বাধ্য হয়েই দাম বাড়ানো, যুক্তি তেল সংস্থাগুলির
বিপুল লোকসানের বোঝা কমাতে দাম বাড়ানো ছাড়া গতি ছিল না। সমালোচনার জবাবে এই ‘অমোঘ’ যুক্তিকেই ঢাল হিসাবে তুলে ধরছে তেল সংস্থাগুলি।
হিসেবের সবিস্তার খতিয়ান তুলে ধরে মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, দেশে তেলের চাহিদার ৭৯ শতাংশই আমদানি করতে হয়। কিছু দিন আগেও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অশোধিত তেলের দাম ছিল ৮৫ ডলার। ৩০ শতাংশ বেড়ে এখন তা দাঁড়িয়েছে ১১০ ডলারে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে এ দেশেও তেলের দাম বাড়বে। নিজেদের আমলে বিজেপিকেও আমদানি করা তেলের দামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেট্রোলের দাম স্থির করার নীতি নিতে হয়েছিল। বর্তমানে পরিস্থিতি আরও বিগড়েছে ডলারের তুলনায় টাকার দাম পড়ে যাওয়ায়।
প্রশ্ন উঠেছে, যখন টাকার দাম বেশি ছিল বা অশোধিত তেলের দাম কম ছিল, তখন তেল সংস্থাগুলি লাভের মুখ দেখলেও পেট্রোলের দাম কমায়নি কেন?
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আর এস বুটোলার ব্যাখ্যা, হয়তো এক বা দু’দিন অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে, তাতে লাভ হয়েছে। সেটা একটা সাময়িক চিত্র। অক্টোবরের প্রথমার্ধে প্রতি লিটার পেট্রোলে ২২ পয়সা করে ক্ষতি হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে সেই ক্ষতির হার লিটারে ১ টাকা ৫২ পয়সা হয়েছে। বুটোলা বলেন, “তেলের দাম বাড়ালে সাধারণ মানুষের উপর যে বোঝা চাপে, এক জন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও সেটা বুঝি। কিন্তু কোনও সংস্থা কি বিপুল লোকসান করে চলতে পারে? রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার লোকসান মানে তো দেশেরই লোকসান। এই লোকসান কমাতে গেলে হয় উৎপাদন কমাতে হবে। না হলে তেলের দাম বাড়াতে হবে। উৎপাদন কমানো তো সম্ভব নয়, তাই দাম না বাড়িয়ে উপায় ছিল না।”
পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে অমৃতসরে ইউপিএ সরকারের কুশপুত্তলিকা
পোড়াচ্ছেন যুব অকালি দলের কর্মীরা। ছবি: এএফপি
সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলির দাবি, তেল সংস্থাগুলি মোটেই ক্ষতিতে চলছে না। তাদের ব্যালান্স শিটে লক্ষ কোটি টাকা লাভের হিসেব দেওয়া হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের পাল্টা যুক্তি, গত জুনে ডিজেল, কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরেও চলতি বছরে তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি বা ‘আন্ডার-রিকভারি’-র পরিমাণ ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকায় গিয়ে দাঁড়াবে। গত বছর এই পরিমাণ ছিল, ৭৮ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। প্রতি লিটার ডিজেলে এই ‘আন্ডার-রিকভারি’-র পরিমাণ ৮ টাকা ৫৮ পয়সা, কেরোসিনে ২৫ টাকা ৬৬ পয়সা এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে ২৬০ টাকা ৫০ পয়সা।
বামপন্থী অর্থনীতিবিদদের আবার পাল্টা যুক্তি, এই ‘আন্ডার-রিকভারি’-র হিসেবটা একেবারেই কাল্পনিক, এটা আসল ক্ষতির পরিমাণ নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের দামে এ দেশে পরিশোধিত তেল বিক্রি না করায় কত ক্ষতি হচ্ছে, সেটাই হচ্ছে ‘আন্ডার-রিকভারি’। অশোধিত তেল আমদানি করে এ দেশে তা পরিশোধন করা হয়। ধরা যাক, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেল পরিশোধন করে এক লিটারের দাম দাঁড়ায় ১০০ টাকা। কিন্তু অশোধিত তেল আমদানির পরে এ দেশে তা পরিশোধন করে, লাভের অঙ্ক রেখেও এক লিটারের দাম দাঁড়ায় ৭০ টাকা। কারণ এ দেশে পরিশোধনের খরচ অনেকটাই কম। তেল সংস্থাগুলির যুক্তি, তাদেরও ১০০ টাকাই দাম চাই। না হলে ৩০ টাকা ‘আন্ডার-রিকভারি’ হবে। সমালোচকদের মতে যা অযৌক্তিক। দেশে উত্তোলিত তেল ও তার পরিশোধনের খরচও অনেক কম। তাই পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের ওই ১ লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার হিসেব পুরোটাই কাল্পনিক।
‘আন্ডার-রিকভারি’-র পরিমাণ যে পুরোটাই ক্ষতির পরিমাণ নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার কর্তারাও তা মানছেন। তবে তাঁদের যুক্তি, যাই হোক না কেন ক্ষতি তাঁদের হচ্ছে। ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যানের দাবি, গত বছর তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার মোট ক্ষতি ছিল ২৩০০ কোটি টাকা। সরকার এখনও তা মেটায়নি। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ছয় মাসেই ক্ষতির পরিমাণ আড়াই হাজার কোটি ছুঁয়েছে। ডিজেল, কেরোসিন ও রান্নার গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারের থেকে কম দামে বিক্রিতেই এই ক্ষতি।
অর্থ মন্ত্রকের আমলারা অবশ্য বলছেন, ডিজেলের দামে ভর্তুকি কমাতে পারলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ানো হলে পরিবহণ খরচ বেড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও যে বাড়বে, সেটাও সত্যি। কিন্তু সরকারের এখন আশু লক্ষ্য আর্থিক ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। সে জন্য ডিজেল-কেরোসিন ও রান্নার গ্যাসে ভর্তুকি কমানো প্রয়োজন। একেবারে নিয়ন্ত্রণমুক্ত না করা হলেও দাম বাড়িয়েই সেই পথে হাঁটতে হবে সরকারকে।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.