মহারাষ্ট্রের মন্ত্রালয়ে আগুন, মৃত দুই
আদর্শ কেলেঙ্কারির নথি নিয়ে আশঙ্কা
ড়সড় আগুন লাগল মহারাষ্ট্রের সচিবালয়ে (মন্ত্রালয়)। দক্ষিণ মুম্বইয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক সদরের সাততলা ভবনটির পাঁচতলায় এ দিন দুপুরে প্রথম আগুন দেখা যায়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে উপরের দু’টি তলায়। দমকলের অন্তত কুড়িটি ইঞ্জিন প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন আয়ত্তে আনে। অগ্নিকাণ্ডে এখনও পর্যন্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সাত তলা থেকে মৃতদেহ দু’টি উদ্ধার করে দমকলবাহিনী। সরকারি সূত্রের খবর, ১৬ জন আহত হয়েছেন। বাড়ির ভিতরে যাতে কেউ আটকে না-পড়েন, তা নিশ্চিত করতে নৌসেনার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনীকেও নামানো হয়।
বাঁচার আর্তি
অগ্নিকাণ্ডের সময়ে মুখ্যমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ চহ্বাণ মন্ত্রালয়ে ছিলেন না। তবে সাততলায় অবস্থিত তাঁর অফিসটি সম্পূর্ণ পুড়ে গিয়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার অক্ষত অবস্থায় মন্ত্রালয় থেকে বেরোতে পেরেছেন। মহারাষ্ট্র সরকারের একাংশের আশঙ্কা, আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এই আগুনে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। যদিও ঘটনার তদন্তকারী সিবিআইয়ের আশ্বাস, প্রয়োজনীয় সব নথি তাদের হেফাজতে রয়েছে।
এ দিন দুপুর পৌনে তিনটে নাগাদ মন্ত্রালয়ে প্রথম ধোঁয়া নজরে আসে আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী ববনরাও পাচপুটের ঘরে। পাচপুটে পরে জানান, গোড়ায় ওখানে উপস্থিত কর্মীরা অগ্নিনির্বাপন যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। তখন দমকলে খবর দেওয়া হয়। এবং মিনিট কুড়ির মধ্যে দমকল এসে কাজ শুরু করে দিয়েছিল বলে পাচপুটের দাবি।

কিন্তু তাতেও কাজ হয়নি। পাঁচতলা থেকে আগুন অত্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে উপরের দু’টো তলায়। লেলিহান শিখা গ্রাস করে নেয় বাড়ির পিছনের অংশও। ছয় আর সাততলায় তখন প্রায় ৬৫ জন আটকে। ওই দু’টি তলায় বিভিন্ন জানলার কাচ ভেঙে অনেককেই বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে দেখা যায়। তাঁদের উদ্ধারে নামে নৌবাহিনী। মুম্বইয়ের অদূরে নৌ-ঘাঁটি আইএনএস শিকারা থেকে হেলিকপ্টার আনা হয়। ছাদে উঠে আসা লোকজনকে উদ্ধার করতে মন্ত্রালয়ের চারপাশের আকাশে সেটি বেশ ক’বার চক্করও দেয়। কিন্তু সে সময়ে ছাদে কেউ ছিল না।
তখন পুরোদমে জ্বলছে আগুন। মহারাষ্ট্র মন্ত্রালয়ে।
পাঁচতলার আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বিকেলের দিকে। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রের মুখ্যসচিব জে কে বান্থিয়া ঘোষণা করেন, বিভিন্ন তলায় আটকে থাকা সকলকে উদ্ধার করা গিয়েছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে মন্ত্রালয়ের ছয়-সাততলার আগুন নিয়ে। ওই দু’টি তলার জানলা দিয়ে তখনও বেরিয়ে আসছে আগুনের শিখা। উদ্ধারকারীদের দাবি, আরবসাগরের হাওয়ার জন্য আগুন নেভাতে সমস্যা হয়েছে। সন্ধ্যার দিকে ভাবা পরমাণু গবেষণাকেন্দ্র (বার্ক) থেকে আনা হয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প। তার সাহায্যে জল ছিটিয়ে ছ’-সাত তলা ও ভবনের সামনের দিকের আগুন অনেকটা নিভিয়ে ফেলা হয়।
চলছে উদ্ধারকাজ।
এবং তার পরে মন্ত্রালয়ের সর্বোচ্চ তলে ও বাড়ির পিছনের দিকের আগুন নেভাতে ভিতরে পাঠানো হয় নৌসেনার বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অগ্নিনির্বাপন বাহিনীকে। বিশেষ ধরনের অগ্নিনির্বাপক রাসায়নিক ব্যবহার করে তাঁরা সন্ধে সাড়ে ছ’টা নাগাদ আগুনকে মোটামুটি আয়ত্তে আনেন।
পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী চহ্বাণ জানান, মন্ত্রালয়ের ক্ষয়ক্ষতি যাচাই করতে আগামিকাল সেখানে যাবেন সরকারের পদস্থ আধিকারিক এবং সচিবেরা। মন্ত্রালয়ে আগামিকালের সব বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের পুলিশ কমিশনার অরূপ পট্টনায়ক জানান, মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঘটনার তদন্ত করবে।
এ দিকে দুপুরে মন্ত্রালয়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই আশঙ্কা দানা বাঁধছিল আদর্শ আবাসন কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত নথিপত্র নিয়ে। যেখানে প্রথম আগুন লাগে, সেই পাঁচতলাতেই রয়েছে রাজ্যের নগরোন্নয়ন দফতর। আদর্শ কেলেঙ্কারির জেরে যারা ইতিমধ্যে তোপের মুখে। ফলে জল্পনা শুরু হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট করতে ইচ্ছাকৃত ভাবে এই আগুন লাগানো হয়েছে কি না। মহারাষ্ট্র সরকার অবশ্য বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছে। চহ্বাণকে এ নিয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, “এ নিয়ে এখনই কিছু বলা ঠিক নয়। ক্রাইম ব্রাঞ্চ তদন্তে নামলেই সব জানা যাবে।”
মন্ত্রী ববনরাওয়ের কথায়, “এখন এ সব ভাবার সময় নয়।” এনসিপি নেতা জিতেন্দ্র অবধ বলেন, “এটা মহারাষ্ট্রের মানুষের ক্ষতি। যে ভবনের প্রতিটা তলা তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করে, সেটা এ ভাবে পুড়ছে! কয়েকটা ফাইল নষ্ট করতে কেউ এমন একটা কাজ করতে পারে না।”

ছবি: পি টি আই


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.