ক্রিকেট জুয়া
প্রমাণ নেই, দাউদ-যোগ নিয়ে পুলিশ তাই চুপচাপ
বার ক্রিকেট জুয়া। আবারও সেই ডি-কোম্পানির অদৃশ্য হাত। এবং আবারও পুলিশের হাতে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকা!
আইপিএল-এ স্পট ফিক্সিং এবং ক্রিকেট জুয়া চক্রের পিছনে দাউদ ইব্রাহিমেরই হাত দেখছেন দিল্লি পুলিশ ও গোয়েন্দা-কর্তারা। দিল্লির পুলিশ কমিশনার নীরজ কুমার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে যে রিপোর্ট দিয়েছেন, সেখানে দাউদ ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের দিকেই সন্দেহের তির। কিন্তু প্রমাণ? এখানেই থমকাচ্ছেন পুলিশ-কর্তারা। প্রকাশ্যে মুম্বইয়ের আন্ডারওয়ার্ল্ডয়ের দিকে আঙুল তুললেও সরাসরি দাউদ বা টাইগার মেমনদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ যে তাঁদের কাছে নেই, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানিয়েছেন নীরজ। এই ক্রিকেট জুয়া সাম্রাজ্যের টিকি যে বিদেশেই বাঁধা, তাতে কোনও সন্দেহ নেই পুলিশ কর্তাদের। তবে সেই জুয়া চক্রের স্নায়ুকেন্দ্র কোথায়, দুবাই না করাচি, তা নিয়ে এখনই মুখ খুলতে নারাজ নীরজ কুমার।
কী ভাবে প্রকাশ্যে এল স্পট ফিক্সিং-এর বিষয়টি? গোয়েন্দা সূত্রে বলা হচ্ছে, মার্চ মাসের মাঝামাঝি দুবাই এর একটি ফোন কল ট্যাপ করে বিষয়টি নিয়ে জানতে পারে পুলিশ। তখন থেকেই নজরদারি শুরু হয়। তবে ওই ফোন কলটি দুবাই থেকে করা হয়েছিল, নাকি দুবাই এর নম্বর নিয়ে অন্য কোনও দেশ থেকে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। দিল্লি পুলিশকে ক্রিকেট জুয়া নিয়ে সতর্ক করে বার্তা দিয়েছিল আইবি-ও। তাই এপ্রিলের গোড়া থেকেই সতর্ক ছিলেন দিল্লি পুলিশের গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, দিল্লি পুলিশ গত কাল রাতে শ্রীসন্ত-সহ রাজস্থান রয়্যালসের তিন ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি দিল্লি ও মুম্বই থেকে কয়েক জন বুকিকেও গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে একজন ক্রিকেটার অজিত চান্ডিলা যে হোটেলে ছিলেন, সেই হোটেল থেকেই গ্রেফতার করা হয় দুই বুকি, অমিত কুমার ও মানানকে। মুম্বইয়ের কলবাদেবী থেকে তিন ক্রিকেট জুয়াড়িকে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশ। মোট ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে সাত জন সরাসরি ডি-কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত এবং মুম্বইয়ে বসেই দুনিয়া জুড়ে ক্রিকেট জুয়ার ব্যবসা চালায়, দাবি গোয়েন্দাদের। মুম্বই পুলিশের মতে, দুবাই ও করাচির ক্রিকেট জুয়াড়িদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেই এরা কাজকারবার চালাত।
দিল্লি পুলিশ মুম্বই থেকে যে জুয়াড়িদের গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে অন্তত দু’জনের সঙ্গে ডি-কোম্পানির সরাসরি যোগাযোগ থাকতে পারে বলে গোয়েন্দাদের সন্দেহ। এই দু’জনের ফোনে আড়ি পেতে তাদের দুবাই-যোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন গোয়েন্দারা। মুম্বইয়ের এই জুয়াড়িদের সঙ্গে শ্রীসন্তদের স্পট-ফিক্সিং চক্রের কোনও
যোগাযোগ রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উপমহাদেশে সন্ত্রাসের মানচিত্রে দাউদ ইব্রাহিমের গুরুত্ব সম্প্রতি কিছুটা কমলেও মাদক চোরাচালান, জাল নোট, অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি ক্রিকেট জুয়ার রাজ্যপাটও যে এখনও দাউদেরই নিয়ন্ত্রণে, তা ভালই জানেন গোয়েন্দারা। করাচিতে আইএসআইয়ের নিরাপদ আশ্রয়ে বসে থাকা দাউদ জুয়ার ব্যবসা চালায় মূলত দুবাই থেকে। বারেবারেই সে বিষয়ে নিশ্চিত হলেও কোনও উপযুক্ত প্রমাণ হাতে আসেনি গোয়েন্দাদের। কিন্তু কেন? গোয়েন্দা সূত্রে বলা হচ্ছে, গত প্রায় দেড় দশক ধরে আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশের পুলিশের নজরে থাকা দাউদ এবং তার স্যাঙাৎরা এখন অনেক বেশি সতর্ক হয়ে কাজ করে। ফলে প্রমাণ জোগাড় করা এক রকম অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এ বারেও তা-ই হয়েছে।
