খেলা
ক্যারাটেতে সাফল্য
পুরস্কার হাতে মিলি সেনশর্মা, সুকন্যা পাল, সোহম সরকার, দীপক মারোলিয়া, নেহা দাসদের মুখগুলি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছিল। হাওড়ার হয়ে সর্বভারতীয় আমন্ত্রণমূলক ক্যারাটে ডো চ্যাম্পিয়নশিপ-এ সফল হয়েছেন এরা। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বসেছিল এই প্রতিযোগিতার আসর। সম্প্রতি বিজয়কৃষ্ণ স্মৃতি সমিতি ভবনে একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দিল হাওড়া ডিস্ট্রিক্ট সেই সিনকাই শিতো রিও ক্যারাটে ডো অ্যাসোসিয়েশন।
এ বার হাওড়া জিতে আনে তিনটি সোনা, চারটি রুপো ও সাতটি ব্রোঞ্জ। সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতায় হাওড়া থেকে অংশ নেওয়া ৪৬ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১৭ জনই মন্দিরতলার বিজয়কৃষ্ণ ক্যারাটে অ্যাকাডেমিতে ক্যারাটের চর্চা করে।
সিংহভাগ সাফল্যই পেয়েছে এই অ্যাকাডেমির খুদেরা। “কিছু দিন আগেও অনেকেই মনে করতেন ক্যারাটের চর্চা করলে চোট আঘাত লাগতে পারে। আধুনিক ক্যারাটে অনেকটাই বদলে গিয়েছে। এখন আর আঘাত নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীর শরীর ছুঁলেই পয়েন্ট পাওয়া যায়। আছে হেড গার্ড, চেস্ট গার্ড, নি গার্ডের ব্যবস্থাও। ফলে অনেক অভিভাবকই ছেলেমেয়েদের ক্যারাটে শেখাতে নিয়ে আসছেন”, বলছিলেন জেলা ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শান্তনু চন্দ্র।
প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব ১২-এর কাতা বিভাগে সোনা এবং কুমিতে ব্রোঞ্জ জিতেছে মন্দিরতলার মেয়ে সুকন্যা পাল। গোখেল মেমোরিয়াল গালর্স স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী সুকন্যা দু’বছর ক্যারাটে শিখছে। মা সোমা পাল বললেন, “আজকাল শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি আত্মরক্ষার জন্যও ক্যারাটে প্রয়োজন।” কাসুন্দিয়া শিবতলার সোহম সরকার ছোটবেলায় শ্বাসকষ্টে ভুগত। ইনহেলার নিতে হত। প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব আট বিভাগে কাতায় সোনা জিতে আসা হেরিটেজ অ্যাকাডেমি হাইস্কুলের তৃতীয় শ্রেণির এই ছাত্রটি বলল, “ক্যারাটে শিখে শ্বাসকষ্টও অনেক কমে গিয়েছে।”
বাবার চায়ের দোকান। চুনাভাটির ছোট্ট মেয়ে মিলি সেনশর্মা বিবেকানন্দ যুব সমিতিতে ক্যারাটে শেখে। অনূর্ধ্ব ছয় বিভাগে কাতায় সোনা ও কুমিতে ব্রোঞ্জ জিতেছে সে। বিজয়কৃষ্ণ ক্যারাটে অ্যাকাডেমিতে চার বছর ক্যারাটে শিখছে শিবপুরের নেহা দাস। কলকাতার শ্রীশিক্ষায়তনের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীটি অনূর্ধ্ব ১৬ বিভাগে কাতা ও কুমিতে রূপো জিতেছে। নেহার কথায়: “কাতা হল শ্যাডো ফাইটিং। আর কুমিতে দুই প্রতিযোগীকে একে অন্যের বিরুদ্ধে লড়তে হয়। শরীর ফিট রাখতে ক্যারাটে শিখতে এসেছিলাম। দ্রুত ব্ল্যাক বেল্ট হতে চাই।”
প্রতিযোগিতায় ৩০ ঊর্ধ্ব বিভাগের মাস্টার ইভেন্টে ব্ল্যাক বেল্টধারী ৬৫ জন প্রশিক্ষকের লড়াইয়ে হাওড়ার সুদীপ দাস কাতায় রূপো জিতেছেন। শান্তনুবাবু জানালেন, জেলা ক্যারাটে সংস্থার অধীনে ১৩টি অনুমোদিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে নিয়মিত ক্যারাটের চর্চা হচ্ছে। বাংলা মাধ্যম স্কুলগুলির কাছ থেকে তেমন সাড়া না মিললেও ইংরেজি মাধ্যমের কয়েকটি স্কুল এগিয়ে এসেছে।




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.