শহর লাগোয়া, তবু পরিষেবা না পাওয়ায় ক্ষোভ বামুনাড়ায়
রাস্তায় আলো নেই। রাতে কোনও কারণে যানবাহন না মিললে হাঁটা ছাড়া উপায় থাকে না। পানীয় জলও অপ্রতুল। এমনই অভিযোগ দুর্গাপুর শহর সংলগ্ন বামুনাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের।
জাতীয় সড়ক থেকে দূরত্ব মাত্র কিলোমিটার খানেক। গত দু’তিন বছরে এই গ্রামে গড়ে উঠছে একের পর এক আবাসন। বামুনাড়া গ্রাম আদল নিয়েছে শহুরে এলাকার। কিন্তু পরিষেবা পড়ে রয়েছে সেই তিমিরেই। তাই ঝাঁ চকচকে নতুন ফ্ল্যাটে বসবাস করেও তাই মন ভরছে না বাসিন্দাদের। পাশাপাশি, গ্রামের পুরনো বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের এত পাশে থেকেও নাগরিক পরিষেবা থেকে তাঁরা বঞ্চিত।
অন্ডালের রামপ্রসাদপুরে স্কুলের সামনেই জমে জঞ্জাল।—নিজস্ব চিত্র।
মুচিপাড়া-শিবপুর রাস্তার একটি শাখা গিয়ে মিলেছে পানাগড়-মোড়গ্রাম রাজ্য সড়কে। রাস্তার ধারে গড়ে উঠেছে ম্যানেজমেন্ট, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। যানবাহনের বিরাম নেই। কিন্তু পরিবহণ ব্যবস্থার উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, মাত্র কয়েকটি মিনিবাস চলে। আর রয়েছে কয়েকটি অটো। কিন্তু এই রাস্তায় চলাচল করে বহু ট্রেকার। অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে হেলতে-দুলতে চলে সেগুলি। মহিলা, শিশু বা বয়স্কদের পক্ষে তাতে চড়া প্রায় অসম্ভব। কিন্তু সন্ধ্যা ৭টার পরে তাও উধাও। মেলে না রিকশাও।” নতুন আবাসনে আসা শ্রীরাম বসু বললেন, “যা দেখছি নিজের গাড়ি না থাকলে এখানে থাকা বেশ কঠিন।”
বাসিন্দাদের অভিযোগ, মুচিপাড়া থেকে বামুনাড়া যাওয়ার রাস্তায় নেই কোনও আলোর ব্যবস্থা। রাতের অন্ধকারে ট্রাক বা ডাম্পারের হেডলাইট সম্বল করে এগোনো ছাড়া উপায় নেই। গ্রামের ভিতরেও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নেই। নেই পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা। গ্রামের বাসিন্দারা মাটির নীচের জল পাম্প করে তুলে প্রয়োজন মেটান। কিন্তু আবাসনগুলি গড়ে ওঠার পরে লোকসংখ্যা বেড়ে গিয়েছে কয়েক হাজার। সেই সঙ্গে স্পঞ্জ আয়রণ কারখানা, মিনারেল ওয়াটার কারখানা মাটির নীচ থেকে জল তোলায় গ্রীষ্মে জলতল নেমে যাচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দা নবীন কর্মকারের কথায়, “গ্রামের পাশে একটি কারখানায় কাজ করি। অবসর সময় রিকশা চালাই। গ্রামে লোক বাড়ায় রোজগার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে চিন্তা হয়।”
এলাকায় কোনও স্থায়ী বাজার নেই বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। সপ্তাহে দু’দিন খোলা মাঠে হাট বসে। গ্রীষ্মে প্রখর রোদেই বাজার করতে হয়। আবার বর্ষার সময় জল কাদার মধ্যেই চলে বিকিকিনি। স্থায়ী পাকা হাট গড়ার দাবি জানিয়েছেন হাটে আসা বিক্রেতা থেকে ক্রেতা-দু’পক্ষই। শিবপুরের সব্জি ব্যবসায়ী সুনীল রুইদাস বলেন, “এখানে পাকা হাট হওয়া খুবই প্রয়োজন।” হাটে আসা ক্রেতা পিয়ালী দত্ত বলেন, “এখানে নতুন ফ্ল্যাটে এসেছি। বাজারের বেহাল দশা বড় চোখে লাগে।”
বামুনাড়া গ্রামটি কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতি এলাকার মধ্যে পড়ে। পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, “পঞ্চায়েতের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গ্রামের ভিতরে রাস্তাঘাটে মোরাম দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের আধুনিক বাজারের পরিষেবা দেওয়ার জন্য জেলা পরিষদের সহযোগিতায় শপিং মল নির্মাণের কাজ প্রায় শেষের দিকে।” গ্রামে জল প্রকল্প গড়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের কাছে আর্জি জানানোর আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুরের প্রাক্তন মেয়র সিপিএমের রথীন রায়ের দাবি, “বামুনাড়ায় যে ভাবে নতুন নতুন আবাসন গড়া হচ্ছে, তাতে পঞ্চায়েতের পক্ষে প্রয়োজনীয় পরিষেবা দেওয়া কার্যত অসম্ভব। ওই এলাকাকে পুরসভার আওতায় আনতেই হবে। তা না হলে সমস্যা মিটবে না।” এ ব্যাপারে পুরসভার বর্তমান মেয়র অপূর্ব মুখোপাধ্যায় জানান, ভৌগলিক দিক থেকে এলাকাগত ভাবে দুর্গাপুর পুরসভা যথেষ্ট বড়। কিন্তু সেই তুলনায় লোকসংখ্যা কম। ওয়ার্ড মাত্র ৪৩টি। তাই দুর্গাপুর পুরসভার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তাঁর কথায়, “ভবিষ্যতে বামুনাড়া পুর এলাকায় ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.