হুল্লোড়

বাইপাসের গভর্মেন্ট কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড লেদার টেকনোলজি থেকে হলিউড। দূরত্বটা ঠিক কত?
(হেসে) সত্যি দূরত্বটা অনেকটাই। তবে পথ চলাটাই যখন নিজের অ্যাম্বিশন, তখন দূরত্ব নিয়ে ভাবলে চলে না। শুধু যাত্রাটাই উপভোগ করতে হয়। কলকাতায় থাকতে অবশ্য কোনও দিন ভাবিনি যে হলিউডে ছবি করব।

ক্রেগ গিলেসপির ‘মিলিয়ন ডলার আর্ম’ ছবির অফার পেলেন কী করে?
অডিশন দিয়ে। লেদার টেকনোলজি পড়ার পরে আমি ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে পড়াশুনো করি। তার পর গিয়ে পৌঁছই মুম্বইতে। সেখানে ‘শোর ইন দ্য সিটি’ করি। তার পর ‘সাংহাই’। আরও কিছু ছবি। এই হলিউডের ছবিটি করার জন্য অডিশন দিই। হলিউডের ছবি, তাও আবার ডিজনি স্টুডিয়ো থেকে বানানো। ধাপে ধাপে অনেক বার অডিশন দিতে হয়েছিল আমাকে। সিনেমা থেকেই অন্তত দশটা সিন করে দেখাতে বলেছিল আমাকে। এক মাস আগে জানতে পারি যে আমি ছবিটির জন্য নির্বাচিত হয়েছি।

‘মিলিয়ন ডলার আর্মস’ ছবিটি তো বাস্তব দুই চরিত্রকে নিয়ে— রিঙ্কু সিংহ আর দীনেশ পটেল...
হ্যাঁ। আমেরিকান স্পোর্টস এজেন্ট জে বি বার্নস্টেইন দু’জন ভারতীয় বেসবল পিচারদের নিয়ে যান আমেরিকায়। তাঁদের নিয়েই ছবি।

আপনি কোন চরিত্রে?
(হাসি) আমার চরিত্রটি বেসবল ভালবাসে। আমাদের দেশে বেসবল অত জনপ্রিয় খেলা নয়। তাই বেসবল ফ্যান হওয়াটাও বেশ অস্বাভাবিক। তবে আমার চরিত্রটি এ রকমই একজনের। ছবিতে আমার চরিত্রের নাম অমিত। আর বলব না। হলিউডের কনট্র্যাক্ট। একবার ‘ট্যুইটার’-এ লিখে ফেলেছিলাম কিছু। তার পর যা বকুনি খেয়েছি! আমি আর বলব না।
আমি
৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৮৩
• জন্মস্থান: ভুবনেশ্বর
সিঙ্গল
• প্রিয় অভিনেতা: ড্যানিয়েল ডে লিউইস,
বলরাজ সাহানি, উৎপল দত্ত
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি,
মেরিল স্ট্রিপ, স্মিতা পাটিল
• শখ: গিটার বাজানো, সুফি গান গাওয়া
সমুদ্রে সাঁতার কাটতে

সিনেমাতে আপনার সহ-অভিনেতা হলিউডের জন হ্যাম। যিনি বার্নস্টেনের চরিত্রে অভিনয় করছেন। ওঁর সঙ্গে কাজ করাটা কি খুব টেনশনের?
আরে না। একদমই তা নয়। একটু একটু বলিউড সম্পর্কে জানেন। হিন্দু ধর্ম নিয়েও বেশ ভাল ধারণা আছে ওঁর। তবে ছবিটি করার আগে আমি জন হ্যামের কাজ দেখিনি।

