আজমল কসাবের পর এ বার আফজল গুরু। আজ সকাল ৭.৩০ নাগাদ ফাঁসি দেওয়া হল ২০০১-এর সংসদ হামলার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আফজল গুরুকে। পুরো ঘটনাটি এত গোপনীয়তার সঙ্গে করা হয় যে ফাঁসির কথা জানতে পারেননি জেলের ডেপুটি সুপারও। দিল্লির তিহাড় জেলের ৩ নম্বর সেলে তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়। সেই সময় উপস্থিত ছিলেন জেলের সুপার, এক জন চিকিত্সক ও এক ম্যাজিস্ট্রেট। সকাল ৮টা নাগাদ ডাক্তার তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। আফজলের দেহ নেওয়ার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও দাবি জানানো হয়নি বলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে খবর। তাই তাঁকে তিহাড় জেলেই কবর দেওয়া হবে বলে সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে। অন্য দিকে, আফজলের ফাঁসির বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছে বিজেপি। এই ঘটনায় দিল্লি-সহ গোটা দেশে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে কার্ফু জারি করা হয়েছে সমগ্র জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে। কাল থেকে ৩ দিনের কাশ্মীর বনধের ডাক দিয়েছে হুরিয়ত কনফারেন্স। |
জম্মু-কাশ্মীরের বারামুলা জেলার বাসিন্দা আফজল এমবিবিএস-এর প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আইএএস-এর জন্যও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এই সময় জম্মু-কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টের সান্নিধ্যে এসে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে গিয়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণও নিতে শুরু করেন তিনি। কিন্তু ফের মত বদল, কাশ্মীরে ফিরে এসে বিএসএফ-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন। জঙ্গি সংস্রব ত্যাগ করে ব্যবসা শুরু করেন আফজল। কিন্তু সেই সময় অনন্তনাগের এক কট্টর জঙ্গির সান্নিধ্যে এসে ফের যুক্ত হন জঙ্গি আন্দোলনে। নাম লেখান ফিদায়েঁ বাহিনীতে। এর পর তাঁরই নেতৃত্বে ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর ৫ সশস্ত্র জঙ্গি হানা দেয় সংসদে। মৃত্যু হয় এক সাংবাদিক, সিআরপিএফ-এর এক মহিলা কনস্টেবল-সহ ৭ নিরাপত্তারক্ষীর। মারা যান সংসদের ৩ কর্মীও। গুলির লড়াইয়ে মৃত্যু হয় ৫ জঙ্গিরই। হামলার কয়েক ঘণ্টা পরেই ধরা পড়েন আফজল গুরু। দিল্লি হাইকোর্টের পর ২০০৪ সালে তাঁর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে সুপ্রিম কোর্টও। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপতি তাঁর প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেন।
|
অমীমাংসিত ফিরতি ডার্বি
০-০ |
শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতই থেকে গেল বড় ম্যাচ। যুবভারতীতে আজ মরসুমের দ্বিতীয় ডার্বিতে মুখোমুখি হয়েছিল ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবগান। দু’মাস আগের সেই কলঙ্কিত বড় ম্যাচের স্মৃতি ভুলতে চেয়েছে দু’পক্ষই। কোনওরকম অশান্তি ঠেকাতে মাঠে মোতায়েন করা হয়েছিল ২৮০০ পুলিশকর্মী। এ ছাড়াও ম্যাচের আয়োজক মোহনবাগানের পক্ষ থেকে রাখা হয়েছিল ৩০০ বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীও। ম্যাচে জিততে মরিয়া ছিল দু’পক্ষই। তবে কোনও পক্ষই কোনও গেল করতে পারেনি। প্রসঙ্গত এখনও পর্যন্ত হওয়া ৩০৩টি ডার্বির মধ্যে ইস্টবেঙ্গল ১১৩টি, মোহনবাগান ৮৫টি ম্যাচ জিতেছে। ড্র হয়েছে ১০৫টি বড় ম্যাচ। তবে ইস্টবেঙ্গল সমর্থকদের জন্য সুখবর, আজ পর্যন্ত হওয়া শনিবারের ডার্বিতে কখনও হারেনি ইস্টবেঙ্গল। দুই দলের প্রথম একাদশ:
ইস্টবেঙ্গল: অভিজিত্ মন্ডল, অর্ণব মন্ডল, উগা ওপারা, হরমনজ্যোত খাবরা, এডে চিডি, সৌমিক দে, পেন ওর্জি, লালরিনডিকা, ইসফাক আহমেদ(সঞ্জু প্রধান), বলজিত সিংহ সাইনি(কেভিন লোবো), মেহতাব হোসেন
মোহনবাগান: শিল্টন পাল, নির্মল ছেত্রী, ইচে, রহিম নবি(সুশান্ত ম্যাথু), আইবর, ডেনসন দেবদাস, জুয়েল রাজা(স্নেহাশিস চক্রবর্তী), ওডাফা ওকোলি, টোলগে ওজবে(কুইন্টন জেকবস), মনীশ মৈথানি, মণীশ ভার্গব |