বালি
ছিঁচকে দাপট
রা কেউই পেশাদার নয়। অধিকাংশই নেশার পয়সা জোগাড় করার জন্য বা স্রেফ কিছু রোজগার করতে রাতে দলবল নিয়ে বেরিয়ে পড়ে। এই সব ছিঁচকে চোরের উপদ্রবেই আপাতত জেরবার বালি। কোথাও গৃহকর্তার দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতির সুযোগে দরজার তালা ভেঙে লোপাট হচ্ছে সর্বস্ব। কোথাও মন্দিরের তালা ভেঙে উধাও হচ্ছে গয়না, টাকা ও বিগ্রহ। কোথাও আবার অসতর্ক মুহূর্তে উধাও হচ্ছে সাইকেল। বালি থানার এলাকা জুড়ে ছিঁচকে চোরের একের পর এক ‘অপারেশন’-এ রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে পুলিশও।
তবে এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি নয় পুলিশও। কয়েকটি ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসেছে বালি থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা দফতরের কর্মীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রতি দিন রাতে মোটরসাইকেলে করে অলিগলিতে টহল দেওয়া হচ্ছে। কোন এলাকায় পূর্বে কারা চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল তারও পুরনো রেকর্ড দেখা হচ্ছে। নতুন ছিঁচকে চোরেদের সম্পর্কেও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছে গোয়েন্দা বিভাগের কর্মীরা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকটি চুরির ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার পরে দেখা গিয়েছে অধিকাংশ চোরই স্থানীয় যুবক। এদের বয়স ১৫ থেকে ২৫-এর মধ্যে। ঠিকানা বালি ও বেলুড়ের বিভিন্ন বস্তি এলাকা। দিনের বেলায় এরা কেউ রিকশা চালায়, কেউ আবার কাগজ কুড়োয় বা খালাসির কাজ করে। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, স্থানীয়দের পাশাপাশি রিষড়া ও কোন্নগর থেকে প্রতি দিনই কিছু যুবক বালি ও বেলুড় এলাকায় আসছে মাটি কাটার কাজ করতে। কয়েকটি চুরির পরে তদন্তে দেখা গিয়েছে, স্থানীয় যুবকেরা তাদের তিন-চার জনের দলে তালা ভাঙা ও মালপত্র সাফ করার জন্য ওই বাইরের যুবকদের কাজে লাগাচ্ছে।
কী ভাবে হচ্ছে এই সব চুরি? পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয়েরা আগে থেকে মন্দির কিংবা ফাঁকা বাড়ির সন্ধান নিয়ে রাখে। রাতে সেখানে গিয়ে তারা স্রেফ পাহারাদারের কাজ করে। বাকি কাজ করে বাইরের যুবকেরা। বিনিময়ে পায় সামান্য কিছু টাকা কিংবা চুরির মালের কিছুটা অংশ। এক পুলিশ অফিসারের কথায়: “অনেক সময়ে রিষড়া ছাইগাদা এলাকায় তল্লাশি করে চোরাই মালপত্রও উদ্ধার হয়।” কয়েক মাস আগেই বালি রাসবাড়ি ও বাদামতলায় দু’টি ফাঁকা বাড়ির দরজার তালা ভেঙে মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি গিয়েছে। আবার তার কিছু দিন পরেই ভোরে বালি দক্ষিণ ঘোষপাড়ায় একটি রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের তালা ভেঙে বিগ্রহের সোনার গয়না ও নগদ কয়েক হাজার টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে চোরেরা।
পুলিশ জানায়, বালি-বেলুড় এলাকায় স্থানীয় নেশাখোর ও হতদরিদ্র যুবকেরা ছোট ছোট দল তৈরি করে এই কাজ করছে। পেশাদার নয় বলে তাদের সন্ধানও সহজে মেলে না। অনেকেই একটি চুরির পরে বেশ কয়েক মাস চুপচাপ থাকে। কয়েক মাস আগেই এক যুবককে সাইকেল চুরির অভিযোগে ধরা হয়। জানা যায়, নেশার পয়সা জোগাড় করতেই চুরি করত সে।
তবে পুলিশের কথায়, বিগ্রহের গয়না ও টাকা চুরি ছিঁচকে চোরেদের কাজ হলেও মন্দিরের বিগ্রহ চুরিতে আন্তঃরাজ্য চোর চক্রের হাত রয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ‘মিডল ম্যান’ হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন অষ্টধাতু ও দুর্লভ পাথরের মূর্তি চুরি করছে বাইরের পেশাদার চোরেরা। নেপাল হয়ে সেগুলি চলে যাচ্ছে ভিন্ দেশে।
আবার তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ফাঁকা বাড়িতে চুরির ক্ষেত্রে পরিচারিকা কিংবা কোনও পরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকেই বাড়ির সমস্ত খবর জেনে নিচ্ছে চোরের দল। স্থানীয় হওয়ার সুবাদে সেই বাড়িতে কখন কী ভাবে ‘অপারেশন’ চালানো যাবে, তারও পরিকল্পনা করে নিচ্ছে এই ছিঁচকে চোরেরা।
পুলিশ জানায়, আগে চোরাই মাল বিক্রি হত ডানকুনি, রিষড়া এলাকায়। কিন্তু নেশাখোর কিংবা ছিঁচকে চোরেরা সেখানে যাচ্ছে না। ফলে মাল উদ্ধারে সমস্যা হচ্ছে। অনেক বহুমূল্য জিনিস খুব সামান্য দামে বালি এলাকাতেই অন্য লোকের হাতে চলে যাচ্ছে। কখনও আবার চোরাই মাল গঙ্গা টপকে চলে যাচ্ছে মানিকতলায়।
হাওড়া সিটি পুলিশের ডিসি (সদর) নিশাদ পারভেজ বলেন, “এগুলি পেশাদার চোরেদের কাজ নয়। তবে এই ধরনের চুরি ঠেকাতে আরও তৎপর হচ্ছে পুলিশ। এলাকায় টহলদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে বসে পুলিশ আলোচনা করছে। ফলে সেই এলাকায় কী ধরনের সমস্যা হচ্ছে তা জানা যাচ্ছে। এতে কাজেরও সুবিধা হচ্ছে।”

অলঙ্করণ: দেবাশীষ দেব

প্রচারাভিযান
সম্প্রতি হাওড়া কদমতলা বাজার বাসস্ট্যান্ডে সৃজনী-র (ডুমুরজলা) উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ‘প্লাস্টিক বর্জন এবং পরিবেশ সুরক্ষা’ সম্পর্কিত এক প্রচারাভিযান। সদস্যরা ছাড়া সাধারণ মানুষও এতে যোগদান করেন। ছিল আলোচনা, গান, মূকাভিনয় ও পথনাটিকা ‘সৃজনীবার্তা’।




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.