দক্ষিণ কলকাতা: গড়িয়া, সোনারপুর
জল-যন্ত্রণা
উধাও নিকাশি
ল্প বৃষ্টিতেই আনন্দপুর, পশ্চিম চৌবাগা, মুন্ডাপাড়া, মাদুরদহ, মুকুন্দপুর, ছিটকালিকাপুর, নয়াবাদ, অহল্যানগর, পঞ্চসায়র, বুধেরহাট ইত্যাদি এলাকায় জল দাঁড়িয়ে যায়। সরতে যথেষ্ট সময় লাগে। অভিযোগ, নর্দমার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় এই অবস্থা হয়। নিকাশির মুখেও আবর্জনা জমে রয়েছে। অঞ্চলগুলি কলকাতা পুরসভার ১০৮ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এ পর্যন্ত এই অঞ্চলে খুব বৃষ্টি হয়নি। তবুও জল-যন্ত্রণা থেকে রেহাই মেলেনি। ১০৮ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের নিকাশি ব্যবস্থা সুতি খাল এবং সন্তোষপুর জোড়া ব্রিজ সংলগ্ন টালিগঞ্জ-পঞ্চান্নগ্রাম (টিপি ক্যানাল) খালের উপরে নির্ভরশীল। বাসিন্দারা জানান, বছরখানেক আগে দু’টি খালের সংস্কারও হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যায়। নর্দমার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় জল সরতে কয়েক দিন সময় লাগে। তা ছাড়া, আনন্দপুর থেকে বুধেরহাট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় নিকাশির মুখগুলি আবর্জনায় আটকে রয়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাসিন্দারাই আবর্জনা পরিষ্কার করেন। এতে সাময়িক সুরাহা হলেও স্থায়ী সমাধান হয় না। বর্ষায় রাস্তার এমন হাল হয় যে চলাচল করা যায় না। জমা জল থেকে জলবাহিত রোগ ছড়ায়। বাড়ে মশার উপদ্রবও।
১০৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তৃণমূলের পার্থ রায়চৌধুরী বলেন, “এই সমস্যা দু’বছরের নয়। দীর্ঘ দিন কোনও কাজ হয়নি। সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে। সময় লাগবে।” ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সিপিএমের রুমকি দাসের কথায়: “খাল সংস্কারের সময় খালে ছোট ছোট মাটির বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। সেই সব বাঁধ ভাঙা হয়নি। জল বের হওয়ার মুখগুলি আবর্জনায় আটকে রয়েছে। ফলে বৃষ্টি হলেই জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। আমার বাড়িতেও জল দাঁড়িয়েছিল। সংশ্লিষ্ট মহলে বার বার জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না।”
কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, সংযোজিত এলাকার ১০৮ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড ইএম বাইপাস এবং সোনারপুর পঞ্চায়েত এলাকার মাঝে রয়েছে। দু’টি ওয়ার্ডই আয়তনে বেশ বড়। গত কয়েক বছরে বসতি অনেক বেড়েছে। ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান তৃণমূলের দীপু দাসঠাকুর বলেন, “১০৮ এবং ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড দু’টি খুব বড়। নর্দমার সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায়। সমাধানের জন্য পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”
সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী শ্যামল মণ্ডল বলেন, “সমস্যা সমাধানের জন্য কেইআইপি-কে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলব।” কেইআইপি-র ক্যানাল রিহ্যাবিলিটেশন প্রজেক্টের ডিরেক্টর সুব্রত বণিক জানান, “বর্ষার জন্য এই সব এলাকায় খাল সংস্কারের কাজ বন্ধ রয়েছে। বর্ষার পরে আবার কাজ শুরু হবে।”

ছবি: পিন্টু মণ্ডল




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.