হাতের নাগালে আনন্দ, সিউড়িতেও গ্রন্থবিপণি
ছন্দের বইয়ের জন্য হা পিত্যেশ করার দিন বোধহয় শেষ হল সিউড়িবাসীর। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিউড়ির দুবরাজপুর রোড, রবীন্দ্রপল্লিতে আনন্দের গ্রন্থবিপণির শুভ সূচনা হল। হাতের নাগালে ‘আনন্দ’কে পেয়ে স্বস্তির হাসি ছড়াল পুস্তকপ্রেমীদের মুখে।
বৃষ্টি ভেজা বিকেলে মিনিট পনেরোর সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। উদ্বোধন করেন সাহিত্যিক তথা বিশ্বভারতীর পাঠভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঠাকুর। তিনি বলেন, “বই হল সংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ। বিশেষ করে তা যদি আনন্দ পাবলিশার্সের হয়, তার থেকে আনন্দের আর কী আছে?” তাঁর মতে, অনেক আগেই এই সদর শহরে আনন্দের গ্রন্থবিপণির প্রয়োজন ছিল।
বস্তুত সুপ্রিয়বাবুর সঙ্গে এ ব্যাপারে সহমত পোষণ করলেন জেলার সাহিত্যিক থেকে বইপ্রেমীরা। উদ্বোধনের অনুষ্ঠান শেষ হতেই পাঠকের সেই বইয়ের তৃষ্ণাই দেখল সিউড়ি। বই পিপাসুরা হুড়মুড় করে ঢুকে পড়েন গ্রন্থবিপণিতে। দু’হাতে তাঁরা পছন্দের বই নেড়েচেড়ে দেখেন।
গ্রন্থবিপণির উদ্বোধন করছেন পাঠভবনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুপ্রিয় ঠাকুর।
সিউড়ির একটি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র ছন্দরূপ মুখোপাধ্যায় বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনল ফেলুদা সিরিজ। তার বাবা আশিসকুমার মুখোপাধ্যায়ও খুশি। তিনি ছড়াকার ও শিশু সাহিত্যিক। বললেন, “কলকাতায় বইয়ের দোকানে এ ভাবে নেড়েচেড়ে বই দেখতে দেওয়া হয় না। কিন্তু এখানে সে সুযোগ আমরা পাচ্ছি।” আনন্দ থেকে সদ্য একটি প্রবন্ধের বই প্রকাশিত হয়েছে ময়ূরেশ্বর হাইস্কুলের শিক্ষক আদিত্য মুখোপাধ্যায়ের। তিনিও হাজির ছিলেন। কাচের শো-কেসের ভিতরে তাঁর বইটি দেখে তিনি উৎফুল্ল। তাঁর মন্তব্য, “এত দিন শুধু শান্তিনিকেতনেই আনন্দের গ্রন্থবিপণি ছিল। অন্যত্র বইয়ের দোকানে অর্ডার দিয়ে আনন্দের বই আনাতে হত। তা পেতেও বেশ সময় লাগত। এ বার সেই চাহিদা পূরণ হল। দরকার হলে এখান থেকে বই নেওয়া যাবে।” আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত সুপ্রিয় ঠাকুরের ‘ছেলেবেলার শান্তিনিকেতন’ বইটি কয়েকজন পুস্তকপ্রেমিক কিনলেন। নাগালের মধ্যে লেখককে পেয়ে, তাঁরা ‘অটোগ্রাফ’-ও নিলেন। খুশি দু’পক্ষই। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তিলোত্তমা মজুমদার। সব দেখে তাঁর প্রতিক্রিয়া, “লেখক-লেখিকারা সব সময় পাঠকের কাছে পৌঁছতে চান। এই গ্রন্থবিপণী এখানে শুরু হওয়ায়, আমরা খুব খুশি।” কয়েক বছর আগেই বীরভূমের শান্তিনিকেতনে আনন্দের একটি গ্রন্থবিপণির উদ্বোধন হয়েছিল। রাজ্যে আনন্দের গ্রন্থবিপণির তালিকায় সিউড়ি হল ১৯তম সংযোজন। আরও দু’টি রয়েছে অসমে।
বই হাতে খুদেরা।
আনন্দ পাবলিশার্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুবীর মিত্র বলেন, “এই গ্রন্থবিপণিতে প্রায় ৬০০ লেখক-লেখিকার প্রায় ৩০০০ রকমের বই রয়েছে। পাঠকেরা বছরভর ২০ শতাংশ কমিশনে বই কিনতে পারবেন। তাঁরা কমিশনের সমমূল্যের বই নিতে পারবেন।”
হেতমপুর রাজ কলেজের শিক্ষক কবিতাপ্রেমী তপন গোস্বামী কিনলেন প্রশান্ত পালের লেখা রবি জীবনীর দু’টি খণ্ড। তিনি বলেন, “বহু দিন ধরে বইটি খুঁজছিলাম। হাতের কাছে পেয়েই কিনে ফেললাম। আগে কলকাতায় বই কিনতে যেতে হত। এখন সিউড়িতে বসেই পছন্দের আনন্দের বই কিনতে পারব। এ তো আনন্দের কথা!”

ছবি: তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়।



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.