সন্ধ্যা সবে সাড়ে ৬টা। পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের বাংলোর অদূরের রাস্তায় শিলিগুড়ি হাসপাতালের এক মহিলা অফিসারকে উত্যক্ত করছিল এক যুবক। প্রথমে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দারা বুঝতে পারেননি। আচমকা যুবকটি রাস্তাতেই মহিলা অফিসারকে টেনে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। তাঁর আর্তনাদ শুনে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা ছুটে গিয়ে যুবককে ধরে ফেলেন। শুরু হয় গণপ্রহার। শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় অভিযুক্ত যুবককে। সোমবার শিলিগুড়ি থানার কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম লাগোয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
ঘটনার পরে শহরে পুলিশের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসডিএ, অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনারের অফিস ও বাংলো লাগোয়া এলাকায় পুলিশি নজরদারির হাল কতটা ঢিলেঢালা সেটাও যেন বাসিন্দাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠল। শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার আনন্দ কুমার বলেন, “ঘটনাটি উদ্বেগজনক। ওই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এলাকায় বাড়তি নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জেনেছে, যুবকটি শহরের পশ্চিম প্রান্তের বাসিন্দা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিণী শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের পদস্থ অফিসার। তিনি হাসপাতালের অদূরে স্টেডিয়াম লাগোয়া হাকিমপাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। রোজই কাজ সেরে সন্ধ্যায় ওই রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফেরেন। ফেরার পথেই পনে পুলিশ-প্রশাসনের কর্তাদের অফিস-বাংলো। পাশেই শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের অফিস। সেখানে জিটিএস ক্লাবের মোড়ে পাহাড়ের শীতবস্ত্র বিক্রেতাদের বড় বাজারও রয়েছে। একেবারে লাগোয়া এলাকায় বাড়ি শিলিগুড়ির মেয়র গঙ্গোত্রী দত্তের। রয়েছে তিনটি নার্সিংহোম। সব সময় সেখান লোকজন থাকেন। সেই জায়গায় মহিলা নিগ্রহের দৃশ্য দেখার পরে পুলিশকে দূষছেন প্রায় সকলেই। শিলিগুড়ির পুরসভার মেয়র বলেছেন, “পুলিশকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
ঘটনার পরে আতঙ্কিত অভিযোগকারিণী। তিনি বলেন, “রোজই ওই রাস্তায় দিয়ে যাতায়াত করি। সব সময়ই লোকজন থাকেন। এদিন ওই ছেলেটি আচমকা উত্যক্ত করতে শুরু করে। আচমকা চড়াও হলে আর্তনাদ করি। আশেপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খুবই ভয়ে রয়েছি।” হাসপাতালের কর্মীরাও ওই ঘটনায় শঙ্কিত। প্রাক্তন পুরমন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্য বলেন, “শিলিগুড়ি তো এমন ছিল না। ভরসন্ধ্যায় মহিলাদের উপরে হামলার ঘটনা কিছুদিন আগে ভাবাই যেত না। শহরের দুষ্কৃতীরা এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠছে কেন? আগামী দিনে কী শহরের মহিলারা রাস্তায় বার হতে পারবেন না?” |