বসুন্ধরা সম্মেলনের দু’দশক
দূষণ কমানোর দায়িত্ব কার, তর্কে উত্তপ্ত ব্রাজিল
র ঠিক দু’বছর পরে এ দেশেই বসবে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর। বিশ্ব ফুটবলের বৃহত্তম অনুষ্ঠানের আয়োজন ঘিরে চূড়ান্ত ব্যস্ততা গোটা ব্রাজিল জুড়ে। ফাইনালের জন্য এখন থেকেই নতুন করে সাজতে শুরু করেছে রাজধানী রিও-য় বিশ্বের একদা বৃহত্তম মারকানা ফুটবল স্টেডিয়াম।
বিশ্বকাপ ফাইনাল তো দু’বছর পরের কথা। তার আগে আজ, ভারতীয় সময় প্রায় মধ্য রাত থেকে ব্রাজিলের রাজধানীতে যে ‘রিও+২০’ সম্মেলন শুরু হল, তাই বা বিশ্বকাপের তুলনায় কম কীসে! বিশ্ব উষ্ণায়নের মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে পরিবেশ রক্ষা ও সবুজ অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার জন্য বিশ্বের ১৯০টি দেশের প্রতিনিধিরা রিও-য় উপস্থিত হয়েছেন। রয়েছেন ১৩০টি দেশের রাষ্ট্রনেতারাও। বিশ্ব উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় বিশ্বের সমস্ত দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের পরিচালনায় ১৯৯২ সালে এই শহরেই বসেছিল ‘বসুন্ধরা সম্মেলন’। তারই বিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ বারের ‘রিও+২০’। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতোই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে সেখানে। আর সেই লড়াইয়ের আঁচ পড়ছে সম্মেলন কেন্দ্রের বাইরেও। সেখানে দূষণ ঘিরে রাজনীতির লড়াইয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন ‘সবুজ বিপ্লবী’রা। শিল্পায়ন আর উন্নয়নের ধাক্কায় সবুজ ধ্বংস আর দূষণের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। আর তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি পদের প্রাক্তন প্রার্থী মারিনা সিলভা বলে চলেছেন, “রিও হয়ে উঠুক সবুজ রক্ষার তাহরির স্কোয়ার।”
কনভেনশন সেন্টারের ভিতরেও উত্তাপটা কম নয়। সেখানে তর্ক উন্নত আর উন্নয়নশীল দেশগুলির মধ্যে। বস্তুত গোটা সম্মেলনটাই এই উন্নত আর উন্নয়নশীলের লড়াইয়ে আটকে রয়েছে। আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ উন্নত দেশগুলির দাবি, পরিবেশ বাঁচাতে দূষণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে এগোতে হবে। কিন্তু চিন ও ভারতের নেতৃত্বাধীন উন্নয়নশীল দেশগুলি এই দাবিকে উন্নত দেশগুলির বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে। সেই সঙ্গে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছে, শিল্প ও পরিকাঠামো উন্নয়ন করে দেশের দারিদ্র দূর করার বড় দায়িত্ব রয়েছে তাদের ঘাড়ে। সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে কিছুটা দূষণ হবেই। তবে উন্নয়নশীল দেশগুলির তরফে অন্তত এই আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তারা স্বেচ্ছায় দূষণ কমানোর ব্যাপারে আগ্রহী। যেমন ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ আগেই ঘোষণা করে দিয়েছেন, ২০১৫ সালের মধ্যে দেশে দূষণের মাত্রা কুড়ি থেকে পঁচিশ শতাংশ কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে। কিন্তু কোনও দেশই দূষণের মাত্রা কমানোর জন্য কোনও বাধ্যবাধকতা, চুক্তি বা লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আবদ্ধ হতে রাজি নয়। কেন না তা শিল্পায়ন ও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে করছে তারা। বরং উন্নয়নশীল দেশগুলির দাবি, পরিবেশ রক্ষায় উন্নত দেশগুলি তাদের অনুদান দিক। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সরবরাহ করুক।
১৯৯২-এর ‘বসুন্ধরা সম্মেলন’-এর পরে দু’দশক কেটে গেলেও দেখা যাচ্ছে, সেই সম্মেনলে গৃহীত চুক্তিগুলোর বিশেষ কোনও অগ্রগতিই হয়নি! আবহাওয়া পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হলেও দূষণ কমানোর ব্যাপারে কাজের কাজ প্রায় কিছুই হয়নি। বরং উন্নত দেশগুলির অন্যতম আমেরিকা গত দু’দশকে দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে ১১%! ওই একই সময়ের মধ্যে ভারত-চিনের নেতৃত্বাধীন উন্নয়নশীল দেশগুলি দূষণের মাত্রা বাড়িয়েছে ২৯% থেকে ৫৪% পর্যন্ত! স্বাভাবিক ভাবেই ‘রিও+২০’ সম্মেলনে পরিবেশ রক্ষার দায়বদ্ধতা নিয়ে বিতর্ক ফের সামনে এসেছে।
‘রিও+২০’ সম্মেলনে শুক্রবার ভারতীয় সময় প্রায় ভোর রাতে বক্তৃতা দেবেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ। তার আগে নয়াদিল্লির তরফে আজ গোলটেবিল বৈঠকে বসেছিলেন পরিবেশমন্ত্রী জয়ন্তী নটরাজন। পরে জয়ন্তী বলেন, “বৈঠকের চূড়ান্ত খসড়ায় নয়াদিল্লির অবস্থান গুরুত্ব পেতে চলেছে। ভারত গোড়া থেকেই বলছে, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব সকলেরই রয়েছে। কিন্তু তার মাত্রা উন্নত দেশগুলির জন্য এক রকম হবে, উন্নয়নশীল দেশগুলির জন্য হবে অন্য। কারণ উন্নয়নশীল দেশগুলি দারিদ্র দূরীকরণে উন্নত দেশগুলির স্তরে এখনও পৌঁছতে পারেনি।” বস্তুত দূষণ কমাতে উন্নত দেশগুলি লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে চাওয়ায় অন্যদের মনে সন্দেহ জাগছে। তাদের ধারণা, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে শিল্পের পথে বাধা তৈরি করে উন্নত দেশগুলি নিজেদের শিল্পকে বাঁচাতে চাইছে। সেই সঙ্গে উন্নয়নশীল দেশে ‘সুবজ প্রযুক্তি’ বিক্রির ব্যবসা করতে চাইছে। আর তাই গোলটেবিল বৈঠকে জয়ন্তী বলেন, “উন্নয়নশীল দেশগুলি সংখ্যায় অনেক বেশি। তাদের মতকেই প্রাধান্য দিতে হবে।” উন্নত দেশগুলির রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন জয়ন্তী। তাঁর বক্তব্য, উন্নয়নশীল দেশগুলিতে পরিবেশ রক্ষার জন্য যে অনুদান উন্নত দেশগুলির দেওয়া উচিত, তার কিছুই দিচ্ছে না তারা। এ ব্যাপারে তাদের ওপর চাপ রাখতে আজ নয়াদিল্লি দু’টি সুপারিশ করেছে। তবে শেষ পর্যন্ত উন্নত দেশগুলি তা মানবে কি না, বা মানলেও তার বিনিময়ে উন্নয়নশীল দেশগুলির ওপর কী শর্ত চাপাবে, তা আগামী ৩৬ ঘণ্টাতেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.