বড় দলে খেলার আশা নিয়ে ফিরলেন সন্তোষ জয়ীরা
ন্তোষ ট্রফি নিয়ে গুয়াহাটি থেকে ফিরে এলেন কোচ সাব্বির আলি-সহ পুরো বাংলা দল। মঙ্গলবার বিকাল থেকেই সেই ট্রফি মালা দিয়ে সাজিয়ে রাখা আছে আইএফএ অফিসে।
তার আগে দুপুরে দমদম বিমান বন্দরে ঢাকের শব্দের মধ্যে জয়ী দলকে স্বাগত জানালেন ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র। ফুলের তোড়া দিলেন কোচ সাব্বির আলিকে। ছিলেন অনেক উৎসাহী মানুষ। মালা দিয়ে তাঁরা স্বাগত জানালেন ৩১ বারের ভারতসেরা দলকে। ক্রীড়ামন্ত্রী রাতে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময় হলে ৮ জুন নেতাজী ইন্ডোর স্টেডিয়ামে জয়ী দলকে সংবর্ধনা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।” তার আগেই দুপুরে ফুটবলাররা ফিরলেন তাঁদের বাড়িতে।
কোচ সাব্বির আলির সঙ্গে ট্রফি নিয়ে ফাইনালের দুই গোলদাতা বুধিরাম ও ব্রাঙ্কো।
মাঝে গোলকিপার নাসিম। কলকাতা বিমানবন্দরে। -শঙ্কর নাগ দাস

তাঁদের মধ্যে ছিলেন সেই ফুটবলার, যিনি গত বছর সন্তোষ ট্রফিতে সেমিফাইনালিস্ট। তার আগের বছরে চ্যাম্পিয়ন। সেটা অবশ্য গোয়ার হয়ে। এ রকম অভিজ্ঞতা নিয়ে বাংলার সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলে এসেছেন এক জনই। পাঁচ গোল করে এ বারের টুর্নামেন্ট সেরা ব্র্যাঙ্কো কার্দোজো। বলছিলেন, “দু’বার দুটো রাজ্যের হয়ে চ্যাম্পিয়ন হলাম। একেবারে অন্য রকম অভিজ্ঞতা।” উচ্ছ্বসিত ব্র্যাঙ্কো আরও বললেন, “নাসিমদা, মোহনদা-র মতো এক-জন দু’জন ছাড়া সবাই জুনিয়র। আমরা ট্রফি জিতব কেউ ভাবেনি। সেখান থেকে চ্যাম্পিয়ন হলে ভাল তো লাগবেই।”
তাঁর মতোই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা এই দলে রয়েছে অনুপম সরকার এবং সফর সরদারের। গত বারের বিজয়ী বাংলা দলেও ছিলেন তাঁরা। অনুপম বললেন, “আগের বারের থেকে এ বারে আরও ভাল লাগছে। এ বার তো আমি অধিনায়ক। এখনও পর্যন্ত আমার ফুটবলার জীবনের সেরা পাওনা এই সন্তোষ ট্রফি।” যখন কথাগুলো বলছিলেন তখন তিনি রানাঘাটের কাছে গাংনাপুরের পথে। যেখানে অপেক্ষা করে রয়েছেন তাঁর মা-দাদা-বোন-স্ত্রী এবং ছোট্ট ছেলে। কোচ সাব্বির আলির প্রশংসাও করলেন অনুপম। “সাব্বিরদার মতো ভাল কোচ খুব কমই দেখেছি। বয়সে অত বড় হয়েও জুনিয়রদের সঙ্গে একেবারে মিশে যান।” চিরাগ ইউনাইটেডের সঙ্গে বাংলা অধিনায়কের ক্লাব-চুক্তি শেষ হয়ে যাচ্ছে। বললেন, “দেখা যাক সন্তোষ জয়ের পর বড় দলের অফার পাই কি না।”
সন্তোষ জয়ের আনন্দে ভাসছেন বুধিরাম টুডুও। বড় ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁরও। তবে সেটা ক্লাব স্তরে। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে ফেডারেশন কাপ। শ্যামনগরের কাছে জগদ্দল থেকে তাঁর উঠে আসা। অনূর্ধ্ব ১৫ থেকেই খেলছেন ইস্টবেঙ্গলে। বলছিলেন, “ফেডারেশন কাপ জিতলেও সন্তোষ ট্রফি জেতার আনন্দই আলাদা। মা, বাবা, দাদা সবাই খুব খুশি হয়েছে।”
সাব্বির স্যারের ফুটবলারদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার কথা বলছিলেন আর এক জনও। কল্যাণীর সন্তোষ ওরাও।ঁ মোহনবাগানে প্রথম দলে সুযোগই পেতেন না। কিন্তু পুরো সন্তোষ ট্রফিতেই তিনি মিডফিল্ডে দারুণ খেললেন। বললেন, “প্রথম সন্তোষ ট্রফি জয়। অন্য রকম লাগছে।” তার সঙ্গে তাঁর আশা, সামনের মরসুমে যে দলেই খেলুন অন্তত নিয়মিত সুযোগ পাবেন।
সন্তোষ জয়ী ফুটবলাররা অনেকেই ভাবছেন ময়দানের বড় দলগুলোর দরজা এ বার খুলতে পারে তাঁদের জন্য। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের তারকাহীন দলের ফুটবলাররাই এখন ছোট-ছোট তারা।

Previous Story Khela Next Story




অনুমতি ছাড়া এই ওয়েবসাইটের কোনও অংশ লেখা বা ছবি নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা বেআইনি
No part or content of this website may be copied or reproduced without permission.