সাম্বা ফুটবলের ঝলকে সাংগঠনিক সমস্যাও উধাও
কেই বলে সাম্বা ফুটবলের মহিমা! সংগঠনে চূড়ান্ত অব্যবস্থা। তা সত্ত্বেও যুবভারতী মাতল দুঙ্গা-বেবেতোদের ঝলকে।
দীপেন্দু-লিয়েন্ডারদের আইএফএ অলস্টার-কে ৩-১ হারিয়ে এডমিলসন-জিনহোদের ব্রাজিল মাস্টার্স একাদশ মনে ১৯৫৮-র প্রথম বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল অধিনায়ক বেলিনিকে। যিনি বলতেন, “পায়ে বল থাকলে আর সমস্যা বলে কিছু থাকে নাকি?” শনিবারের বারবেলায় সেই থিমেরই চিত্রনাট্য দেখল শহরের ফুটবল-জনতা।
ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা ছিল দু’টোয়। কিন্তু চুক্তিমতো ডলার ‘ট্রান্সফার’ হয়নি। তাই মাঠে আসতে চাইছিলেন না প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলীয় ফুটবলাররা। ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র-র হস্তক্ষেপে দুঙ্গারা যখন মাঠে এলেন তখন ঘড়িতে তিনটে। হিগুয়েতা এলেন দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পর। ম্যাচের পর আয়োজক সংস্থার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে ব্রাজিল মাস্টার্স দলটির এজেন্ট সিজার বললেন, “আর্থিক প্রতিশ্রুতি সবটা পূরণ না হওয়াতেই এই বিপত্তি।” যা শুনে ক্রীড়ামন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, “বেবেতোরা যাতে হাসিমুখে বাড়ি যায় তার ব্যবস্থা করছি।”
ব্রাজিলের সোনার ছেলেদের বিরুদ্ধে প্রসূন-গৌতমদের ম্যাচে এগুলো সেই চাঁদের বুকে কলঙ্কের মতো। তা হলে উপভোগের রোম্যান্টিক জ্যোৎস্না? যুবভারতীর সবুজ গালিচায় সাম্বার টাচের বিরুদ্ধে দীপেন্দু-দেবজিৎদের লড়াই। টিভিতে রাত জেগে মেসি-জাভিদের ‘তিকিতাকা’ দেখা ফুটবল জনতা ৭০ মিনিট ধরে শহরের স্টেডিয়ামে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করল পাস-ড্রিবল-গতির রাজ।
যুবভারতীতে দুঙ্গা ও লিয়েন্ডারের ছবি তুলেছেন উৎপল সরকার
বেটো-দুঙ্গার গোলে যদি থাকে ফুটবলমস্তিষ্কের প্রয়োগ, তা হলে বক্সের বাইরে থেকে চোখের পলকে বেবেতোর রামধনুর মতো বাঁক খাওয়ানো ইনস্টেপ ইনসুঙ্গারে করা গোলে হাজির পেলের দেশের ‘জোগো বোনিতো’। শেষ লগ্নে ঘরের ছেলেদের গোল রক্ষা করতে নামা হিগুয়েতাও তাঁর বিখ্যাত ‘স্করপিয়ন কিক’ দেখিয়ে পয়সা উশুল করে দিলেন ফুটবল কার্নিভালের।
মাঠে লিয়েন্ডারকে পর্তুগিজ বলতে দেখে খেলার মাঝেই দুঙ্গার প্রশ্ন, “তুমি ছিয়ানব্বইয়ের আটলান্টা অলিম্পিকে আমাদের দেশের ফের্নান্দো মেলিজেনিকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পেয়েছিলে না?” বেকবাগান রো-র টেনিসতারকা সম্মতি জানাতেই ব্রাজিলের ‘মিডফিল্ড জেনারেল’-এর রসিকতা, “তুমি টেনিস ছেড়ে ফুটবলে চলে এলে নাকি?” আর জুনিনহোর চোখে ঘরের ছেলেদের মধ্যে সেরা দীপেন্দু বিশ্বাস।
মাঠে হাজির হাজার তিরিশেক দর্শকের হৃদয়ের প্রাপ্তি ঘাড়ের কাছে এডমিলসন আর আলদেয়ারকে বোকা বানিয়ে যে বঙ্গসন্তানের দুর্দান্ত গোল। ম্যাচ শেষে পুরস্কার হিসেবে নিজের দশ নম্বর জার্সিটা তাই দীপেন্দুকে দিয়ে গেলেন জুনিনহো। খেলার পর ব্যারেটো-দীপেন্দুরা যখন বলছেন, “জীবনের অন্যতম প্রাপ্তি।” তখন লিয়েন্ডার বললেন, “সাতাত্তর সালে আমি চার বছরের। বাবার পাশে বসে ইডেনে পেলের ম্যাচে গলা ফাটিয়েছিলাম। আর আজ আমার মেয়ে আইয়ানা যুবভারতীতে বসে বেবেতোদের বিরুদ্ধে আমাকে ফুটবল খেলতে দেখল। একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।”




First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.