টানাপোড়েনের রাজনীতি
পঞ্চায়েতে ‘আমলাতন্ত্র’, আপত্তি এখন কংগ্রেসেরও
সিপিএমের সুরেই পঞ্চায়েতে ‘আমলাতন্ত্রে’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদের পথে কংগ্রেস।
রাজ্যে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের কাজ থেকে শুরু করে জেলা স্তরে কেন্দ্রীয় বা রাজ্য প্রকল্পের কাজে নজরদারি ও ‘রাজনীতিমুক্ত’ করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (বিডিও) এবং মহকুমা শাসকদের (এসডিও) হাতে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ‘ডেভেলপমেন্ট মনিটারিং কমিটি’ (ডিএমসি) গঠন করেছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তৃণমূলের জোট-শরিক কংগ্রেস নেতৃত্বের অভিযোগ, এই ধরনের কমিটি করা মানে গণতন্ত্রের জায়গা আমলাতন্ত্রকে দিয়ে ‘দখল’ করা। তৃণমূলের সঙ্গে জোটে থাকলেও সরকারের এই কাজকে তাঁরা কোনও ভাবেই সমর্থন করেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “এই ধরনের কমিটি গঠন মানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উপেক্ষা করা। ফলে, আখেরে পশ্চিমবঙ্গে গ্রামীণ উন্নয়নের কাজের ক্ষতি হবে।”
দলের আসন্ন পঞ্চায়েত সম্মেলনের প্রস্তুতি হিসাবে আজ, শনিবার মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে সমাবেশ করছে কংগ্রেস। ওই সমাবেশে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতা প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই ‘পঞ্চায়েতে আমলাতন্ত্রের হস্তক্ষেপে’র প্রতিবাদ করতে চান প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব। আগামী ২০ নভেম্বর কলকাতায় নেতাজি ইন্ডোরে পঞ্চায়েত রাজ সম্মেলনে আন্দোলনের রূপরেখা স্থির করা হবে।
বস্তুত, রাজ্যে পঞ্চায়েত আইন হয়েছিল কংগ্রেসের জমানাতেই। কিন্তু বামেদের অভিযোগ ছিল, সেই আইনের সদ্ব্যবহার কংগ্রেস করতে পারেনি এবং চায়ওনি। বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এসে সেই আইনের বলেই ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চালু করে। পঞ্চায়েতের প্রতি কংগ্রেসের ‘উদাসীনতা’র বিরুদ্ধে সিপিএম বরাবর সরব থেকেছে। পরবর্তী কালে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রাজীব গাঁধী পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েতের ‘মডেল’ মেনে নেওয়ায় তাদের কাজেরই ‘স্বীকৃতি’ দিতে কংগ্রেস বাধ্য হয়েছিল বলে সিপিএমের দাবি। এখন ঘটনাপ্রবাহ এমন দিকে মোড় নিয়েছে যে, মমতার সরকারের শরিক হয়েও সেই পঞ্চায়েতেই ‘গণতন্ত্র খর্ব’ করার অভিযোগ তুলছে কংগ্রেস ও তাদের সুর মিলে যাচ্ছে অধুনা রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিএমের সঙ্গে!
জোট-শিবিরের একাংশের ব্যাখ্যায়, ইউপিএ-র দুই শরিক কংগ্রেস এবং তৃণমূলের সম্পর্কে সম্প্রতি যে ‘টানাপোড়েন’ তৈরি হয়েছে, পঞ্চায়েত নিয়ে এ রাজ্যে কংগ্রেসের অবস্থানও সেই সমীকরণের বাইরে নয়। ওই অংশের মতে, পেট্রোলের দামবৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা যে ভাবে ‘হুঁশিয়ারি’ দিয়ে রেখেছেন, পঞ্চায়েতে আমলাদের নিয়ে কমিটি গড়ার বিরোধিতাকে উপলক্ষ করে প্রদেশ কংগ্রেসও মমতার উপরে পাল্টা ‘চাপ’ তৈরি করতে চাইছে।
বিশেষত, আগামী পঞ্চায়েত ভোটের আগে রাজ্য রাজনীতিতে দলের ‘প্রাসঙ্গিকতা’ বজায় রাখতে কংগ্রেস পঞ্চায়েতে ‘আমলাতন্ত্রের অনুপ্রবেশ’কে আন্দোলনের হাতিয়ার করতে চাইছে।
বহরমপুর রওনা হওয়ার আগে শুক্রবার প্রদীপবাবু বলেছেন, “সরকারের ওই সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচিত ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের ক্ষমতা খর্ব হবে। সংবিধানে পঞ্চায়েতকে যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা খর্ব হবে। এটা করা মানে নির্বাচিত বিধায়কদের মাথার উপরে মনোনীত কাউকে বসিয়ে দেওয়া। বামফ্রন্ট সরকারও এক সময় গ্রামোন্নয়ন কমিটি গড়ার চেষ্টা করেছিল পঞ্চায়েতের ক্ষমতা খর্ব করার জন্য। আমরা বিরোধীরা একযোগে তার প্রতিবাদ করেছিলাম। এখন সেই জিনিসই অন্য ভাবে হতে যাচ্ছে।”
প্রদেশ সভাপতির মতে, ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে ‘দুর্নীতি ও রাজনীতি’ ঠেকাতে ‘আমলাতন্ত্র’কে ব্যবহার করা ঠিক নয়। পরিবর্তে গ্রাম সংসদকে দিয়ে পঞ্চায়েতের কাছে ‘হিসাব চাওয়া’ যেতে পারে বলে তাঁর অভিমত। মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেস সভাপতি ও বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরীরও বক্তব্য, “পঞ্চায়েত রাজ মানে আমলাতন্ত্রের বিকল্প। ডিএমসি করা মানে সেই রথের চাকা সামনে দিকে না-এগিয়ে পিছন দিকে ঘোরানো!” একই ভাবে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নানও বলেন, “সংবিধানের ৭৩ তম সংশোধনী এনে পঞ্চায়েতকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, তা আমলাতন্ত্র দিয়ে খর্ব করতে দেওয়া যায় না!”



First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.