নজরেও নিয়ন্ত্রণে নেই সব্জির দাম
পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরো বাজারের দূরত্ব বড়জোর ২-৩ কিলোমিটার। কোথাও একই বাজারে পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে খুচরো ও পাইকারি সব্জি। আর তাতেই স্পষ্ট হয়েছে সব্জির খুচরো বিক্রির ক্ষেত্রে দামের ফারাক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে প্রশাসনের কর্তারা অভিযানে নামলেও উত্তরবঙ্গে পরিস্থতি এখনও ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরেই রয়েছে। বৃহস্পতিবারও ময়নাগুড়ি ও ফালাকাটায় পাইকারি বাজারে লঙ্কা বিক্রি হয়েছে ৬৫-৭০ টাকা দরে। স্থানীয় খুচরো বাজারে লঙ্কা বিক্রি হয়েছে ১০০-১২০ টাকা কেজি দরে। শিলিগুড়িতেও এদিন নিয়ন্ত্রিত বাজারে লঙ্কা বিক্রি হয়েছে ৭০-৮০ টাকা দরে। খুচরো বিক্রি হয়েছে ১২০-১৪০ টাকায়। বিক্রেতার দাবি, বর্ষায় লঙ্কা পচে যায়। সেই ক্ষতির কথা মাথায় রেখেই দাম ঠিক করতে হয় তাঁদের। যদিও ওই যুক্তিতে সন্তুষ্ট হতে পারেননি প্রশাসনিক কর্তারাও। জলপাইগুড়িতে এদিন মহকুমাশাসক সাগর চক্রবর্তী দিনবাজারে অভিযানে গেলে দ্রুত লঙ্কা, আলু-সহ বেশ কিছু সবজির দাম নেমে যায়।
আলিপুরদুয়ারের বড়বাজার পরিদর্শনে পুলিশ ও মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা। ছবি: নারায়ণ দে।
এদিন সকালে আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে অভিযান চালান প্রশাসনিক কর্তারা। আলিপুরদুয়ার বড় বাজারে অভিযান চালান মহকুমাশাসক অমলকান্তি রায়। মহকুমাশাসক বলেন, “ভোরের দিকে বড়বাজারে যে সমস্ত পাইকার সব্জি নিয়ে আসেন তাদের থেকে তা কিনে মাত্র কয়েক হাত দূরে ওই বাজারেই প্রায় দ্বিগুণ দামে বিক্রি করা হয়েছে। এ দিন খুচরো বিক্রেতাদের সর্তক করা হয়েছে। প্রয়োজনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জলপাইগুড়িতে মহকুমাশাসক সাগর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে দিনবাজারে অভিযান চালানো হয়। মহকুমাশাসককে দেখেই দিনবাজারে লঙ্কার কেজি প্রতি দর ১০০ টাকা থেকে এল লাফে ৮০ টাকায় নেমে যায়। আলুর দামও ১৮ টাকা থেকে নেমে প্রতি কেজিতে ১৬ টাকা হয়ে যায়। মহকুমাশাসক বলেন, “আমাদের কাছে যে দাম বলা হয়েছে, সেটা অনেকটাই স্বাভাবিক। এই দামেই কেনাবেচা হচ্ছে কি না তা দেখার জন্য নজরদারি চলবে। পাশাপাশি বাটখারা নিয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। সে বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে বাজারগুলিতে অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।” বুধবার শিলিগুড়ির বিধান মার্কেটে অভিযান চালান শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক বৈভব শ্রীবাস্তব। বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠলে বিক্রেতাকে বাধ্য করা হয় বাড়তি টাকা ফেরত দিতে। তাতে শিলিগুড়ির ওই বাজারে বিক্রেতা মহলে কিঞ্চিৎ আতঙ্ক সৃষ্টি হলেও পাল্টা ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। বিধান মার্কেটের সব্জি ব্যবসায়ী সুশান্ত মিস্ত্রি বলেন, “ফাঁসিদেওয়ার লিউসিপোখরি বাজার থেকে সব্জি কিনে বিক্রি করি। সেখানে আজও পাইকারি বাজারে লঙ্কা ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। তা হলে কত টাকায় বিক্রি করব? দাম বাড়ার কারণ প্রশাসনের আরও ভাল করে খোঁজ নেওয়া