উনি তো ক্লিন্ট ইস্টউডের ছবিটিতেও অভিনয় করছেন?
হুমম... আমি ওঁকে জানি ‘ম্যাড মেন’ সিরিজটার জন্য। ‘মিলিয়ন ডলার আর্ম’ সাইন করার পরে আমি ইউটিউবে ওঁর ‘ম্যাড মেন’ দেখি। জন খুব পেশাদার। আমরা ছ’দিন মুম্বইতে শ্যুটিং করেছি। লখনউ বিমানবন্দর আর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের শ্যুটিং শেষ করে আগ্রাতে কাজ শুরু হয়েছে। চার দিন শ্যুটিং করব আগ্রাতে। তবে তাজমহলে নয়।

দিবাকর বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন?
এখনও না। দিবাকর তো ট্যালেন্ট দেখেই আমাকে ‘সাংহাই’তে রোল দিয়েছিলেন। এই হলিউড ছবিটাতে আর দু’জন ভারতীয় অভিনেতা আছেন। তাঁদের মধ্যে একজন সুরজ শর্মা। ও ‘লাইফ অব পাই’ করেছে। তাও আবার অ্যাং লি’র মতো পরিচালকের সঙ্গে। আর আছেন মদন মিত্তল। উনি ‘স্ল্যামডগ মিলিয়নেয়ার’ ছবিতে দেব পটেলের ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সুরজ আর মদন, দু’জনেই যেহেতু ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক ছবিতে অভিনয় করেছেন, তাই হলিউড ওঁদের চেনে। আমি কিন্তু সেই অর্থে মুম্বইতেই কাজ করেছি। আন্তর্জাতিক ছবি করার অভিজ্ঞতা ছিল না আমার, যা দেখে ডিজনির লোকেরা মুগ্ধ হতে পারেন। তাই আমার যা প্রমাণ করার ছিল সেটা অডিশনেই করতে হত। দিবাকর এটা জেনে খুশি হবে যে ওঁর ছবির ‘ভাগ্গু’ এখন হলিউডে কাজ করছে।

এ ছবির শ্যুটিংয়ের ধরনটা কি এখানের থেকে অনেকটাই আলাদা?
ওদের প্রি-প্রোডাকশনটাই অনেক বেশি ডিটেলে করা হয়। স্টার্ট টু ফিনিশ কাজ। এখানে অনেক ক্ষেত্রেই এক-একজন শিল্পী আর টেকনিশিয়ানরা দু’তিনটে করে ছবি করে। ডেট অ্যাডজাস্টমেন্ট দরকার হয়। ওখানে সেই সব অত হয় না।
‘লাইফ অব পাই’-তে সুরজ শর্মা
সুরজ বাচ্চা ছেলে। মাত্র একুশ বছর বয়স। কিন্তু শ্যুটিং করে বুঝেছি যে অ্যাং লি-র
সঙ্গে কাজ করে সিনেমা সম্পর্কে ওর পরিণত ধারণা রয়েছে

সুরজ শর্মা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি পেয়ে গিয়েছেন। শ্যুটিংয়ের বাইরে সুরজকে কেমন লাগছে?
বাচ্চা ছেলে। মাত্র একুশ বছর বয়স। কিন্তু অ্যাং লি-র সঙ্গে এক বছর কাজ করে সিনেমা সম্পর্কে পরিণত ধারণা রয়েছে ওর। তবে এখনও সে ভাবে আড্ডা মারা হয়নি ওর সঙ্গে। দু’মাসের জন্য আমেরিকা যাব। তখন আমরা এক হোটেলে থাকব। তার মানে শ্যুটিংয়ের পরে অনেক আড্ডা হবে। আই অ্যাম লুকিং ফরওয়ার্ড টু দ্যাট।

আমেরিকাতে যাচ্ছেন শ্যুটিং করতে। বেসবল শিখছেন?
হ্যাঁ। ছবিতে আমি বেসবল খেলি না। তবে যেহেতু আমি একজন ফ্যান, তাই আমাকে বেসবলের টিউটোরিয়ালগুলো নিতে হচ্ছে।

