আনন্দবাজার পত্রিকা - মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া


 
আবেগের ঢেউ, বইমেলায় লক্ষ্মীলাভ
ফস্সলের ছোট-ছোট বইমেলা। সেই বইমেলাকে ঘিরে লক্ষ-লক্ষ টাকার বিকিকিনি। বইমেলায় ভিড় যেমন বাড়ছে দিনদিন, তেমনই এই সময়টা বই প্রকাশের হিড়িক পড়ছে লেখক-প্রকাশকদের। বইমেলাকে ঘিরে মফস্সলের বই-ব্যবসার গ্রাফ ক্রমশই উর্ধ্বগামী। কম্পিউটারের যুগে যেখানে বই উঠে গেল বলে হায়-হায় রব, সেখানে ছোট মাপের এই বইমেলাগুলি নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে প্রকাশকদের।
সদ্যই শেষ হয়েছে বহরমপুর, কৃষ্ণনগর জঙ্গিপুর, চাপড়া, শান্তিপুর ও নবদ্বীপের বইমেলা। এর মধ্যে বহরমপুরে ৭০ লক্ষ টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। কৃষ্ণনগরে ৪২ লক্ষ, জঙ্গিপুরে প্রায় ২২ লক্ষ। চাপড়া, শান্তিপুরের মতো ছোট-ছোট শহরগুলোও পিছিয়ে নেই। নবদ্বীপে আবার গত ১৩ বছর ধরে শহরের দু’প্রান্তে পনেরো-কুড়িদিনের ব্যবধানে দু’-দু’টি বইমেলা হয়ে আসছে। একটি পুরসভার উদ্যোগে (শ্রীচৈতন্য বইমেলা), একটি নবদ্বীপ বইমেলা কমিটির উদ্যোগে। দু’টি বইমেলাতেই তিন থেকে চার লক্ষ টাকার বিক্রি হয়।
মুর্শিদাবাদ জেলার সদর বহরমপুর বা নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সরকারি বইমেলায় আয়োজন অনেক বড়। ফলে বিক্রিও হয় বেশি। কিন্তু নবদ্বীপ, চাপড়ার মতো মফস্সলগুলিতে বেসরকারি উদ্যোগে যে বইমেলা হয়, সেখানেও লক্ষ-লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয় কী ভাবে? নবদ্বীপ বইমেলার সভাপতি অপূর্ব পোদ্দার জানালেন, বিক্রি করার জন্য কিছু কৌশলও নিয়ে হয় বই কী। যেমন, কোনও ক্রেতা এক হাজার টাকার বই কিনলেই মেলা কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে একশো টাকা মূল্যের বই উপহার দেন তাঁরা।
সদ্য সমাপ্ত জঙ্গিপুর বইমেলাতেও ছিল সমান আগ্রহ। —নিজস্ব চিত্র।
পাশাপাশি বইমেলার মঞ্চে ডেকে তাঁর হাতে একটি শংসাপত্র দেওয়া হয়। এ ছাড়া কলকাতার প্রকাশনা সংস্থাগুলিকে নিয়ে আসার উপরেও জোর দেওয়া হয়। শ্রীচৈতন্য বইমেলার আবার ভিন্ন পরিকল্পনা। যুগ্ম সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের এই বইমেলা কমিটির প্রায় আড়াইশো সদস্য আছে। তাঁদের প্রত্যেককে কম করে পাঁচশো টাকার কুপন কিনতে হয়। যে কুপনগুলি দিয়ে বই কিনতে হয় মেলায়। এই ভাবে মেলা শুরু হওয়ার আগেই বড় অঙ্কের বই বিক্রি নিশ্চিত হয়ে যায়।”
তবে, এত কিছু না করলেও যাঁরা বই কেনার, তাঁরা ঠিক বই কেনেন। গত বছরই যেমন নবদ্বীপ হিন্দুস্কুলের বাংলার শিক্ষক তথা চিত্রশিল্পী মৃণালেন্দু দাস বইমেলার পুরনো বইয়ের স্টল থেকে বারো হাজার টাকায় কুড়ি খণ্ডের এনসাইক্লোপিডিয়া কিনে বলেছিলেন, “এটা আমি নয় নবদ্বীপ কিনল। আমার হেফাজতে থাকল এই পর্যন্ত।”
প্রতি বছরই ভিড় বাড়ছে বইমেলাগুলিতে। শুধু টিকিটের হিসেবেই এ বার যেমন জঙ্গিপুর বইমেলায় ৩৯ হাজার লোক গিয়েছিল। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, শিশু ও ষাটোর্ধ্ব নাগরিকদের টিকিট লাগেনি। তা সত্ত্বেও ৪৪ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে এ বারের বহরমপুর বইমেলায়। মোট ৭০ লক্ষ ১৩ হাজার ৭২৪ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। ১৯ হাজার ৪০০ টাকার বই কিনে ব্যক্তিগত ভাবে ক্রেতাশ্রী পুরস্কার পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক অভিজিৎ ভট্ট। ৩৪ হাজার ৬২০ টাকার বই কিনে সংস্থাগত ক্রেতাশ্রী পুরস্কার পেয়েছে বহরমপুরের ‘জওহর নবোদয় বিদ্যালয়’।
এ দিকে, বইমেলায় বই প্রকাশের আগ্রহ বাড়ছে মফস্সলের লেখকদের। সে কলকাতার বইমেলাই হোক বা চাপড়ার বা বহরমপুরের। পেশায় সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বাস্তুকার বহরমপুরের সমীরণ ঘোষ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে সপ্তম কাব্যগ্রন্থ ‘সাঁই আমাকে ওড়াও’ (ভাষাবন্ধন) প্রকাশ করেছেন বইমেলায়। সমীরণবাবু বলেন, “লেখক, কবি, প্রকাশক, সম্পাদক ও পাঠকের কাছে বইমেলা অনন্য তীর্থক্ষেত্র। ওই আবেগ থেকেই পরিচিতজনদের সঙ্গে নিয়ে ও অপরিচিতজনদের সামনে বইমেলায় বই প্রকাশের ইচ্ছা জাগে। আমিও তাই করি।” বইমেলা উপলক্ষেই প্রকাশিত হয়েছে লালগোলার নীহারুল ইসলামের পঞ্চম গল্পগ্রন্থ ‘ঘাট আঘাটের বৃত্তান্ত’ (অভিযান), ইসলামপুরের মবিনুল হক-এর ‘লেপ ও অন্যান্য গল্প’ (ভাষাবন্ধন), বহরমপুরের জিনাত ইসলামের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘আমি এবং ইবলিশ’ (উদার আকাশ), সুজাতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গল্পগ্রন্থ ‘ছুটির গল্প’-সহ একগুচ্ছ বই ও পত্র-পত্রিকা। বহরমপুরের একটি প্রকাশনা সংস্থার সম্পাদক অভিজিৎ রায় বলেন, “আসলে বইমেলায় বই প্রকাশ হলে বিপুল সংখ্যক পাঠকের কাছে প্রচার পাওয়া যায়। সারা বছরের মধ্যে বইমেলাতেই সব চেয়ে বেশি বই বিক্রি হয়।” জেলার সাহিত্যিকদের সাহিত্যকীর্তি জানতে লোকজনের আগ্রহও ছিল ভাল। মুর্শিদাবাদ জেলা ৩৩তম বইমেলা কমিটির অফিস সম্পাদক তপন ঘোষ বলেন, “জেলার লেখকদের প্রকাশিত বই ও ক্ষুদ্র পত্রপত্রিকার ভাল চাহিদা ছিল। ব্যবসাও ভাল হয়েছে।”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.