দরকার।” শিলিগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির সম্পাদক গোপাল দে বলেন, “কৃষি বিপণন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা নজরদারি চালাচ্ছি। সেই সঙ্গে সব্জির উপর সরকার কোনও ‘লেভি’ নেয় না। এটাও ক্রেতাদের জানা দরকার।” রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজারের খুচরো সব্জি ব্যবসায়ী কমল সাহার দাবি, পাইকারি বাজার থেকে কেনা সব্জির অনেকটা ক্রেতারা কিনতে চান না। পরিবহণ খরচও আছে। সেই কারণে, পাইকারি বাজারের দাম অনুযায়ী খুচরো সব্জি ব্যবসায়ীরা আলোচনা করে আনুষঙ্গিক খরচ ও ন্যূনতম লাভ রেখে সব্জির দাম নির্ধারণ করেন। আলিপুরদুয়ার নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির আধিকারিক পীযূষকান্তি দে অভিযোগ করেছেন, “মূলত ফড়েরাই গ্রাম থেকে সব্জি কিনে আলিপুরদুয়ার বড়বাজারে আনছেন। বাজার নিয়ন্ত্রণও করছেন তাঁরাই। সমস্ত ব্যবসায়ীর লাইসেন্স খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এ দিন বৃষ্টির জন্য ময়নাগুড়ি নিয়ন্ত্রিত বাজারে জলের দরে সব্জি বিকিয়েছে। শুক্রবার চাষিরা লঙ্কার দাম পেয়েছেন ৯৫ টাকা কেজি। শুক্রবার ৩০ টাকা কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। পানবাড়ি এলাকার চাষি কেশব রায় বলেন, “ফড়েরা গ্রামের বাজারে পৌঁছে নিজেরাই দাম ঠিক করে দিচ্ছেন। জলের দরে সব্জি কিনে শহরের বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছে।” খুচরো বাজারের বিক্রেতাদের কয়েকজন জানান, পাইকারি বাজারে ভাল সব্জি মিলছে না। যে সব্জি পাওয়া যাচ্ছে সেটা কিনে বাজারে পৌঁছানোর খরচ ছাড়াও রয়েছে ওজনের ঘাটতি। তাই দাম কিছুটা বেশি নিতে হচ্ছে। তুফানগঞ্জ বিবেকানন্দ পাইকারী সব্জি ব্যবসায়ী সমিতির সহকারি সম্পাদক গৌতম সরকার বলেন, “বর্ষার জন্য বাইরে চাহিদা বেড়ে গিয়েছে। অসমে প্রচুর আলু, লঙ্কা প্রতিদিন যাচ্ছে। ফলে জেলার খুচরো বাজারে দাম বেড়ে যাচ্ছে।” তুফানগঞ্জের খুচরো সব্জি বিক্রেতা কৃষ্ণ দেবনাথ বলেন, “পাইকারী বাজারের তুলনায় ওই সব কিছুই গড়ে ৭ থেকে ১০ টাকা কেজি প্রতি দাম বেড়েছে। প্রশাসনের অভিযানের পরে ওই বাজার দর অনেকটা কমেছে।” বাজারে হানা দিয়েও দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটেও সব্জির দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ প্রশাসন। জেলা কৃষি দফতরের তরফে বুধবার বালুরঘাটের প্রধান সব্জি বাজার এবং সাহেবকাছারি সব্জি বাজারে সমীক্ষায় নামেন কৃষি উপ অধিকর্তা। আলু এবং কাঁচালঙ্কার দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তাদের তরফে জেলাশাসককে রিপোর্টও দেওয়া হয়। তারপরেও সব্জির দামে কোনও হেরফের হয়নি বলে অভিযোগ। এ দিন বালুরঘাটে আলু ১৬ টাকা, কাঁচা লঙ্কা ১০০ টাকা, আদা ৫০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছে। ওল ৪০ টাকা, টমাটো ৩৫ টাকা, পটল, ঝিঙে ২০ টাকা ও করলা ২৫ টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরো সব্জি বিক্রেতাদের অভিযোগ, আড়তদারেরা প্রয়োজন মতো আলু দিচ্ছেন না। খুচরো বিক্রির জন্য ৫০ কেজি আলু কিনতে গেলে মিলছে ৩০ কেজি। আড়তদারদের একাংশের বক্তব্য, আলু ও লঙ্কার জোগান কম আসছে। জেলাশাসক দুর্গাদাস গোস্বামী বলেন, “জেলায় হিমঘরে আলুর মজুত কম। বর্ধমান থেকে আলু আমদানির ব্যবস্থা হচ্ছে। বাজারের উপর নজরদারি রয়েছে।”