আমেরিকাতে তো বেসবলের টার্মিনোলজি আর ডেটিংকে জড়িয়ে অনেক ইয়ার্কি করা হয়। শ্যুটিং করতে গিয়ে কি এই সব টার্মগুলো রপ্ত করেছেন নাকি?
হ্যাঁ, শুনেছি। এই ইয়ার্কিগুলো আমি জানি। বিদেশি ছবিতে দেখেছি। তাই ‘ফার্স্ট বেস’, ‘সেকেন্ড বেস’, ‘থার্ড বেস’ টার্মগুলোর সঙ্গে আমি পরিচিত। আমাদের দেশে শারীরিক সম্পর্ক বোঝানোর জন্য এই ধরনের টার্মগুলো ব্যবহার করা হয় না। হয়তো ঘটনাগুলো একই হয়। তবে প্রত্যেক দেশের এক একটা নিজস্ব ভাব থাকে কিছু বোঝানোর জন্য। এ দেশে থেকে এই টার্মগুলো ব্যবহার করিনি। তবে আমেরিকাতে গেলে কী করব জানি না (হাসি)।

হলিউড তো হল, বলিউডেও তো সামনেই একটা বড় ছবি মুক্তি পাবে আপনার...
হ্যাঁ। ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই এগেন’। ওটাতে অক্ষয়কুমার আর ইমরান খানের সঙ্গে কাজ করছি। আমি এখানে একজন গ্যাংস্টার। পিরিয়ড ছবি। আশির দশকের শেষের পটভূমিতে তৈরি।

‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই’ তে তো চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত ছিল। এটাতেও কি তাই?
না। আমার চরিত্রটি কাল্পনিক। নাম দেদ ট্যাং। বাস্তবে এ রকম কোনও গ্যাংস্টার ছিল বলে আমার জানা নেই। তবে মজার ব্যাপার কী জানেন? ‘সাংহাই’তে আমার একটা গান ছিল ইমরান হাশমির সঙ্গে। এখানে আবার একটা গান আছে আমার। এ বার ইমরান খানের সঙ্গে। ইয়ার্কি করে আমি বলি যে, ইমরান নামটার সঙ্গে আমার বেশ একটা ওতপ্রোত ভাবে যোগ রয়েছে। ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই এগেন’য়ের জন্য ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’ ছবি থেকে ‘তয়াব আলি পেয়ার কা দুশমন’ গানটা রিক্রিয়েট করা হয়েছে। সেখানেই ইমরান, সোনাক্ষী সিংহ আর আমি একসঙ্গে নেচেছি।

ঋষি কপূরের সেই কিংবদন্তি গানটা রিক্রিয়েট করা চাট্টিখানি কথা নয়...
তা ঠিক। তবে এ বিষয়ে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হল সুরকারের। গানটা এতটাই জনপ্রিয় যে সুরকারের উপর প্রচুর চাপ থাকে সেটা পুনর্গঠন করার সময়, যাতে কোনও ভাবেই নতুন গানটা পুরনো গানটাকে ছোট না করে। রাজু খান কোরিওগ্রাফ করছেন গানটা। আমার তো দারুণ লেগেছে গানটা শ্যুটিংয়ের সময়। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই আমার গানটা ভাল লাগত। তখন দূরদর্শনে দেখতাম। তখন কি আর ভেবেছি যে এক দিন এই গানটাতেই আমি বড় পর্দায় নাচব?
‘সাংহাই’ ছবিতে ইমরান হাশমির সঙ্গে পীতবাস
‘সাংহাই’তে আমার একটা গান ছিল ইমরান হাশমির সঙ্গে। ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন মুম্বই’-এ
নাচ আছে ইমরান খানের সঙ্গে। ইমরান নামটার সঙ্গে আমার আশ্চর্য যোগ রয়েছে

অক্ষয় আর সোনাক্ষীর সঙ্গে তো আগেও কাজ করেছেন...
হ্যাঁ। শিরীষ কুন্দনের ‘জোকার’য়ে কাজ করেছি। ৩৫ দিন একসঙ্গে শ্যুটিং করেছি চণ্ডীগড়ে।

