দড়ি টানাটানির কেন্দ্রে এখনও সেই পাসোয়ান
ংগ্রেস তাঁকে পাশে পেতে মরিয়া। লেগে রয়েছেন লালু প্রসাদও। কিন্তু তিনি, রামবিলাস পাসোয়ান কাকে চান, সেটাই প্রশ্ন। বিহারের জোট-নাটকে লোকজনশক্তি পার্টি প্রধানই এখন কেন্দ্রীয় চরিত্র।
দিল্লির বিজেপি নেতারা বলেই দিচ্ছেন “রামবিলাস পাসোয়ান পাস হো গ্যায়া।” অর্থাৎ তিনি আসছেন এনডিএ-তেই। বিহার একাংশ নেতার পাসোয়ানে আপত্তি। তাঁদের বোঝাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। বোঝাচ্ছেন, পাসোয়ানের মতো ধর্মনিরপেক্ষ মুখকে সঙ্গে পাওয়া গেলে জোরালো ধাক্কা দেওয়া যাবে নরেন্দ্র মোদী-বিরোধী শক্তি তথা কংগ্রেসকে। ঠিক সেই কারণেই রামবিলাসকে নরমে-গরমে সঙ্গে রাখতে চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস। এর কারণ যত না বিহারের রাজনীতি, তার চেয়েও বেশি জাতীয় রাজনীতি। লোকসভায় পাসোয়ানের আসন নেই ঠিকই, কিন্তু তাঁকে পাশে পাওয়া গেলে মোদী-প্রশ্নে ধর্মনিরপেক্ষ জোট শক্ত করা যাবে। রামবিলাসের ছেলে চিরাগ যদিও বলতে শুরু করেছেন যে, আদালতের ক্লিনচিট পাওয়ার পর মোদী কোনও ইস্যুই নয়। এর পর রামবিলাস সত্যিই বিজেপির হাত ধরলে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ আরও দু-একটি দল যে সেই পথে হাঁটবে না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ফলে বিড়ম্বনায় পড়বে কংগ্রেস। বিজেপি সেটাই চায়।
কংগ্রেসের মতোই লালু প্রসাদ নিজের দলে ভাঙনের মুখে দাঁড়িয়েও পাসোয়ানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কাল লালুর ফোন ধরেননি পাসোয়ান। তবু লালু বলেছেন, “পাসোয়ানকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। দেশে এখন ধর্মনিরপেক্ষতাই সঙ্কটের মুখে। আমি আবার চেষ্টা করব তাঁর কাছে পৌঁছতে।”
দিল্লির কংগ্রেস নেতাদের আশা, আসন সমঝোতার জন্য পাসোয়ান দর কষাকষি করছেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ধর্মনিরপেক্ষ জোটেই থাকবেন। উল্টো দিকে বিজেপি শিবিরের দাবি, পাসোয়ানের সঙ্গে তাদেরই আসন সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত। কংগ্রেস অন্য আঞ্চলিক নেতাদের মতো পাসোয়ানকে সিবিআইয়ের জুজু দেখিয়ে চাপ দিতে চাইছে। বিহারের বিজেপি নেতা সুশীল মোদী ইতিমধ্যেই পাসোয়ানের প্রতি কংগ্রেসের ‘ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ তুলেছেন। বিহার বিজেপির সভাপতি মঙ্গল পাণ্ডে বলেন, হাজিপুর, জামুই, মোতিহারি, খাদারিয়া, সুফল, মুঙ্গের, সমস্তিপুর এবং বৈশালী বা আরার মধ্যে একটি আসন নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত। পরশু মোদী দিল্লি আসার আগেই পাকা কথা হয়ে যেতে পারে। তার পর রাজনাথ সিংহের সঙ্গে পাসোয়ান আনুষ্ঠানিক বৈঠক করবেন বলে বিজেপি শিবিরের দাবি। শেষে যা-ই হোক, এই সিদ্ধান্তে অখুশি বিহার বিজেপির একটা অংশ। তাঁদের যুক্তি, এক সময়ে মোদীর বিরোধিতা করেই পাসোয়ান বিজেপির সঙ্গ ছেড়েছিলেন। কিন্তু এখন ভোটের হাওয়া মোদীর দিকে বুঝে সুবিধাবাদের রাজনীতি করছেন। সি পি ঠাকুরের মতো নেতারা মনে করেন, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব শুধুমাত্র জাতীয় রাজনীতির কথা ভেবে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। তা ছাড়া তাঁদের মতে, পাসোয়ান বিজেপিতে এলে বাড়তি সুবিধা হবে নীতীশ কুমারের। সংখ্যালঘু ভোট ভাগাভাগি হলে বিজেপিরই লাভ হত। কিন্তু এখন ক্ষতি হবে। এই নেতাদের বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বোঝাচ্ছেন, পাসোয়ানের ভোট রয়েছে প্রায় সব কেন্দ্রেই। তাঁর দলিত ভোট ও সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া উপেন্দ্র কুশওয়াহার ওবিসি ভোট মিলিয়ে বিজেপিরই শক্তি বাড়বে। এই অবস্থায় পাসোয়ান আগামী দু-একদিনের মধ্যে কী অবস্থান নেন, তার অপেক্ষায় প্রধান দুই শিবির। কেউ কেউ বলছেন, এত বিতর্ক সত্ত্বেও পাসোয়ান নিজে কিন্তু এখনও মুখ খোলেননি। এক বারও জোর দিয়ে বলেননি যে তিনি বিজেপির সঙ্গে যাবেন না। এই অবস্থায় তাঁর লালুর ফোন না ধরা, চিরাগের মোদী-প্রশ্বস্তির মতো ঘটনা ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করছেন তাঁরা। এলজেপি-সূত্র বলছে, তাদের ভূমিহার নেতারাই বিজেপির হাত ধরার জন্য পাসোয়ানকে চাপ দিচ্ছেন। তাঁদের লালু-নীতীশ দু’য়েই আপত্তি। মজার কথা, কংগ্রেসের কিছু উচ্চবর্ণের নেতাও মনে করেন, লালু-পাসোয়ান কাউকেই দরকার নেই। লালুকে নিয়ে অন্য টানাপোড়েনও রয়েছে। মধুবনী থেকে আরজেডির প্রভাবশালী নেতা আব্দুল বারি সিদ্দিকি দাঁড়াতে চাইছেন। সেখানে কংগ্রেসের শাকিল আহমেদও প্রার্থী হতে চান। এই পরিস্থিতিতে বিহারের কংগ্রেস নেতাদের অনেকেই কিছুটা ক্ষুণ্ণ। তাঁদের আশঙ্কা, শেষ মুহূর্তের এই অনিশ্চয়তা দলকে আরও বিপাকে ফেলবে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের এই ঝঞ্ঝাট আগেই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল।


First Page| Calcutta| State| Uttarbanga| Dakshinbanga| Bardhaman| Purulia | Murshidabad| Medinipur
National | Foreign| Business | Sports | Health| Environment | Editorial| Today
Crossword| Comics | Feedback | Archives | About Us | Advertisement Rates | Font Problem

অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.