নিরস্ত্র করার চেষ্টা করুণাকেও
এনসিটিসি নিয়ে আশ্বাস, বিবৃতি দেবেন প্রধানমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় সংশোধনী না আনার জন্য লোকসভার নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের অনুরোধে বিশেষ কাজ হয়নি। তাই জাতীয় সন্ত্রাস দমন কেন্দ্র (এনসিটিসি) নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৃণমূলের সঙ্গে একটা বোঝাপড়ায় পৌঁছতে চাইল কংগ্রেস। আগামিকাল রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা নিয়ে ধন্যবাদসূচক প্রস্তাবের উপর লোকসভায় ভোটাভুটি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগে আজ প্রণববাবু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানান, সব রাজ্যের সঙ্গে কথা না বলে জাতীয় সন্ত্রাসদমন কেন্দ্র আপাতত চালু হবে না বলে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী কাল সংসদে ঘোষণা করবেন।
রাষ্ট্রপতির বক্তৃতা থেকে জাতীয় সন্ত্রাসদমন কেন্দ্র প্রসঙ্গটি বাদ দেওয়ার জন্য তৃণমূলের মতোই সংশোধনী এনেছে বিজেপি-সহ এনডিএ শরিকরা। কংগ্রেসের আশঙ্কা, বিরোধীদের পাশাপাশি শরিকরাও লোকসভায় ধন্যবাদ বিতর্কে এ নিয়ে বিপক্ষে ভোট দিলে সরকার হেরে যেতে পারে। তাতে সরকার পড়ে না গেলেও নৈতিক পরাজয় হবে। সেই পরিস্থিতি এড়াতে কংগ্রেস মরিয়া ছিলই, তার উপর আজ আবার রেলমন্ত্রী বদল এবং রেলভাড়া বৃদ্ধি প্রত্যাহারের জন্য তৃণমূলের দাবি নিয়ে সঙ্কট বাড়ে। সেই অবস্থায় সংশোধনী প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝাতে সক্রিয় হন কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য ছিল, ওই কেন্দ্র গঠন আপাতত হবে না, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে এমন আশ্বাস দেওয়ার পরেও রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় প্রসঙ্গটি রাখা হল কেন? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রূী চিদম্বরমের চাপাচাপিতেই এই অন্তর্ভুক্তি হয়েছে বলে তাদের অভিযোগ। তৃণমূল নেতৃত্বকে কংগ্রেসের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী আগামিকাল বিবৃতি দিয়ে এ ব্যাপারে তাদের আশঙ্কা দূর করবেন। লোকসভায় তৃণমূলের আনা সংশোধনীটিও এ দিন নিয়মগত কারণে বাতিল হয়ে যায়। সংসদ সূত্রে খবর, নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার কোন বিশেষ পরিচ্ছদ নিয়ে সংশোধনী আনা যায় না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা অবশ্য এই ঘটনার পিছনে এ ক্ষেত্রে একটা আপাত বোঝাপড়ার ইঙ্গিত পাচ্ছেন। ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব নিয়ে ভোটাভুটির বিষয়ে তারা কী করবেন, জানতে চাইলে লোকসভায় তৃণমূলের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, “কাল যদি ভোটাভুটির পরিস্থিতি আসে, তখন দেখা যাবে। তার আগে তো আমাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের একটা সম্ভাবনা আছে।” তবে রাজ্যসভায় সংশোধনীটি এখনও আছে। এবং সেখানে সংখ্যা নিয়ে সরকারপক্ষের চিন্তা বেশি। কাল প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিবৃতির পিছনে তাই রাজ্যসভাতেও সংশোধনী প্রসঙ্গে তৃণমূলকে নিরস্ত করার প্রয়াস দেখতে পাচ্ছেন অনেকেই।
শুধু তৃণমূল নয়, সংশোধনী প্রসঙ্গে চাপ বাড়িয়েছে অন্য বড় শরিক ডিএমকে-ও। করুণানিধির দল শ্রীলঙ্কায় তামিলদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে পৃথক সংশোধনী দিয়েছিল। এ দিন বিদেশমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণকে দিয়ে সংসদে বিবৃতি দিইয়ে ডিএমকে-কে নিরস্ত করার চেষ্টা করছে সরকার। কিন্তু তার পরেও রাতে করুণানিধি বলেন, “কেন্দ্র যদি রাষ্ট্রপুঞ্জে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ভোট না দেয়, আমরা মনে করব যে আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।” তাঁদেরও বোঝানোর চেষ্টা করে চলেছে কংগ্রেস। কালই লোকসভায় ভোটাভুটি হবে কি না, তা অবশ্য এখনও নিশ্চিত নয়। কংগ্রেস নেতা রাজীব শুক্ল জানান, রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার উপরে ধন্যবাদসূচক প্রস্তাব নিয়ে কালই প্রধানমন্ত্রী জবাব দেবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের ধারণা, সংশোধনী বিষয়ে দুই বড় শরিককে সামলে নিয়ে কালই ভোটাভুটি সেরে বিষয়টি মিটিয়ে ফেলতে চায় কংগ্রেস। সিপিআইয়ের গুরুদাস দাশগুপ্ত অবশ্য বলেন, এই বিতর্কে অনেক বক্তা থাকবেন। ফলে বিষয়টি সোমবার পর্যন্ত গড়াতে পারে।
মোটের উপর ইউপিএ সরকারের ভিতরের বিরোধকে খুঁচিয়ে কেন্দ্রকে যথাসম্ভব বিপাকে ফেলতে চায় বাম-বিজেপি। আগামি কালই সংসদ চত্বরে তৃণমূলের সাংসদরা ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনার’ বিরুদ্ধে ধর্নায় বসছেন। আজ রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় ধন্যবাদ বিতর্কে অংশ নিয়ে তৃণমূলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারও সেই সুরটি বেঁধে দেন। কাকলি বলেন, “রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় আর্থিক অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু একটি রাজ্য দেনাগ্রস্ত থাকলে দেশের আর্থিক অগ্রগতি কী করে হবে?” রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা অরুণ জেটলি যখন লোকপাল বিল নিয়ে আলোচনার দাবি তোলেন, তখন তৃণমূলের সুখেন্দু শেখর রায়ও সরব হন। তিনি বলেন, লোকপাল বিল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস যে সংশোধনী দিয়েছিল, তার সুস্পষ্ট পরিণতি হওয়া প্রয়োজন। সম্মিলিত আক্রমণের মুখে সংসদীয় মন্ত্রী পবন বনশলকেও প্রতিশ্রুতি দিতে হয়, সংসদের চলতি অধিবেশনের প্রথম ধাপেই লোকপাল বিল নিয়ে আলোচনা হবে।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.