শিলিগুড়ি
পাইকারি বাজার: লঙ্কা ৭০-৮০ টাকা। আলু ১৩ টাকা। পেঁয়াজ ১০ টাকা। কুমড়ো ১৩ টাকা। শসা ১১ টাকা। ঢেড়শ ১০ টাকা। বেগুন ২২-৩২ টাকা। টমাটো ২৫-৩০ টাকা। করলা ১৪-১৬ টাকা। পটল ১০-২০ টাকা। স্কোয়াশ ১৬ টাকা। লাউ ১২ টাকা। ঝিঙা ১৫ টাকা।

খুচরো বাজার: লঙ্কা ১০০-১৪০ টাকা। আলু ১৫-১৭ টাকা। পেঁয়াজ ১২-১৪ টাকা। কুমড়ো ২০ টাকা। শসা ২০-২৫ টাকা। ঢেড়শ ১৫-২০ টাকা। বেগুন ২৫-৪০ টাকা। টমাটো ৪০ টাকা। করলা ২০ টাকা। পটল ১৪-৩০ টাকা। স্কোয়াশ-২৫ টাকা। লাউ ২০ টাকা। ঝিঙে ২৪ টাকা।
ময়নাগুড়ি
পাইকারি বাজার: লঙ্কা ৬৫-৭০ টাকা। আলু ১২ টাকা। ঝিঙে ১০ টাকা। পটল ১৫ টাকা। ঢেড়শ ৫-৮ টাকা। বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা। টমাটো ২০ টাকা। উচ্ছে ১২ টাকা। বেগুন ২০ টাকা। মুলো ৩০ টাকা। বরবটি ১০ টাকা। পুঁই ১০ টাকা। শসা ৮-১০ টাকা।

খুচরো বাজার: লঙ্কা ১০০-১২০ টাকা। আলু ১৫-১৮ টাকা। ঝিঙে ২৫-৩০ টাকা। পটল ২৫-৩০ টাকা। ঢেড়শ ২০-২৫ টাকা। বাঁধাকপি ৪০ টাকা। টমাটো ৩০-৪০ টাকা। উচ্ছে ৩০ টাকা। বেগুন ২৫-৩০ টাকা। মুলো ৩৫-৪০ টাকা। বরবটি ২০ টাকা। শসা ২০ টাকা।
ফালাকাটা
পাইকারি বাজার: সাদা আলু ১২ টাকা। লাল আলু ১২ টাকা ৫০ পয়সা। লঙ্কা ৭০ টাকা। ঝিঙে ১৫ টাকা। বেগুন ১৬ টাকা। পটল ২২ টাকা। করলা ১৬ টাকা। ঢেড়শ ১০ টাকা। কাকরোল ২৪ টাকা।

খুচরো বাজার: সাদা আলু ১৪ টাকা। লাল আলু ১৮ টাকা। লঙ্কা ৯০ টাকা। ঝিঙে ২০ টাকা। বেগুন ২০ টাকা। পটল ৩০ টাকা। করলা ২০ টাকা। ঢেড়শ ১৫ টাকা।
আলিপুরদুয়ার
পাইকারি বাজার: পটল ১৫ টাকা। ঝিঙে ১৪ টাকা। লঙ্কা ৬৫ টাকা। ঢেড়শ ১২ টাকা। বেগুন ২০ টাকা। আদা ২৫ টাকা। রসুন ১৮ টাকা। সাদা আলু ১১ টাকা।

খুচরো বাজার: পটল ২৪-২৮ টাকা। ঝিঙে ২০-২৫ টাকা। লঙ্কা ১২০-১২৫ টাকা। ঢেড়শ ২৪ টাকা। বেগুন ৪০ টাকা। আদা ৪০-৫০ টাকা। রসুন ৪০-৫০ টাকা। সাদা আলু ১৪-১৮ টাকা।
রায়গঞ্জ
পাইকারি বাজার: আলু ১৩ টাকা। লঙ্কা ৮০ টাকা। পটল ১৪ টাকা। ঝিঙে ১১ টাকা। বেগুন ১২ টাকা। পেঁয়াজ ১০ টাকা। রসুন ৩০ টাকা। ঢেড়শ ১৪ টাকা। বরবটি ১৫ টাকা। করলা ২০ টাকা। গাজর ২৫ টাকা। পেঁপে ২০ টাকা। টমাটো ৩০ টাকা। আদা ৩২ টাকা।

খুচরো বাজার: আলু ১৫ টাকা। লঙ্কা ১০০ টাকা। পটল ২০ টাকা। ঝিঙে ১৬ টাকা। বেগুন ২০ টাকা। পেঁয়াজ ১৪ টাকা। রসুন ৪০ টাকা। ঢেড়শ ২০ টাকা। বরবটি ২০ টাকা। করলা ৩০ টাকা। গাজর ৩০ টাকা। পেঁপে ২০ টাকা। কাঁচাকলা প্রতিটি ৩ টাকা। টমাটো ৪০ টাকা। আদা ৪০ টাকা।
কোচবিহার
পাইকারি বাজার: আলু ১২-১৪ টাকা। ঝিঙে ২০ টাকা। বেগুন ২৫-৩০ টাকা। পটল ১৩ টাকা। লঙ্কা ৭০-১০০ টাকা। কাঁকরোল ১৫-১৬ টাকা। করলা ২০ টাকা।

খুচরো বাজার: আলু ১৮-২০ টাকা। বেগুন ৫০-৬০ টাকা। পটল ২০-২৪ টাকা। ঢেড়শ ২০-২২ টাকা। ঝিঙে ২৮-৩০ টাকা। লঙ্কা ১২০-১৫০ টাকা।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.