, এটা ঠিক নয়। এ প্রসঙ্গে তিনি সংবাদমাধ্যমেরও সমালোচনা করে বলেন, “এই ধরনের ঘটনা নিয়ে খবরের কাগজ বা টিভিতে বেশি মাতামাতি করা হয়। এর কুফল ভুগতে হচ্ছে।”


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.