গোয়েন্দারা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে সবথেকে বড় ক্রিকেট জুয়া ব্যবসাটি দাউদের বকলমে চালায় তার ছোট ভাই আনিস ইব্রাহিম। ডি-কোম্পানির আর এক মাথা ছোটা শাকিল মুম্বই ছাড়ার আগে যে জুয়া-সাম্রাজ্য তৈরি করেছিল, ক্রিকেট জুয়ার ব্যবসা এখনও তাদেরই হাতে। গোয়েন্দাদের দাবি, গত বছর পর্যন্ত এই দলটির মাথায় ছিল মহম্মদ আনসারি। আনসারি কিছু দিন আগে গ্রেফতার হয়েছে। এখন ওই দলটি কে চালাচ্ছে, তা মুম্বই পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়।
আজ স্পট-ফিক্সিং নিয়ে দিল্লি পুলিশের সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক সেরেই নর্থ ব্লকে এসে দিল্লির পুলিশ কমিশনার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিশেষ সচিব (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা) এস জয়রামনের সঙ্গে বৈঠক করেন। গোটা ঘটনার পিছনে পাকিস্তান ও দুবাইয়ের যোগাযোগ থাকার বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের গোয়েন্দারা খতিয়ে দেখছেন। কোন পথে টাকার লেনদেন হত, তারও সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে দিল্লি পুলিশ। এ বিষয়ে রাজস্ব গোয়েন্দা, আয়কর দফতর এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। গোয়েন্দাদের বক্তব্য, ক্রিকেটারদের এক ওভারের জন্য ৪০ থেকে ৬০ লক্ষ টাকা দেওয়া হলেও আসলে জুয়াড়িদের ব্যবসা চলে কোটি টাকার অঙ্কে। হাওয়ালার মাধ্যমে সেই টাকার লেনদেন হয়। ক্রিকেট ম্যাচের দিনে যার পরিমাণ অন্তত ৫০০ কোটি টাকা। এ দেশে ক্রিকেট জুয়ার পুরো টাকাটাই হাত ঘুরে শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ে গিয়ে পৌঁছয়। সেখান থেকে তা চলে যায় দুবাই। জুয়ার অঙ্ক ঠিক হয় অত্যাধুনিক সফ্টওওয়্যারের মাধ্যমে। মুম্বই থেকে যে তিন জুয়াড়িকে গ্রেফতার হয়েছে, তাদের থেকে ৯২টি মোবাইল ফোন ও ১৮টি সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। গত কাল আইপিএ ম্যাচ চলার সময় ধৃতেরা পাকিস্তানে অন্তত ৩০ বার ফোন করেছিল বলে দাবি গোয়েন্দাদের।
এত তথ্য-প্রমাণ তবু ডি-কোম্পানিকে সরাসরি বিঁধতে পারছে না পুলিশ। কারণ? প্রমাণের অভাব! আর সে কারণেই দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেলের ইনস্পেক্টর বদ্রীশ দত্তর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে চাইছেন গোয়েন্দারা। পাঁচ দিন আগে গুড়গাঁওয়ের ফ্ল্যাটে বদ্রীশ ও তাঁর বান্ধবীর মৃতদেহ মিলেছে। শ্রীসন্তও জুয়াড়িদের ফোনে আড়ি পাতার কাজ করছিলেন বদ্রীশ। তাঁর বান্ধবী বেসরকারি গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করতেন। আজ নীরজ কুমার প্রকাশ্যে বদ্রীশের বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাঁর দাবি, বদ্রীশ প্রথম দিকে তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পরে তিনি আর যুক্ত ছিলেন না। নীরজ যা-ই বলুন, বদ্রীশের মৃত্যুর সঙ্গে ক্রিকেট জুয়া চক্রের যোগ আছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেই গোয়েন্দা সূত্রের খবর।




First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.