আজকাল তো প্রায় সব নতুন তারকাই বলিউড স্টারদের আত্মীয়। আপনার সে অর্থে কেউ নেই। এঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন আপনি?
আমি যেটুকু করেছি নিজের চেষ্টাতেই করেছি। আমি জানি আমাকে একটা লিমিট রেখেই বন্ধুত্ব করতে হবে। আড্ডা, ইয়ার্কি সব ভাল। কিন্তু এটা তো মানতেই হবে যে, আমি তো আর ইন্ডাস্ট্রিতেই বড় হয়ে উঠিনি। আই এনটার্ড দ্য ইন্ডাস্ট্রি মাচ লেটার দ্যান দেম। তবে নিজের প্রতিভার জোরে কোথাও পৌঁছনোর আনন্দটাই আলাদা। এর মধ্যে একটা রোম্যান্টিক থ্রিলার শু্যট করলাম। নাম ‘হলকট’। ছবিতে আমার সঙ্গে আছে শ্রেয়স তলপাড়ে, টিয়া বাজপেয়ি আর মিমো। কল্পনা লাজমির সঙ্গে একটা ছবির শ্যুটিং করেছিলাম। কিন্তু কিছু দূর শ্যুটিংয়ের পর জানতে পারলাম যে প্রযোজক ফ্রড। তাই ছবিটি আটকে গিয়েছে।

এত ভাল বাংলা বলেন। কলকাতাতে নাটক করেছেন। বাংলা ছবি করছেন না কেন?
একটা অফার এসেছিল। থ্রিলার। পরিচালক নতুন। কিন্তু ছবির শ্যুটিংয়ের টাইমিং ক্ল্যাশ করে গেল ‘মিলিয়ন ডলার আর্মস’য়ের সঙ্গে। তাই হয়ে উঠল না। তবে আমি হিন্দি ছবি ‘সাংহাই’তেই তো প্রসেনজিৎ স্যারের সঙ্গে কাজ করেছি। সেটাও বড় প্রাপ্তি।

ফিরে দেখলে কলকাতাকে কেমন লাগে?
মনে পড়ে থিয়েটার করার কথা। শান্তনু বসুর সঙ্গে নাটক করেছি কলকাতাতে। উনি এখন ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামার শিক্ষক। বাংলা থিয়েটারও করেছি। গোপাল দাসের সঙ্গে। কলকাতাতে থাকাকালীন ঊষা গঙ্গোপাধ্যায়ের নাটক দেখতাম। ‘কাশীনামা’ দেখেছি। রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, সুমন মুখোপাধ্যায়ের কাজও দেখেছি। আর মনে পড়ে কলেজের দিনগুলোর কথা। কত স্মৃতি। আমাদের এক প্রফেসর ছিলেন যাঁর পড়ানোর স্টাইল আমার একদম ভাল লাগত না। আমি বুঝতেই পারতাম না ওঁঁর লেকচার। ক্লাস শুরু হওয়ার কুড়ি মিনিট পরে ঢুকতাম অ্যাটেনডেন্সটুকু পাওয়ার জন্য। তার পর গিয়ে লাস্ট বেঞ্চে বসে ঢুলতাম। এক বার উনি আমাকে ঢুলতে দেখে খুব বকুনি দিয়েছিলেন। আমি ধৃষ্টতা দেখিয়ে বলেছিলাম: ‘আপনার উচিত এমন ভাবে পড়ানো, যাতে ক্লাসের লাস্ট বেঞ্চের ছাত্রও সেটা বুঝতে পারে’। আর তার পর ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে যাই। আজ বুঝি যে এই কথাটা আমার বলাটা উচিত হয়নি। ওই স্যারের সঙ্গে যদি আবার দেখা হয় তা হলে বলব, স্যার সে দিনের অবাধ্য ছাত্রকে ক্ষমা করে দেবেন। আপনার সেই বেয়াড়া ছাত্র পড়া বুঝতে পারেনি। তবে হয়তো এটা শুনে ভাল লাগবে যে আজকে সে একটা আন্তর্জাতিক ছবিতে অভিনয় করছে।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.